স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ১৮ দলের আন্দোলন অকার্যকর করতে পেরেছে বলে মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
দলটির নীতি নির্ধারণী একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশলের মাধ্যমে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকার ইস্যুতে বিরোধী জোটের আন্দোলন পুরোপুরি ভেস্তে দেয়া গেছে বলে ধারণা করছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।
সূত্র জানায়, নির্বাচনে ১৮ দলের অংশগ্রহণ না করাকে এখন আর বড় কোনো চ্যালেঞ্জ মনে করে না আওয়ামী লীগ। দলটির ধারণা বিএনপির একাংশ ও জামায়তই নির্বাচন বর্জন করতে পারে।
কিন্তু ১৮ দলের বেশির ভাগ শরিক দল ও বিএনপির একাংশ সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বিএনপির নেতারা নবগঠিত বিএনএফের অধীনে নির্বাচন করবে।
সূত্র জানায়, বিরোধী জোটের অংশগ্রণ না করার ঝুঁকিতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তার আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তাও ভালো মতোই সামাল দেয়া গেছে।
আগামী ২৫ নভেম্বর আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে টিকফা চুক্তি করতে সম্মতি জানিয়ে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার পাওয়া ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছ।
এ অবস্থায় বিরোধী জোট সর্বদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসুক বা না আসুক ১০ম সংসদ নির্বাচনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক আর কোনো বাধা নেই।
সূত্র জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে আওয়ামী লীগ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ক্ষমতা ধরে রাখার একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে।
এ রূপরেখা অনুযায়ী আগামী বছরের ১ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে সংসদ নির্বাচন হবে। ২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার হওয়ায় এদিনে ভোট গ্রহণের কথা বেশি বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করা নিয়ে বিতর্কের অবসান ঘটাতে আগামী ২১ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দলটির একটি দায়িত্বশীল সূত্র। তবে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে এ ব্যাপারে এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য ২১ নভেম্বর রাতে সৌদি আরব যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সৌদি থেকে তিনি ফেরার পর আগামী ২৫ থেকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে যে কোনো দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
