Skip to content

স্বরুপে ফিরেছে ফ্রান্স

স্পার্টস ডেস্ক ॥ এভাবেও ফিরে আসা যায়! চারদিন আগে কিয়েভে যাদের এপিটাফ প্রায় লেখা হয়ে গিয়েছিল সেই ফ্রান্সের সৌজন্যেই রূপকথার এক প্রত্যাবর্তন দেখল ফুটবল। ইউক্রেন নয়, ফ্রান্সের সামনে বড় বাধা ছিল ইতিহাস। পরশু প্যারিসে সেই ঐতিহাসিক বাধা পেরিয়েই নতুন ইতিহাস গড়েছে লা ব্ল–জরা। প্লে-অফের ফিরতি লেগে দশজনের ইউক্রেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ২০১৪ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। জিদানের উত্তরসূরিরা খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর অনন্য নজির গড়লেও মঙ্গলবার রাতটা ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। সম্পূর্ণ একক নৈপুণ্যে পর্তুগালকে বিশ্বকাপে নিয়ে গেলেন সিআর সেভেন। অধিনায়কের দুরন্ত হ্যাটট্রিকে সুইডেনকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলযাত্রা নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। ঘরের মাঠ সোলনায় জ্বলে উঠেছিলেন সুইডেন অধিনায়ক ইব্রাহিমোভিচও। কিন্তু জোড়া গোল করেও রোনাল্ডোর আলোয় ম্লান হয়ে বিশ্বকাপে দর্শক হয়ে গেলেন ইব্রা। প্লে-অফ পরীক্ষায় উতরে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে ক্রোয়েশিয়া ও গ্রিসও।

কিয়েভে প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারার পর রিবেরিদের বিদায় দেখে ফেলেছিল ফরাসি মিডিয়াও। বিশ্বকাপের টিকিট পেতে ফিরতি ম্যাচে ন্যূনতম তিন গোলের ব্যবধানে জিততে হতো ফ্রান্সকে। কিন্তু ইউরোপের প্লে-অফ ইতিহাসে দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে এর আগে বিশ্বকাপে যেতে পারেনি কোনো দলই। ফলে লা ব্ল–জদের সম্ভাব্য বিদায় নিয়ে সমালোচনার ঢেউ উঠেছিল ফ্রান্সে। কিন্তু ইতিহাস গড়ে সেই ফ্রান্সেই উৎসবের ঢেউ তুলে দিলেন রিবেরি, বেনজেমারা। জীবন বাজি রেখে মাঠে নামার প্রত্যয়টা যে ফাঁকা বুলি ছিল না, দেখিয়ে দিল সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সবাই হাল ছেড়ে দিলেও কোচ দিদিয়ের দেশচ্যাম্পস আত্মবিশ্বাসী ছিলেন, অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবে তার দল। শিষ্যরা তাকে হতাশ করেননি। উৎসবের রাতেই দেশচ্যাম্পসের সঙ্গে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়নের ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন।

বাঁচা-মরার ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ফ্রান্স। প্রথম দশ মিনিটে গোলের দুটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেন পোগবা ও বেনজেমা। অবশেষে ২২ মিনিটে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন যামাদু সাকো। এরপর বেনজেমার একটি ন্যায্য গোল রেফারির ভুল সিদ্ধান্তে বাতিল হলেও ৩৪ মিনিটে রিয়াল তারকাই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এবার অফসাইডে থেকেও বেঁচে যান বেনজেমা। ৪৭ মিনিটে বড় ধাক্কাটা খায় ইউক্রেন। রিবেরিকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন কাচেরিদি। দশজনের দল নিয়েও ভালোই লড়ছিল ইউক্রেন। কিন্তু সর্বনাশ ঘটে ৭২ মিনিটে। মিডফিল্ডার গুসেভের আত্মঘাতী গোলে বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় ইউক্রেনের। দু’লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলের অগ্রগামিতায় শেষ হাসি হাসে ফ্রান্স।

লিসবনে প্রথম লেগে রোনাল্ডোর দেয়া একমাত্র গোলে জিতেছিল পর্তুগাল। দ্বিতীয় লেগেও রোনাল্ডো একাই পার্থক্য গড়ে দিলেন। সোলনার ফ্রেন্ডস অ্যারেনায় প্রথমার্ধে রোনাল্ডোর গোল মিসের মহড়া দেখে পর্তুগিজ সমর্থকদের মুখ শুকিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে সব সংশয় মুছে দিলেন রিয়াল সুপারস্টার। ৫০ মিনিটে রোনাল্ডোর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা হয়তো এখানেই শেষ। কারণ দু’লেগ মিলিয়ে পর্তুগাল তখন ২-০ গোলে এগিয়ে। বিশ্বকাপে যেতে হলে শেষ ৩০ মিনিটে তিন গোল করতে হতো সুইডেনকে। কিন্তু ম্যাচটাকে শেষ হতে দিলেন না ইব্রাহিমোভিচ। ৬৮ মিনিটে হেডে সমতা ফেরানোর চার মিনিট পর দুর্দান্ত ফ্রিকিকে উল্টো এগিয়ে দিলেন স্বাগতিকদের। আর একটা গোল হলেই বিশ্বকাপে সুইডেন! না ইব্রা নয়, এবার জ্বলে উঠলেন রোনাল্ডো। দু’মিনিটের (৭৭ ও ৭৯) ব্যবধানে দু’গোল করে সুইডেনের মৃত্যুফলক লিখে দিলেন পর্তুগাল অধিনায়ক। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকে পর্তুগালের পক্ষে পাওলেতার সর্বোচ্চ ৪৭ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেললেন রোনাল্ডো। ব্যালন ডি’অর জয়ও হয়তো নিশ্চিত করে ফেললেন।

জাগরেবে আইসল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা নিশ্চিত করেছে ক্রোয়েশিয়া। বুখারেস্টে গ্রিসের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও বিদায় নিয়েছে রুমানিয়া। দু’লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে জিতেছে গ্রিস। এএফপি/ওয়েবসাইট।

প্লে-অফের ফল
ফ্রান্স ৩: ০ ইউক্রেন
(দু’লেগ মিলিয়ে ৩-২ গোলে জয়ী ফ্রান্স)
পর্তুগাল ৩: ২ সুইডেন
(দু’লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে জয়ী পর্তুগাল)
ক্রোয়েশিয়া ২: ০ আইসল্যান্ড
(দু’লেগ মিলিয়ে ২-০ গোলে জয়ী ক্রোয়েশিয়া)
গ্রিস ১: ১ রুমানিয়া
(দু’লেগ মিলিয়ে ৪-২ গোলে জয়ী গ্রিস)

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫