স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়েছ। রাজনীতির হাওয়া রাজধানীতে বেশি প্রবল তাই প্রথম ধাক্কাটা এখানেই বুঝা যায়। আগের রাজনৈতিক কর্মসূচির মতো এবারো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও ১৮ দলের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে ঢাকা যেন আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হয়।
সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত কমপক্ষে সাতটি ককটেল বিস্ফোরণ ও চারটি গাড়িতে আগুন দেয় হয়েছে। ককটেল আর পেট্রোলবোমায় তো এখন আতঙ্কে রাস্তায় বেরুনোই নিরাপদ নয়। যেকোনো সময় ককটেলের স্প্লিন্টার ঝাঁঝরা করে দিতে পারে শরীর আর নিমেষে ঝলসে দিতে পারে পেট্রোলবোমা। কেড়ে নিতে পারে অমূল্য প্রাণ। জীবন হাতে নিয়ে তাইতো সূর্য ডোবার সাথে সাথে বাসে করেই আবাসস্থলে ছুটছেন আসাদউল্লার মতো অনেক বাস যাত্রী। এত আতঙ্কের মধ্যেও বাসে যাত্রী পূরণের ‘সখ’ মিটছে না বলেও অভিযোগ করেন এই বাসযাত্রী।
‘সামনে হরতাল আইতে পারে। হরতালে গাড়ি চালাইতে মালিকেরা নিষেধ করে, তাই আজ আয় না করলে বাকি কয়দিন খামু কি?’ মোক্ষম যুক্তি বাসের চালক আর হেলপারের।
যত কষ্টেই হোক, গাড়িতে নয়তো হেঁটে হেঁটেই বাসায় পৌঁছাতে হবে- বলছিলেন মালিবাগস্থ পথচারী হোসেন আলী।
আমি মহিলা মানুষ, লোকজনের তাড়াহুড়ার মধ্যে গাড়িতে উঠতে পারছি না। আবার বাংলামোটর পর্যন্ত কোনো রিকশাও যেতে রাজি হচ্ছে না- বললেন রহিমা আফরিন। মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন কর্মস্থল থেকে বাসাগামী এই নারী।
রাজধানীজুড়ে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করায় ফুটপাতের অনেক ব্যবসায়ীই পোটলা গুটিয়ে ছুটছেন। এসময় কথা হয় ফুটপাথের কলা ব্যবসায়ী রহিমের সঙ্গে। রহিম বলেন, ‘সরকার নাকি বিএনপিরে খেপাইচে, হেল্লাইগা পুলিশ মোগোরে তাড়ায় দিচ্ছে। আইজ তেমুন বেচতে পারি নাই।’
রিকশা চালক রুহুল বলেন, ‘দেশে কিছু হইলে সবাই রিকশা ভাঙ্গে, পোড়ায়। আমাগো কথা কেউ ভাবে না। সকালে রিকশা ভাড়া করি রাইত ১২টা পর্যন্ত। অথচ তা এহনই জমা দিতে হইবো।’
রাজধানীর সব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা রাখে পুলিশ বাহিনী। পুলিশ হলেও সবার টার্গেট আমাদের ওপর বেশি। তাই সব সময়ই জীবন-মরণ সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করেই আমাদের পথে থাকতে হয়- বলছিলেন রাজধানীর শান্তিনগরে টহলরত পুলিশ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শেষে রাজধানী যেন আতঙ্কের নগরীতে রূপ নিয়েছে। অবশ্য বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতে রাজধানীর এ হাল নতুন নয়। কিন্তু ‘এই আতঙ্কের শেষ কোথায়?’ এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় রাজধানীতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ।
