স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজনৈতিক সহিংসতাই বাবা-মায়ের কাছ থেকে কেড়ে নিল গাজীপুরের অগ্নিদগ্ধ কিশোর মনিরকে। টানা তিনদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হার মানল সে। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছে মনির।
বিরোধী দলের ৬০ ঘণ্টার হরতালের প্রথমদিনে সোমবার চৌরাস্তায় একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ঐ কাভার্ড ভ্যানে শুয়ে ছিল মনির। এতে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয় এই কিশোর। পরে তাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চিকিত্সকরা জানান, তার দেহের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গেছে।
মনিরদের বাড়ি কালিয়াকৈর থানার বড়কাঞ্চনপুর গ্রামে। সেখানেই মা আর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে থাকত মনির। বাবা কভার্ড ভ্যানচালক রমজান আলী পেশাগত কারণে থাকতেন গাজীপুর শহরে। তার কাছেই বেড়াতে এসেছিল ছেলে।
জয়দেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান জানান, মর্মান্তিক এ ঘটনায় এসআই হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে বিএনপি ও জামায়াতের ৮৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এ পর্যন্ত জেলা শিবিরের সাধারণ সম্পাদকসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, হরতাল কালে সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আসামিরা চৌরাস্তা এলাকার জাতীয় আইনকলেজের সামনে দাড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যান ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে কাভার্ডভ্যানে ঘুমিয়ে থাকা শিশু মনিরের শরীর ঝলসে যায়। মামলায় বাসন ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি শওকত বাবুকে প্রধান করে সদর থানা বিএনপির সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদ, জামায়াতের জেলা আমীর আবুল হাসেম ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ এসএম সানাইল্লাহ এবং সদর থানা আমীর হোসেন আলী ও পৌর আমীর খায়রুল হাসান, কাউলতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তানভীর আহমেদসহ ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
