বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ দক্ষিণ আফ্রিকায় সমকামী মেয়েদের এখন সংশোধনের নামে ধর্ষণ করা হচ্ছে।
সাফাই দেওয়া হচ্ছে, সমকামীদের সাধারণ মানুষের মতো জীবনে ফেরাতে তাঁদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। ধর্ষকেরা এর নাম দিয়েছে ‘কারেক্টিভ রেপ’।
সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা সামনে এসেছে। জোহানিসবার্গের ম্বুলেনি ফানাকে লেজবিয়ান হওয়ার অপরাধে গণধর্ষণের শিকার হতে হয়। একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে ফুটবল খেলে ফেরার সময় চার যুবক তাঁকে ঘিরে ধরে। প্রতিবাদ করার আগেই তাঁকে পাশের ফুটবল গ্রাউন্ডে তুলে নিয়ে গিয়ে চার জনই ধর্ষণ করে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ফানাকে মারধরও করা হয়। তার পর তাঁকে সেখানেই ফেলে রেখে যায় ধর্ষকেরা।
ফানা জানান, যাওয়ার সময় ওই চার যুবক বলছিল, ‘আমরা তোমার সঙ্গে যা করলাম, তা একেবারে ঠিক। এবার তুমি বুঝতে পারবে যে আসল মেয়ে হওয়া কাকে বলে এবং তাকে কীভাবে থাকতে হয়। আজকের পর থেকে তুমি আগের মতো থাকবে না। এবার থেকে তুমি একটি মেয়ের মতো আচরণ করবে।’
এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় এর আগেও একাধিকবার সমকামী মেয়েদের ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষিতারা প্রাণ হারিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ধরনের ধর্ষণকে ‘কারেক্টিভ রেপ’ নাম দেওয়া হয়েছে।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমকামীরা যাতে তাঁদের লিঙ্গ জানতে পারেন, তাই তাঁদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। ধর্ষকদের সাফাই, সমকামীরা যাতে সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতে পারে, তাই তাঁদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। ধর্ষকদের ধারণা, কারেক্টিভ রেপের পর, হোমোসেক্সুয়ালরা হেটরোসেক্সুয়াল হয়ে যাবে এবং বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গে সম্বন্ধ গড়ে তুলবে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই দেশে এক বছরে ৫ লক্ষ ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়। অর্থাত্ প্রতি ১৭ সেকেন্ডে একটি রেপ। এ কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে পৃথিবীর রেপ ক্যাপিটাল বলা হয়।
কারেক্টিভ রেপের ধারণা সামনে আসার পর অন্যান্য দেশেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কোনও সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে অ্যাকশনএড রিসার্চার্স নামে এক সংস্থা জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে ১০টি কারেক্টিভ রেপের মামলা সামনে এসেছে।
