Skip to content

একতরফা নির্বাচনে প্রাণ গেল ১৮২ জনের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ গত ২৫শে নভেম্বর একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ গেল ১৮২ জনের। আহত হয়েছেন পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ। শুধু নির্বাচনের দিনই সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। পরদিন ৬ই জানুয়ারি নিহত হয়েছেন ৬ জন। গতকালও অবরোধ চলাকালে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পেট্রল বোমায় নিহত হয়েছেন ২ জন। এদিকে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে গিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে ভোটকেন্দ্রে স্থাপন করা পাঁচ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। হামলা হয়েছে সংখ্যালঘুদের ওপর। নির্বাচনের পরদিন যশোরের অভয়নগরে মালোপাড়ার কয়েক শতাধিক বাড়িঘরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। দিনাজপুরেরও হিন্দু সমপ্রদায়ের অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ও দোকানপাটে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেছিল- রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই একতরফাভাবে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা বাংলাদেশকে ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে। তাদের তথ্য অনুযায়ী ২৫শে নভেম্বর থেকে ৩রা জানুয়ারি পর্যন্ত সহিংসতায় ১৪৯ জন নিহত এবং ৪৮৮৬ জন আহত হয়েছেন। এসময় ৫৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একই সময়ে ১০ জনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একতরফা এবং সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণবিহীন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সহিংস পরিস্থিতি মানবাধিকারের ব্যাপক লঙ্ঘনের কারণ হিসেবে ইতিমধ্যেই আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মানুষ নিহত হচ্ছে, অন্যদিকে যানবাহনে পেট্রল বোমা ও আগুন ধরিয়ে দেয়ার কারণে সাধারণ নাগরিকদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, শিশুরাও এ ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে। সহিংসতার ঘটনায় অসংখ্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে; ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা সাধারণ নিরীহ নাগরিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। সরকার এ সহিংস পরিস্থিতিতে বিরোধী মতকে নির্মমভাবে দমন করছে।

এদিকে ২৬শে নভেম্বর শুরু হওয়া প্রথম দফা তিন দিনের অবরোধে নিহত হন ২২ জন। দ্বিতীয় দফা টানা ৬ দিনের অবরোধে নিহত হন ২৯ জন। তৃতীয় দফা অবরোধে নিহত হন ১৮ জন। জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকরের পর দিন সারা দেশে নিহত হন ৭ জন। ১৪ই ডিসেম্বর সহিংসতায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। ১৫ই ডিসেম্বর জামায়াতের ডাকা হরতালে পুলিশের গুলি ও সহিংসতায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৬ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় সারা দেশে ৮ জন নিহত হন। ১৭ই ডিসেম্বর রাজনৈতিক সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন। ২০শে ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

২৩শে ডিসেম্বর যশোরের মনিরামপুরে এক যুবদল নেতা হাবিবুর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। লক্ষ্মীপুরে পুলিশের গুলিতে যুবদলের জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ জুয়েল নিহত হয়েছেন। ২৪শে ডিসেম্বর অবরোধের শেষ দিনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন। ২৬শে ডিসেম্বর যশোরে মনিরামপুর উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি শফি কামাল ও ঝিকরগাছা রবিউল ইসলাম খুন হন। ২৯শে ডিসেম্বর নিহত হন দু’জন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫