স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই শুরু হচ্ছে দেশের সবচেয়ে বড় পণ্য প্রদর্শনী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। চলমান পরিস্থিতির কারণে মেলায় অংশ গ্রহণকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে । রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বড় লোকসানে থাকতে হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া দর্শনার্থী আসলেও ক্রেতা কম হবে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
আগামী ১১ জানুয়ারি শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মেলার মাঠ সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন।
মেলা দশদিন দেরিতে শুরু হওয়ায় শেষ হবে দশদিন পরে। তখন চলবে ২১ শে বই মেলা। অর্থাৎ ফেরুয়ারির ১০ তারিখ পর্যন্ত মেলা চললেও ১ ফেব্রুয়ারি থেকে একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হলে বাণিজ্যমেলায় দর্শক-ক্রেতা কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের মধ্যে গণজাগরণ মঞ্চ পাকিস্তানি পণ্য বর্জন এবং বাণিজ্যমেলায় পাকিস্তানের প্যাভেলিয়ন বরাদ্দের বাতিলের দাবি জানালেও মেলায় পাঁচটি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। এতে গোলমাল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেলার শেষ দশদিন বই মেলা থাকায় তখনও মেলা জমে ওঠা সম্পর্কে সন্দিহান কোন কোন ব্যবসায়ীর।
এফবিসিসিআই’র পরিচালক শহিদুল ইসলাম হেলাল বলেন, মেলায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে উৎসাহ নেই একটা আতংক কাজ করছে। কি হয় বা কি হবে? তিনি বলেন, মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা থাকবে কিন্তু ক্রেতার সংখ্যা কমতে পারে। তিনি আরো বলেন, মেলায় পাকিস্তানিদের স্টল রয়েছে। যেখানে পাকিস্তানের পণ্য বাতিলের দাবি উঠেছে সেখানে মেলায় তাদের স্টল রয়েছে। গোলমাল বাঁধার আশঙ্কা রয়েছে।
এফবিসিসিআইয়ের আরেক পরিচালক এবং এশিয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশীদ বলেন, ইপিবি আমাদের কাছে টাকা নিয়েছে। এখন মেলা যেমনই হোক আমাদের করার কিছু নেই। দেশে যে অবস্থা চলছে তা চলতে থাকলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে। প্যাভেলিয়ন বরাদ্দ ও তৈরিসহ বিভিন্নভাবে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এখন চলমান অস্থিরতার কারণে দর্শক-ক্রেতা না আসলে তাতে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাবে বলে তিনি জানান। ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক হুমায়ুন কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইতিমধ্যেই আমাদের ব্যবসা স্থবির হয়ে আছে। এ অবস্থায় বাণিজ্য মেলায় অংশ নেয়ার লক্ষ্য হলো- আমাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি বাড়ানো। এখন মেলায় দর্শকই যদি কম আসে তখন তো সেই লক্ষ্য পূরণ হবে না।
এ প্রসঙ্গে রফতানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান সুভাশিষ বসু জানান, পাকিস্তানকে প্যাভেলিয়ন বরাদ্দ না দিতে মন্ত্রণালয় থেকে কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে আসেনি। এজন্য তারা এবার মেলায় অংশ নিচ্ছে।
মেলার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবার জোরালো থাকবে। আনসার, পুলিশ, র্যাব, পাশাপাশি বিজিবি ও নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, সিসি ক্যামেরার।
তিনি আরও বলেন, মেলার প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করে দর্শক-ক্রেতাকে প্রবেশ করানো হবে। তবে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাড়তি কোন নিরাপত্তা থাকবে কি না? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা নিরাপত্তা দেয়া হবে না। তবে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরালো থাকবে।
ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় ভারতের পাঁচটিসহ মোট ১১টি দেশের ২৫টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। এবার মেলার বিশেষত্ব হলো পণ্যভিত্তিক আলাদা জোনের বিভক্ত থাকবে মেলা।
এদিকে দেশের সামগ্রিক অবস্থায় এবার মেলায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। গতবছর ১১টি দেশ থেকে ৩০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিলেও এবার শুরুতে ৩৭টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত অংশ নিচ্ছে ১১টি দেশের ২৫টি প্রতিষ্ঠান। দেশগুলো হলো – ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কোরিয়া, চীন, হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র। গতবার জাপান আসলেও এবার আসছে না। অন্যদিকে মালয়েশিয়া গতবার না আসলেও এবার আসছে বলে সূত্র জানায়। এছাড়া এবার মেলায় দেশি-বিদেশি মিলে মোট ৪৭৩টি স্টল ও প্যাভেলিয়ন থাকবে।
