Skip to content

বিএনপিতে মহাসচিব পর্যায়ে বড় ধরণের রদবদল হতে যাচ্ছে

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বিএনপিতে এবার পদ হারানোর আতঙ্ক। অনেক কেন্দ্রীয় নেতা এই আতঙ্কে রয়েছেন। এই তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে না দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও।

আগামীতে নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলন গতিশীল করতে খুব শীগগিরই বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এব্যাপারে কঠোর মনোভাব পোষণ করছেন দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এদিকে দল পুর্ণগঠনের খবর দলের ভেতরে ও বাইরে ছড়ানো পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে দলের কর্মকাণ্ড থেকে গুটিয়ে থাকা নেতারা নিজেদের পদ হারানোর ভয়ে চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের পদ পদবী ধরে রাখার জন্য তদবিরও চালাচ্ছেন।

দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দলকে পুর্ণগঠনে প্রথম ধাপে অতি সম্প্রতি মহাসচিব পর্যায়ে বড় ধরণের রদবদল হতে যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিস্ক্রিয় অনেক নেতা তাদের পদ হারাবেন। র্দীঘ সময় ধরে দলে নিস্ক্রিয় আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠ নেতাদের বাদ দিয়ে আন্দোলনে যেসব নেতাকর্মীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তাদেরকে অর্ন্তভূক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।ফলে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা অনেক কর্মীকে এবার নেতা হিসেবে দেখা যেতে পারে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ অঙ্গ সংগঠনগুলোর মূল নেতৃত্বে।

ইতোমধ্যে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এসব পোড় খাওয়া নেতাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছেন। এর ফলে নেতাকর্মীদেরকে আগামীতে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশী সক্রিয় করার জন্য এবার তাদের হাতে নেতৃত্ব দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগরীর এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চেয়ারপারসন যদি দল পুর্ণগঠনে পদক্ষেপ নেন তাহলে অবশ্যই এবার দলের আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গে যেসব নেতারা জড়িত তারা জায়গা পাবেন। আর বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে যারা দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান নিয়ে পদ দখল করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের সঙ্গে আতাঁত করে চলেছেন এসব নেতাদের হাত থেকে দল মুক্তি পাবে।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর কমিটিতে রদবদল এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। ওয়ান ইলেভেনের সময় দলের সঙ্গে যারা বেঈমানি করে পরে নিজেদের রং বদলে ঢাকা মহানগরীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের সেই চরিত্র আবারো জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়েছে। যে কারণে রাজধানীতে কোনো আন্দোলন কখনো গড়ে ওঠেনি। বারবার তারা ব্যর্থ হয়েছেন। যার খেসরত দলকে দিতে হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১১ সালের ১৪ মে সাদেক হোসেন খোকাকে আহ্বায়ক এবং আবদুস সালামকে সদস্য সচিব করে ঢাকা মহানগর বিএনপির ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। এ আহ্বায়ক কমিটিকে পরবর্তী পাঁচ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশও দেন তিনি। আড়াই বছরের অধিক সময় পার হয়ে গেছে কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি এখনো।

২০০৮ সালে নির্বাচনে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি ওই সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করার চেষ্টা করে। কিন্তু মূল দল বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের অসহযোগিতার কারণে সেসব আন্দোলনে কোনো সাফল্য পায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ ৫ জানুয়ারি এক তরফা নির্বাচন প্রতিহত করার ডাক দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২৯ ডিসেম্বর মার্চ ফর ডেমোক্রেসির ঘোষণা দিয়ে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ওই কর্মসূচি সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। কিন্তু দলের প্রধানের ওই নির্দেশ দলের দায়িত্বে থাকা নেতারা পালন না করে রাজধানী ঢাকায় নেতারা নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

যদিও তৃণমুলের নেতাকর্মীরা শত বাধা উপেক্ষা করে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খালেদা জিয়ার নির্দেশ পালন করে। সেখানে ঢাকার দৃশ্য ছিলো অন্যদিনের মত স্বাভাবিক। এরফলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর এই নিস্ক্রিয়তায় টনক নড়ে বিএনপির হাইকমান্ডের।

বিএনপির নীতি নির্ধারকরা দলের চরম এই র্ব্যথতার কারণ হিসেবে দেখছেন দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বর্পূণ পদ আকড়ে থাকা নেতাদের নিস্ক্রয়তাকে। আর একারণে আগামীতে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে জোরদার করতে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সারাদেশে দলের তৃণমুল নেতাকর্মীরা পুলিশের গুলি, হামলা, মামলা, হয়রানীর মুখে যেভাবে আন্দোলনকে সামনের দিকে নিয়ে গেছেন তাতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাদের ওপর অত্যন্ত খুশী। তাই এবার বিএনপির পুর্ণগঠনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তৃণমুলের অনেক নেতাকে দেখা যাবে।

এদিকে দলের পুর্ণগঠনের ব্যাপারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দলের অনেক নেতাই একমত পোষণ করেছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ঢাকার বাইরে সফরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তবে তিনি জেলা সফরের মধ্যে ঢাকা মহানগর কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে চান। এছাড়া বিএনপির অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন যুবদলের কমিটি অচিরেই ভেঙ্গে দেওয়া হবে। কমিটি ভাঙ্গার মধ্যে মহিলা দল, কৃষকদলসহ বেশকয়েকটি অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন রয়েছে বলে দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র-বেঙ্গলিনিউজটোয়োন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫