Skip to content

গাজীপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে জমজমাট বেকারী ব্যবসা

তুহিন সারোয়ার ॥ গাজীপুর জেলার সর্বত্র আনাচে কানাচে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে ছোট বড় অনেক বেকারী। এ সকল বেকারীতে অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার।
সরেজমিন বিভিন্ন বেকারীতে দেখা যায়, স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে তৈরি হচ্ছে খাবার-দাবার। নিয়মানুযায়ী বাবুর্চি, মেটসহ খাবার তৈরি কাজে নিয়োজিতদের হাতে গ্লবস্ মাথায় কাপড় ও ক্যাপ পরার কথা থাকলেও খালি হাতে তৈরি হচ্ছে ওই সমস্ত খাবার। তাছাড়া, পঁচা ও বাসি খাবার ফেলে না দিয়ে তা মিশানো হচ্ছে নতুন খাবারে।
জানা গেছে, বেকারীর জন্মলগ্ন থেকে ব্যবহৃত তেলের উচ্ছিষ্ট কখনো ফেলা হয় না। নতুন তেলের সাথে মিশিয়ে তা পুনরায় ব্যবহৃত হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওই তেলে বিষাক্ত টক্সিন তৈরি হয়। যা প্রাণীদেহে মারাত্মক জটিল-কঠিন রোগ সৃষ্টি করে। বেকারী গুলোতে ঢুকতেই ভ্যাপসা গরম আর মাছির ভনভনানি লক্ষ করা যায়। এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই চলে জনসাধারণের খাদ্য গ্রহণের পর্ব।
অনুসন্ধানে জানা যায়, খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ সৃষ্টিতে ব্যবহৃত হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টি সল্টসহ নানা ক্ষতিকর ক্যামিকেল। খাবার ঢেকে রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানছেন না কেউ। এসব খেয়ে জনসাধারণ ডায়রিয়া, আমাশয়সহ নানাবিধ পেটের পীড়া ও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়াও বেকারীসমূহে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রীর দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কারণে একবার দাম বৃদ্ধি পেলে তা আর কমানো হয় না। এ অবস্থা চলছে টঙ্গীর প্রায় সব বেকারীতেই। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, বেকারীসমূহে তৈরিকৃত খাবারের মান যাচাই কিংবা যৌক্তিক দাম নির্ধারণে সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে কেউ নেই। সাধারণ জনগণ একরকম বাধ্য হয়েই এসকল বেকারীর খাবার গ্রহণ করছেন। একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি, অন্যদিকে গলাকাটা মূল্যে খাবার কিনতে হিমসিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর লোকজন। বৈধভাবে একটি বেকারী চালাতে গেলে দরকার হয় ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই অনুমোদিত লাইসেন্স, প্রিমিসেস লাইসেন্স এবং সরকারী বিধি নিষেধ সংক্রান্ত কিছু কাগজ পত্র। এদের বেশীরভাগ বেকারীর নেই সরকারী বৈধ কোন কাগজপত্র। বিএসটিআই অনুমোদন ছাড়াই রকমারি খাবারের মোড়কে বিএসটিআই সিল ব্যবহার করে দেদারছে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অনেক বেকারী মালিক। তাছাড়া খাবারের মান নির্ধারন করে এবং শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া হয় বিএসটিআই অনুমোদন। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেকেই বিএসটিআই লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দরখাস্ত করে। দরখাস্তের উপর ভিত্তি করে বিএসটিআই থেকে একটি সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়। লাইসেন্স পাওয়ার আগেই এই সিরিয়াল নম্বর পেয়ে খাবারের মোড়কে বিএসটিআই অনুমোদিত সিল ব্যবহার করে খাবার বাজারজাত করছে অনেক বেকারী মালিক । এভাবে চলে বছরের পর বছর। শুধু বিএসটিআই নয় সরকারী আসল কোন কাগজ পত্রের প্রয়োজন মনে করছেন না অনেকেই। যত্রতত্র নোংরা পরিবেশে বেকারী গুলোতে তৈরি হচ্ছে কেক, পাউরুটী, বিস্কুটসহ অন্যান্য রকমারি খাবার। চুল্লী (তান্দুল) থেকে বের করে এসব খাবারের ট্রে গুলো যখন সাজিয়ে রাখা হয়, তখন দেখা গেছে মাছিসহ বিভিন্ন প্রকারের পোকা মাকড় ভন ভন করে উড়ছে আবার কিছু জেকে বসে আছে খাবারে। নোংরা স্যাঁতস্যাঁতে মাটির উপর ফেলেই তা আবার প্যাকেট করা হচ্ছে। খাবারের রং ও কেক, পাউরুটীর প্রসারতা বাড়াতে ব্যবহার করছে বিভিন্ন ধরনের ক্যামিকেল, রাসায়নিক দ্রব্য ও অস্বাস্থ্যকর সুগন্ধি। কেক এবং বিস্কুট তৈরীতে যে রাসায়নিক দ্রব্য এ্যামোনিয়া বাই কার্বোনেট ব্যবহার করা হয় তা মানব দেহে অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা ক্যানসারের মত মরন ব্যাধিকে ডেকে আনে বলে চিকিৎসকের অভিমত। প্রশাসনের নাকের ডগার উপর বছরের পর বছর তাদের এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য নেই কোন বিধি নিষেধ, নেই সরকারী জোড়ালো তৎপরতা। রিতিমত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত না হওয়ায় এবং সরকারী জোড়ালো তৎপরতা না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলে দাবী সাধারণ মানুষের।
নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরীর ব্যাপারে টঙ্গীর আমিন বেকারী মালিক আমিন বলেন, কারখানার পরিবেশতো? একটু সামান্য ধুলো ময়লা থাকবেই। সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। বিএসটিআই অনুমোদিত লাইসেন্স ব্যতীত কি করে খাবারের মোড়কে বিএসটিআই অনুমোদিত সিল ব্যবহার করছেন, এটা কি বেআইনী নয়? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বে-আইনী জেনেও এ ব্যবসা করছি কারণ এ যাবত কোন বাধা আসেনি বলে। এদিকে টঙ্গী বাজারে বেকারীর সিল মারা পলিথিনের মোড়ক বিক্রি করছে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী। সেই পলিথিনের মোড়ক কিছু সংখ্যক বেকারী মালিকরা ক্রয় করে তাদের তৈরী অনুন্নত মানের খাবার প্যাকেট করে বাজারজাত করছেন এবং নির্বিঘেœ নির্ভয়ে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। একজন ক্রেতা কখনই জানতে পারছেন না যে, এই পলিথিনের মোড়কে রয়েছে লোকাল বেকারীর তৈরী অনুন্নত মানের খাবার। ঘুরে দেখা গেছে টংগীর আনাচে কানাচে অজানা অনেক বেকারী আছে যাদের নেই বৈধ কোন কাগজপত্র এবং খাবার তৈরীতে সরকারী বিধিমালার ধার না ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী করছে তারা বিভিন্ন ধরনের আকৃষ্টকরা অনুন্নত মানের খাবার। কি করে বছরের পর বছর প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের এটাই প্রশ্ন। সাধারণ মানুষের দাবী রিতিমত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অথবা প্রশাসনিক যে কোন উপায়ে অবৈধ এসব বেকারী মালিকদের শাস্তি অথবা জরিমানা প্রদান করে খাবারের সঠিক মান ফিরিয়ে দেয়া।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫