Skip to content

সম্ভাবনার আড়ালে সংশয়ও

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ বিগ থ্রির প্রস্তাবনা পাসের পর এফটিপি (ফিউচার ট্যুর প্লান) ঠিক থাকলেও সফরের সবকিছু নির্ধারিত হবে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মধ্যে। আর এ বিষয়টিই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ক্রিকেট সংগঠক ও সাবেক ক্রিকেটাররা। শুধু তাই নয়, নতুন প্রস্তাবনা পাস হওয়ায় রাজস্ব আয় দ্বিগুণ পাওয়ার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মুখোমুখি হতে হবে চ্যালেঞ্জের।

সিঙ্গাপুরে আইসিসির সভায় বিগ থ্রি’র (ভারত-অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড) পক্ষে ভোট দিয়ে রোববার রাতে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। সেখানে বাংলাদেশসহ ৮ দেশের ভোটে পাস হয়ে হয়েছে বিগ থ্রি’র আলোচিত-সমালোচিত পজিশন পেপারটি। তবে নাজমুল হাসান পাপন দেশের জন্য নিয়ে এসেছেন কিছু সুসংবাদও। এর অন্যতম এ বছরই তিনটি ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশে আসবে ভারত। আর ২০১৬ সালে প্রথম বারের মতো টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ ভারতে যাবে। আর এ নিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরও হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন বিমানবন্দরে নেমে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিসিবির সাবেক পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, ‘আমাদের শুধু ভারত ট্যুরের বিষয়গুলোর দিকে তাকালে হবে না। এখন আমাদের দায়িত্ব বাড়লো অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে শুধু জাতীয় দলই নয়, ‘এ’ দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ট্যুরগুলো নিশ্চিত করা। যেমন ২০১৫ সালে আমাদের বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড যেতে হবে। তার আগে যদি আমাদের ‘এ’ দল একটি ট্যুর করতে পারে আস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সে ব্যবস্থা নিতে হবে। মোট কথা, প্যাকেজ প্লান করতে হবে যে আসন্ন সফরগুলো কিভাবে আরও বাড়ানো যায়।’

অন্যদিকে বিসিবির আরেক সাবেক পরিচালক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর মনে করেন বিসিবির চ্যালেঞ্জ এখন নতুন ভাবে শুরু হলো। তিনি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে সফর নিশ্চিত হবে। ধরে নেন, ভারত এখন ২০১৬ সালের জন্য চুক্তি করেছে। যদি ভারত বোর্ডে তখন সভাপতির পরির্তন হয় বা তারা যদি তখন না আসতে চায় তখন আমাদের কি করার আছে? আমরা কি চুক্তি ভঙ্গের জন্য ভারতের বিপক্ষে আইনি লড়াইয়ে যাবো! তা কি সম্ভব? পাকিস্তানে আমাদেরও যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু আমরা যাইনি সেখানে পাকিস্তান আমাদের কি করতে পেরেছে? বলতে পারেন, এখন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ড দ্বিপাক্ষিক ট্যুরের জন্য আগে কাদের কথা ভাববে? শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আর নিজেদের মধ্যেতো আছেই এরপর বাংলাদেশের কথা ভাবা হবে। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাদের কাছ থেকে কতবছরে কতটা আদায় করতে পারবে তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন! বলতে পারেন এখন পরীক্ষা বা চ্যালেঞ্জ হবে বিসিবির যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে কতটা আদায় করতে পারে বিসিবি। শুধু তাই না অর্থনৈতিক বিষয়গুতো ভারত তাদের নিজেদের স্বার্থের কথা ভেবেই করেছে। তাহলে সেখানে আগে তারা লাভবান হবে এর পর বাংলাদেশ।’

আয়ের একটি বড় অংশ নির্ভর করছে টিভি রাইটসের ওপর বা বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের ওপর। প্রশ্ন উঠেছে যদি এখানেও ওই দেশগুলো সফরে এসে ভাগ চায় তাহলে কি হবে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের আয়ের বিষয়টি নির্ভর করবে যে কতগুলো ট্যুর বাংলাদেশ আয়োজন করতে পারলো তার ওপর। সব কিছু মিলিয়ে ক্রিকেট সংগঠকদের ধারনা এটি বাংলাদেশের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ। যেহেতু বিসিবি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অভিভাবক তাই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদেরই বড় ভূমিকা রাখতে হবে নয়তো ক্ষতিগ্রস্ত হবে ক্রিকেট। তবে অর্থনৈতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের কোন ক্ষতি হবে না বলেই দাবি করেন নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘সিরিজ বাড়ায় বরং অর্থনৈতিকভাবে আমরা লাভবানই হবো।’

সিঙ্গাপুর থেকে ফিরে নাজমুল হাসান আরও জানিয়েছেন ভারতের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও টেস্ট খেলার সুযোগ বেড়েছে বাংলাদেশের। বিসিবি সভাপতি বলেছেন, ‘এ বছর ও আগামী বছর বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারত। আর ২০১৬ সালের অগাস্টে ভারত সফরে যাবে বাংলাদেশ।’ তার কথা অনুযায়ী ২০২০ সালে আবার বাংলাদেশে আসবে ভারত। এ ব্যাপারে দুই বোর্ডের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ২০১১ থেকে ২০২০ সালের ভবিষ্যৎ সফরসূচি পরিকল্পনা (এফটিপি) অনুযায়ী ২০১৪ সালের জুলাইয়ে তিনটি ওয়ানডে এবং ২০১৫ সালের জুনে দুটি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতের।

এছাড়াও এফটিপি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার দুটি টেস্ট খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা। আর ২০১৮ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়ায় ফিরতি সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে দু’টি টেস্ট ও তিনটি ওয়ানডে খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ইংল্যান্ডের। নাজমুল হাসান বলেন, ‘ইংল্যান্ডের সফর আরেকটি বেড়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে দু’বার বাংলাদেশে আসবে তারা।’(মানবজমিন)

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫