বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখলকৃত হলগুলো উদ্ধারের লক্ষে গঠিত ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি’র ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভা কক্ষে ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি’র আহ্বায়ক এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশীদের সভাপতিত্বে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হলের জায়গা সংক্রান্ত আইনগত সমস্যা সমাধানের জন্য এ্যাটর্নী জেনারেলের সাথে উক্ত কমিটির একটি সভা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
উক্ত সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালরে বেদখলকৃত হল বা হলের জায়গা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) কাজী সালাহ্উদ্দিন আকবর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পুলিশ), ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট যুগ্মসচিব, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস, সাধারণ সম্পাদক ড. পরিমল বালা, ঢাকা জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুন, হল উদ্ধার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক এফ এম শরীফুল ইসলাম ও সদস্য-সচিব এস এম সিরাজুল ইসলাম এবং রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান।
কর্মবিরতি শেষে ক্লাসে ফিরেছেন শিক্ষকরা: বিশ্ববিদ্যালয়ের তিব্বত হলসহ বেদখলকৃত হল উদ্ধার করতে গেলে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে প্রায় তিনশ’ শিক্ষক-শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার জন্য পুলিশের লালবাগ বিভাগের ডিসি হারুন অর রশিদ ও কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামানকে দায়ী করে তাদের প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবিতে ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শিক্ষক সমিতি।
এ সময় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পরিমল বালা বলেন, বেদখল হওয়া হলগুলো উদ্ধারে ৬ মার্চ আট সদস্যের কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটিকে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তাই এ সময় কর্মবিরতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শিক্ষকেরা। তবে দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষক সমিতি।
এদিকে বেদখল হওয়া ১০টি হল উদ্ধার, নতুন হল নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে বেদখল হওয়া হল উদ্ধার সংগ্রাম পরিষদ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। এসময় শিক্ষক সমতির সভাপতি সরকার আলী আক্কাস বলেন, আমাদের আন্দোলন চলবে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দাবি পূরণে বাধ্য করা হবে। তবে শিক্ষাজীবনকে কোনভাবেই ব্যাহত করা যাবে না।
