বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বৈধ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গ্রেজেটসহ দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কেউ যদি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে বুঝতে হবে তারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করে না। একটি ঐতিহাসিক সত্য নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য কী? একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের হানাদাররা যে অপকর্ম করেছিল, লাখো মানুষকে হত্যা করেছিল, মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছিল- তাদের সেই অপকর্মগুলো ঢাকতেই এমন ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে তিনি এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সমাপনী বক্তব্য একই সঙ্গে রাখেন তিনি। এসময় তিনি বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে বলেন, মানুষ খুন করাই তাদের রাজনীতি। তাদের হাত থেকে মসজিদ, মন্দির গির্জা কোনো কিছুই রেহাই পায়নি। আর লোকে বলে জিয়াউর রহমান নাস্তার টেবিলে বসে মৃত্যুদণ্ডের আদেশে সই করতেন। এতে উনার কোনেআ সমস্যা হতো না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময় এসেছে যারা দেশের মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করেছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছে, যারা ইতিহাস বিকৃত করেছে এদেরকে প্রতিহত করা। তিনি বলেন, খন্দকার মোশতাক বেইমান, খুনি; তিনি নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছিলেন। জিয়াউর রহমানকে খুনি মোশতাক সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন। আর জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন। জিয়া, মোশতাক সবাই খুনি ছিলেন। ফায়ারিং স্কোয়াডে দিয়ে সামরিক অফিসারদের খুন করেছেন। এমনকি বিমান বাহিনীর ৫৬৫ জন অফিসারকে ফায়ার স্কোয়াডে দিয়ে খুন করেছেন জিয়া। আলবদর ও যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার শুরু হয়েছিল সেই বিচার বন্ধ করেছিলেন জিয়া। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন । তাদের ভোটাধিকার দিয়েছেন। আর তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া নিজামী, মুজাহিদদের মন্ত্রী বানিয়েছেন।
জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর মোশতাক আহমেদ জিয়াকে সেনাপ্রধান করেছিলেন। জাতির পিতাকে হত্যা করার পর কেন জিয়াকে সেনাপ্রধান করা হলো? নিশ্চয়ই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছিল। জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি সায়েম সাহেবের কাছে গিয়ে জিয়াউর রহমান বললেন, ‘আপনি অসুস্থ, রাষ্ট্র চালাতে পারেন না।’ তখন সায়েম সাহেবের সামনে অস্ত্র রাখতেই সায়েম সাহেব বলল, ‘হ্যাঁ বাবা, আমি অসুস্থ।’ এরপরই জিয়া ক্ষমতা দখল করেন। তিনি আরো বলেন, জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করা হয়। অথচ উনি নিজে অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে বাংলার পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছেন।
স্বাধীনতার পর বাহাত্তর সালে বঙ্গবন্ধুর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের দালিলিক প্রমাণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর ১১ জানুয়ারি হেয়ার রোডে প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের বাসায় বৈঠকে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। পরের দিন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু প্রধান বিচারপতি হিসেবে আবু সাদাত সায়েমকে নিয়োগ দেন। এরপর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলে প্রধান বিচারপতির কাছে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি আবু সাইয়িদ চৌধুরী। সব মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু। এরপর বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে ১৫ সদস্যর মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি। এ সংক্রান্ত ওই সময়ের গেজেট ও রাষ্ট্রীয় দলিল স্পীকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ভাষণের সঙ্গে এসব দলিল সংযুক্ত করা হোক, সত্য ইতিহাসের স্বার্থে।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে কারোর কাছে সহযোগিতা নিয়ে চলতে চাই না। বিজয়ী জাতি হিসেবে আমরা সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে এবং স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবদিক থেকে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। রিজার্ভের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পেরিয়ে গেছে। সারা বিশ্বে ১০টি উদীয়মান দেশের তালিকায় এখন বাংলাদেশ রয়েছে। পাঁচ বছরে এক কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি খারাপ কিছু করে তবে বিরোধী দল অবশ্যই সমালোচনা করবে। বিরোধী শুধু বিদেশ ভ্রমণ, সংসদে না এসে টাকা নেওয়া ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট নেওয়ার জন্য হলে সে বিরোধী দল দেশবাসী চায় না। নবম সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী পাঁচ বছরে মাত্র ১০ দিন সংসদে এসেছিলেন। সদস্যপদ রক্ষার জন্য যারা সংসদে আসে আর সদস্যপদ রক্ষা পেলে আর আসে না এমন বিরোধী দলের জন্য কারো কারো এত কান্না কেন বুঝতে পারি না। বর্তমান বিরোধী দল জাপা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম
