বাংলাভুমি২৪ ডেস্ক ॥ ঈশ্বরদী (পাবনা): মধুমাসের অন্যতম ফল লিচু উৎপাদনে প্রসিদ্ধ পাবনার ঈশ্বরদী। এ অঞ্চলের লিচুর রয়েছে দেশব্যাপী আলাদা কদর ও চাহিদা।
এ অঞ্চলের প্রায় সব চাষিই এই মৌসুমে লিচুর চাষ করেন। ফলনও পান প্রচুর। কিন্তু এ বছর লিচুর ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করেছেন লিচু চাষি ও ঈশ্বরদী কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
লিচু চাষ বিপর্যয়ের জন্য এ বছর প্রতিকূল আবহাওয়া ও অব্যাহত খরার প্রভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।
তাদের ভাষ্য এবার অত্যধিক গরম ও খরায় লিচুর ফলন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ঈশ্বরদীতে এবার ২৪০০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করেছেন চাষিরা। কিন্তু বেশিরভাগ গাছেই এবার লিচু ধরেনি। বৈরী আবহাওয়ার এর প্রধান কারণ বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।
গত বছরের তুলনায় এবার অর্ধেক পরিমাণ লিচু পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা ও কৃষি বিভাগ।
ঈশ্বরদী উপজেলার বিভিন্ন লিচু বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বাগানের গাছে লিচু নেই। গাছে গাছে লিচুর পরিবর্তে শুধু সবুজ পাতা শোভা পাচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান ময়েজ বাংলানিউজকে বলেন, গত মৌসুমে ঈশ্বরদীতে যে পরিমাণ লিচুর ফলন হয়েছিল এবার তার অর্ধেক লিচুও পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, তার ১২০টি লিচু গাছের মধ্যে মাত্র কয়েকটি গাছে সামান্য পরিমাণ লিচু এসেছে। বাকি গাছগুলি লিচুশূন্য।
অপর চাষি ফজলুর রহমান বলেন, অব্যাহত খরা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণেই গাছ থেকে কাঁচা লিচু ঝরে ঝড়ে পড়ছে। সেচ দিয়েও লিচুর পতন ঠেকানো যাচ্ছে না।
ঈশ্বরদীর সাহাপুর গ্রামের লিচু চাষি রিয়াজ উদ্দিন সরদার বলেন, তার বাগানে অর্ধেক গাছেও এবার লিচু আসেনি। যাও আছে তাও প্রখর খরতাপে রক্ষা করা যাচ্ছে না। গাছের গোড়ায় পানি ঢেলে, এমনকি বাগানে শ্যালোমেশিন বসিয়ে সেচ দিয়েও লিচুর পতন ঠেকানো দুরূহ হয়ে পড়েছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন এমন প্রখর খরতাপ আবহাওয়া আর দু’চারদিন থাকলে লিচুর আবাদ এবার বিপর্যয়ের মুখে পড়তে বাধ্য।
বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খুরশিদ আলমও জানান, এবার ঈশ্বরদীতে ২৪০০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হলেও বৈরী আবহাওয়ায় ফলন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
