বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ অবশেষে ইডেন কলেজ প্রশাসন ছাত্রলীগ নেত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করলেন। আহত ছাত্রীর বাবা-মায়ের অনুরোধও রাখলেন না কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডালিয়া আহমেদ।
শনিবার রাতে কলেজের জেবুন্নেছা হলের নিচে পানি নেয়াকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেত্রীদের হামলায় আহত লিজা আক্তারকে জোর করেই হল ছাড়া করা হয়। পরে তাকে গ্রামের বাড়ি চলে যেতে বাধ্য করা হয়। সেই সঙ্গে লিজার মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আগামী দুই মাস হলের আশপাশ না আসতেও নির্দেশ দিয়েছেন ভাইস প্রিন্সিপাল।
জানা গেছে, শনিবার রাতে কলেজের জেবুন্নেছা হলে পানি নেয়াকে কেন্দ্র করে বাংলা বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী লিজাকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেত্রীরা। পরদিন আবারো হল না ছাড়লে তার হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। আর এ হুমকি দেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস আক্তার।
অবশ্য লিজার বাবা-মা এ খবর পেয়ে সকালেই ছুটে আসেন কলেজে। তারা ভাইস প্রিন্সিপালের সঙ্গে দুপুরে দেখা করেন এবং লিজাকে সামনের মাস্টার্স ফাইনাল পরীক্ষা পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি দিতে হাত জোর করে অনুরোধও জানান। কিন্তু উল্টো ভাইস প্রিন্সিপাল ডালিয়া আহমেদ ছাত্রলীগ নেত্রী নার্গিসের পক্ষ নিয়ে হামলার শিকার ছাত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সেই সঙ্গে তার বাবা-মাকে অপমান করে দুপুরের মধ্যে তাদের মেয়েকে হল থেকে নিয়ে যেতে বলেন।
তিনি আরো নির্দেশ দেন আগামী দুই মাসও যেন লিজা কলেজ ও হলের আশপাশে ঘুরাঘুরি না করে। শুধুমাত্র তার পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড তুলতে কলেজে আসতে পারবে।
অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় লিজাকে হল ছাড়া করতে বেশি ভূমিকা রাখেন জেবুন্নেছা হলের সহকারী হল সুপার আকলিমা খাতুন। তিনিই বিষয়টি উস্কে দিয়েছেন এবং ছাত্রলীগের পক্ষ নিয়ে যাবতীয় পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনকে বলেছেন।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন ছাত্রী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমাদের ম্যাডামরা তাকে (লিজা) জোর করেই বের করে দিল। তারা (শিক্ষকারা) যে কোনো ব্যাপারে ছাত্রলীগ নেত্রীদের অন্যায় আবদারও মেনে নেন। তাদের কাছে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না।’
এ ব্যাপারে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডালিয়া আহমেদ বাংলামেলকে বলেন, ‘ওই ছাত্রীকে তার বাবা-মা হলে রাখবে না বলেই গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গেছে। তাকে হল ছাড়া করা হয়নি।’
প্রসঙ্গত, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জেবুন্নেছা হলের সামনে খাবার পানি নিতে যান ২০৫ নম্বর কক্ষের লিজা আক্তার। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে পানি নিলেও নিয়মে ভেঙে সবার আগে পানি নিতে চান একই হলের ৪১৫ নম্বর কক্ষের একছাত্রী। এতে বাধা দিলে লিজার সঙ্গে তুমুল তর্ক বাধে তার। এসময় দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান ওই ছাত্রী।
ওই ছাত্রী কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস আক্তারকে বিষয়টি জানান। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নার্গিসের নেতৃত্বে দলবলে লিজার কক্ষে এসে তাকে ব্যাপক মারধর করে। বিষয়টি সহকারী হল সুপার আকলিমা খাতুন জানতে পেরে লিজাকে ছাত্রলীগ নেত্রীর পা ধরে ক্ষমা চাইতে বলেন। জানের ভয়ে লিজা রাজিও হন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট হননি ছাত্রলীগ নেত্রী নার্গিস। বাংলামেইল২৪ডটকম
