বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ আইন না মেনেই বিমা ব্যবসা করছে সাধারণ বিমা কোম্পানি প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে বিমা পলিসির টাকা না নিয়েই ব্যবসা করছে সম্পূর্ণ বাকিতে। মানছে না কমিশন দেওয়ার আইনও।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যলয়, ঢাকার শাখা অফিস, চট্টগ্রাম ও খুলনার বিভিন্ন শাখার মাধ্যমে এসব অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
বিমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) প্রতিষ্ঠানটির এসব অনিয়মের বেশকিছু প্রমাণও পেয়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট শাখার ব্যবস্থাপককে একাধিক পলিসির জন্য জরিমানাও করেছে। তবে জরিমানা এবং বাকিতে ব্যবসা ও অতিরিক্ত কমিশন দেওয়ার বিষয় অস্বীকার করেছেন প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদে খানম।
তিনি বাংলানিউজকে বলেন, প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে বাকি ব্যবসা ও অতিরিক্ত কমিশনের অভিযোগ সত্য নয়। আমাদরে প্রতিষ্ঠানের কোনো শাখা থেকে বাকিতে ব্যবসা করা হচ্ছে না। দেওয়া হচ্ছে না অতিরিক্ত কমিশনও। আইডিআরএ’র পরিদর্শক দলও আমাদের কোনো অনিয়ম খুঁজে পায়নি।
এ সময় মতিঝিল, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও খুলনা শাখার অনিয়মের জন্য আইডিআরএ করা জরিমানার বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকে চেক জমা দেওয়া সংক্রান্ত কিছু সমস্যা ছিলো। আর খুলনায় যে অনিয়ম ধরা পড়েছে তা অতিরিক্ত কমিশন দেওয়া সংক্রান্ত নয়। এক্ষেত্রে যে এজেন্টকে কমিশন দেওয়া হয়েছিলো তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, সাধারণ বিমা কোম্পানির অনিয়ম ঠেকাতে ২০১১ সালে বাকিতে বিমা ব্যবসা বন্ধের পদক্ষেপ নেয় আইডিআরএ। এর অংশ হিসেবে ওই বছরের ২৪ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইডিআরএ সাধারণ বিমার পলিসির নিয়ম নির্ধারণ করে দেয়। আর কমিশন নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয় ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল।
পলিসির নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়, বিমা পলিসির প্রিমিয়াম ৫ হাজার টাকার বেশি হলে কোম্পানিকে অবশ্যই ডিডি, পে-অর্ডার, ক্রেডিট অ্যাডভাইজ, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার অথবা অ্যাকাউন্ট পে চেকের মাধ্যমে নিতে হবে।
আর বিমা দলিলাদি ইস্যু করতে হবে অবশ্যই চেকের অর্থ পাওয়ার পরে। প্রিমিয়ামের সম্পূর্ণ অংশ কোম্পানিকে কাভার নোট, পলিসি, এনডোর্সমেন্ট অথবা অন্য যে কোনো বিমা বিষয়ক অংশজুড়ে দেওয়ার আগে নিতে হবে।
এছাড়া ডিডি, পে-অর্ডার অথবা চেক নম্বর এবং তারিখ মানি রিসিপ্টে উল্লেখ করতে হবে। যে কোনো ধরনের প্রিমিয়াম ফেরত (রিফান্ড) দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহককে জানিয়ে অ্যাকাউন্টপেয়ি চেকে দিতে হবে।
অপরদিকে কমিশন হার নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রিমিয়াম আয়ের উপর সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ হারে কমিশন দেওয়া যাবে। এ কমিশন পাবে শুধু লাইসেন্স প্রাপ্ত এজেন্টরা এবং তা দিতে হবে অবশ্যই একাউন্টপেয়ি চেকের মাধ্যমে।
তবে অভিযোগ উঠেছে প্রাইম ইন্স্যুরেন্স আইডিআরএর এ নির্দেশনা না মেনেই ব্যবসা করছে। প্রতিষ্ঠানটি বাকিতে ব্যবসার পাশাপাশি ১৫ শতাংশের অতিরিক্ত কমিশন দিচ্ছে। এমনকি বেতনভুক্ত কর্মকর্তাকেও কমিশন দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যলয়, মতিঝিল শাখা, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখা এবং খুলনার শাখার মাধ্যমে এ অনিয়ম বেশি করা হচ্ছে বলে কোম্পানি সূত্রে জানা যায়। এছাড়া কোম্পানিটির আরও কয়েকটি শাখায় এ অনিয়ম অব্যাহত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইডিআরএ সূত্রে জানা যায়, খুলনা শাখার বেতনভুক্ত কর্মকর্তাকে কমিশন দেওয়ার প্রমাণ পেয়ে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আর বাকিতে ব্যবসা করার জন্য মতিঝিল ও চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ শাখার ব্যবস্থাপককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
একাধিক বিমা কোম্পানির প্রজেক্ট ডিরেক্টর পদের কর্মকর্তা জানান, আইডিআরএ যে প্রমাণ পেয়েছে তা প্রতিষ্ঠানটির কমিশন অনিয়ম ও বাকি ব্যবসার নগণ্য অংশমাত্র। প্রতিষ্ঠানটির অনেক শাখার মাধ্যমে বাকিতে ব্যবসা করা হচ্ছে ও অতিরিক্ত কমিশন দেওয়া হচ্ছে। আইডিআরএ পরিদর্শন পরিচালনা করলেই এর প্রমাণ পাবে।
আইডিআরএ চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, সাধারণ বিমা কোম্পানির বাকিতে ব্যবসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পরিদর্শক দল বিভিন্ন কোম্পানির শাখা পরিদর্শন করছে। কোনো অনিয়ম পেলেই কোম্পানি ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয় হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যদি এ ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় তবে আইডিআরএ পরিদর্শক দল তা পরীক্ষা করে দেখবে। অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রযোজনে যে শাখার মাধ্যমে অনিয়ম করা হবে, সেই শাখা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
