বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্পূর্ণ অটোমেশনে (যান্ত্রিকীকরণ) যাচ্ছে বলে জানা গেছে। লোকবল নিয়োগ, ভ্যাট, আয়কর, শুল্ক সমন্বয় ও আইন পরিবর্তন, কাস্টমস ও শুল্ক স্টেশন পেপারলেস করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে অনলাইনে ই-পেমেন্টের মাধ্যমে ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক আদায়, ব্যাংকের মাধ্যমে বাড়ি ভাড়া, কর আদায়, অনলাইনে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন সেবা চালু করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
ট্যাক্স অ্যাডমিনেশন ক্যাপাসিটি অ্যান্ড ট্যাক্স ফেরার সার্ভিসের (টিএসিটিএস) মাধ্যমে টিআরটিএ, ভূমি রেজিস্ট্রেশন অফিসসহ অন্যান্য সরকারি অফিসে সরাসরি কর আদায় করবে এনবিআর। এতে কর আদায় ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার পাশাপাশি কর ফাঁকি রোধ হবে।
ই-ফাইলিংসহ আয়কর বিভাগের সার্বিক কার্যক্রম অটোমেশনের লক্ষ্যে সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্কিং, সার্ভার স্থাপনের কাজ এ বছরের মধ্যেই শেষ হবে।
করদাতাদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সারাদেশে কর ও তথ্য সেবাকেন্দ্র চালু করা হবে। ইতোমধ্যে, ঢাকায় চারটি কর তথ্য ও সেবাকেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সবগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
এদিকে, ১ জুলাই থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও কর অপরাধ দমনে ট্রান্সফার প্রাইসিং সেল কার্যক্রম শুরু করেছে।
ইতোমধ্যে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ, ঢাকা কাস্টমস হাউজ, কমলাপুর (আইসিডি) কাস্টমস হাউজকে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড প্লাস সফটওয়্যারের আওতায় এনে পেপারলেস করা হয়েছে।
এ বছরের মধ্যে সব কাস্টমস হাউজ ও শুল্ক স্টেশনকে পেপারেলস করা হবে। এর ফলে কাস্টমস হাউজে দুর্নীতি, হয়রানি বন্ধ ও শুল্ক আদায়ে গতি আসবে।
কাস্টমস হাউজে ডব্লিউটিও প্রণীত মান ও পদ্ধতি বজায় রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে ডব্লিউটিও-এর আরকেসি (রিভাইজড কিয়োটো কনভেনশন) স্বাক্ষর করেছে। একে অনুসরণ করে কাস্টমস ইতোমধ্যে চারবছরের কৌশলপত্র তৈরি করেছে।
আয়করকে রাজস্ব আদায়ের অন্যতম খাত হিসেবে চিহ্নিত করতে ১৫ সেপ্টেম্বর সারাদেশে ‘ডিজিটাল আয়কর মেলা’ করে আসছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অটোমেশন সেবা করদাতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এবছর থেকে অনলাইনে আয়কর গ্রহণ করা হবে। সে জন্য সব সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অটোমেশনে সংযোগে আনা হয়েছে।
২০১৩ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঢাকাসহ বিভাগীয় শহর ছাড়াও জেলা শহরে এ মেলার আয়োজন করে বোর্ডের অটোমেশন সেবা করদাতাদের কাছে পৌঁছে দেয়। মেলায় অনলাইনে ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ব্যাপক সাড়া ফেলে।
জানা গেছে, ২০১২ সালে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন পরিবর্তন করা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এ আইন কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে অটোমেশনের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আরো জানা গেছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন আইনে মূসক নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। মূসক ব্যবস্থাপনা একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা হবে। এর ফলে মূসক ফাঁকি রোধ হবে।
জানা গেছে, অটোমেশনকে ত্বরান্বিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন নয় হাজার পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়াও আয়কর ও শুল্ক আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্মার্ট কিউ, স্ট্যাটাস ডিসপ্লে, ইনকাম ট্যাক্স ক্যালকুলেটর ও ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন প্রিপারেশন সফটওয়্যার, জুরিসডিকশন ফাইন্ডার প্রযুক্তির মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
এবাদেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি ইন্টার-অ্যাক্টিভ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে। িি.িহনৎ-নফ.ড়ৎম ওয়েবসাইটটিতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশিত হয়েছে।
এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সব সেবা সন্নিবেশিত রয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের সব সনাতনী সেবা অনলাইনভিত্তিক করা ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী সমৃদ্ধ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিজস্ব প্রশাসনিক কোনো ভবন নেই। এর ফলে অটোমেশনে বিলম্ব হচ্ছে।
চলতি বছর আগারগাঁওয়ে দুই একর জমির ওপর ১৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ তলা একটি ভবন নির্মিত হচ্ছে। এ বছরই সেখানে প্রশাসনিক ভবন স্থানান্তর ও সম্পূর্ণ অটোমেশন স্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।
অটোমেশন বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান জানান, চলতি বছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আসছে। এটি হবে বাংলাদেশের মধ্যে কোনো সরকারি দফতর, যেটি সম্পূর্ণ অটোমেশনে এসেছে।
তিনি বলেন, অটোমেশনের ফলে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বাড়বে। করদাতারা সর্বোচ্চ সেবা পাবেন। রাজস্ব বিভাগ নিয়ে করদাতাদের অভিযোগ বন্ধ হবে। একই সঙ্গে কর ফাঁকি রোধ ও নতুন নতুন কর ক্ষেত্র তৈরি হবে। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
