বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ আদিবাসী দিবস উপলক্ষে সিলেটে একটি আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের ‘খবিশ’ ‘চরিত্রহীন’ ‘লম্পট’ মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী। এছাড়ও তিনি নারী পুরুষের উপস্থিতিতে আয়েজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গী করেন এবং অকথ্য ভাষা ব্যবহার করেন।
বিকেলে নগরের সুরমা পয়েন্টস্থ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন সাংবাদিকদের উপর ক্ষোভ ঝাড়েন। মঞ্চে ওঠেই তিনি মাইক নিয়ে সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকরা সেখানে থেকে গেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সেখানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের নানাভাবে ভর্ৎসনা করেন। সিলেট বিভাগীয় আদিবাসী উদযাপন কমিটির এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
এক পর্যায়ে তিনি ‘খবিশ’ ও ‘চরিত্রহীন’ বলে অশ্লীল অঙ্গভঙি প্রদর্শন করলে উপস্থিত সাংবাদিকেরা অনুষ্ঠান বয়কট করেন। এ সময় মিলনায়তনে হট্টগোল শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্কলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরে মন্ত্রী বক্তৃতা শেষ করতে গিয়েও সাংবাদিকবিহীন মিলনায়তনে আবারও সাংবাদিকদের আক্রমন করে বক্তৃতা দেন।
অনুষ্ঠানে সিলেটের সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সাংসদ শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ বিশেষ অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথিদের বক্তৃতা পর্ব শেষে ছয়টার দিকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বক্তৃতা শুরু করেন। বিষয় বস্তু আদিবাসী নিয়ে হলেও প্রায় ৪০ মিনিট বক্তৃতায় তিনি ঘুরে ফিরে সাংবাদিকদের নানা রকম অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ আক্রমণাত্মক বক্তৃতা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বক্তৃতা দেওয়ার জন্য তাঁকে আহবান করা মাত্র তিনি মাইক্রোফোনের সামনে এসে সাংবাদিকদের সরে যেতে বলেন। এ সময় তিনি ‘সর সর…’ বলেন। এক পর্যায়ে ‘তোমাদের মুখ দেখতে আসি নাই…’ বলে সাংবাদিকদের মাইক্রোফোনের সামনে থেকে ক্যামেরা নিয়ে চলে যেতে বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন- ‘সাংবাদিকদের ঠিক করতে নীতিমালা হয়েছে। ওই দিন কেবিনেট মিটিংয়ে আমি থাকলে সাংবাদিকদের …. (অকথ্য শব্দ) দিয়ে বাঁশ ঢুকাতাম। সাংবাদিকদের এখন এমনভাবে ঠিক করা হবে যাতে নিজের স্ত্রীকে পাশে নিয়েও শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। সাংবাদিকরা বদমাইশ, চরিত্রহীন, লম্পট।’
মন্ত্রীত্বের পরোয়া করেন না এমন দম্ভোক্তি করে মহসিন আলী বলেন ‘মন্ত্রীত্ব থাকলেই কী, আর না থাকলে কী? জনগণ আমাকে ভালোবাসে, আমিও জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই।’
সাংবাদিকরা অল্পশিক্ষিত উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন ‘আমার মেয়ে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স। আর যারা পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করে তারা দু’এক কলম পড়ালেখা করেছে। আমি বলি একটা, তারা লিখে আরেকটা। দুই টাকা খেয়ে তারা আমার … (অকথ্য শব্দ) দিয়ে বাঁশ ঢুকাতে চায়। আমার শ্বশুর বাড়ি সিলেটে। সাংবাদিকদের পেছনে সিলেটের মানুষ লেলিয়ে দিতে আমার সময় লাগবে না। সাংবাদিকরা আমার … (অকথ্য শব্দ) ছিঁড়তে পারবে না।’
মন্ত্রী বক্তৃতার এক পর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রতি অশ্লীল অঙ্গভঙি প্রদর্শন করে ‘খবিশ’ ও ‘চরিত্রহীন’ বলে ভর্ৎসনা করেন। তিনি বলেন, ‘এরা সবটা খবিশ, চরিত্রহীন! স্বাধীন কমিশন হলে পরে দেখ নেব-তোমরা (সাংবাদিকেরা) কতটুকু যেতে পার!’
সমাজকল্যাণমন্ত্রী যখন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, পেছনে অনেকটা বিব্রত ভাব নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মন্ত্রীর এপিএস সাইফুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠান শেষে জানতে চাইলে মন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রীর বক্তৃতাকে বিকৃত করে ইতিপূর্বে কয়েকটি পত্রিকা রিপোর্ট করায় মন্ত্রী ক্ষুব্ধ ছিলেন। সাংবাদিকেরা সামনে দেখে সেই ক্ষোভে মন্ত্রী কিছু কথা বলে ফেলেছেন। বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক!’
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, দেশে কোন আধিবাসী নেই। যে আলোচনা সনভা, টকশো কিংবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে ‘আধিবাসী’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু সরকারের একজন মন্ত্রী হয়ে মহসীন আলী ‘আধিবাসী’ অনুষ্ঠানে গিয়ে সাংবাদিকদের ভর্ৎসনা করলেন। বেঙ্গলিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম ডেস্ক
সাংবাদিকদের ‘খবিশ’, ‘চরিত্রহীন’ ও ‘লম্পট’ বললেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
আপডেট :August 10, 2014
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
