Skip to content

ডিএসবি’র আঃ হেলিম দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেঁসে যান ॥ প্রতারণার শিকার আনোয়ারা এখন বিচারপ্রার্থী

এম. নজরুল ইসলাম আজহার ॥ গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিএসবি’র উচ্চমান সহকারী আব্দুল হেলিম (৪৭) প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেঁসে গেলেন। দ্বিতীয় স্ত্রী বর্তমানে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনসহ তিনটি মামলা দিয়ে হাবুডুবু খাওয়াচ্ছেন আব্দুল হেলিমকে। তাছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে গাজীপুর জেলায় বিভাগী মামলা (নং ০১/১৪) রুজু করা হয়েছে। আব্দুল হেলিম পাশ্ববর্তী ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার নেওকা গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর পুত্র।
জানা যায়, স্ত্রী-সন্তান রেখে গোপনে বিয়ে করেছেন গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বড়বেড় গ্রামের মোছলে উদ্দিনের কন্যা আনোয়ারা খাতুন(২৩)কে। হেলিম ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা খাতুনের পরিবারের লোকজনের উপস্থিতিতে গাজীপুর শহরের কাজী মার্কেটের কাজী অফিসে ছয় লাখ পঞ্চাশ হাজার এক টাকা দেনমোহরানা ধার্য্য করিয়া মুসলিম শরীয়তের বিধান মোতাবেক নিকাহ্ রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করেন। ১ম স্ত্রীর কথা সম্পূর্ণ গোপন করে বর প্রতারণামূলক ভাবে নিকাহ্ নামার ২১নং কলামে বরের কোন স্ত্রী নেই উল্লেখ করেন। অথচ আব্দুল হেলিম এখন থেকে ২৩ বছর পূর্বে বিয়ে করেন। তাঁর ১ম পক্ষের স্ত্রী নাহিদা আক্তার মুন্নি, দু’পুত্র রাবিদ ও আবিদ রয়েছে।
আব্দুল হেলিম বিয়ের দিনই আনোয়ারাকে গাজীপুর শহরের ছায়াবীথি এলাকায় ভাড়া করা বাসায় উঠান। বিয়ের কয়েক মাস পর পাঁচ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য আনোয়ারাকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। যৌতুকের টাকা দিয়ে গাজীপুর সদর হাসপাতাল রোডে ফার্মেসী দিয়ে তার লভ্যাংশের টাকা দিয়ে আনোয়ারাকে ভরণ-পোষণ করাবেন। এমন প্রস্তাব আনোয়ারাকে তাঁর স্বামী দিলে সংসারে একাধিক বার ঝগড়া-বিবাধের সৃষ্টি হতো। প্রায় সময় ঝগড়ার আওয়াজ শুনে আসতো পার্শ্ববর্তী ফ্ল্যাটের লোকজন। এসব বিষয় নিয়ে অনেক সময় বাসার বাজার-সদাইও বন্ধ করা হতো। আনোয়ারাকে প্রায় সময় মানুসিক ও শারীরীক নির্যাতন সহ্য করতে হতো। স্বামী পুলিশ বিভাগে চাকুরি করায় অন্যরা নাক গলাতে সাহস পেতো না।
আনোয়ারার পিতাও অতি দরিদ্র। কলেজ পড়–য়া কন্যাকে পিতার সমতুল্য বরের কাছে ডিমান্ড ছাড়া বিয়ে দিয়ে পিতা কন্যার দায় থেকে মুক্ত হয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত গ্রামের অজোপাড়া গাঁয়ের কৃষক মোছলে উদ্দিনের ধারণাটা পাল্টে যায়।
অবশেষে আনোয়ারা তার স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গাজীপুর সিআর মোকদ্দমা (নং ১৫১৬/১৩, তারিখ ১৮/১১/১৩ খ্রিস্টাব্দ) দায়ের করেন। এ মামলার জামিন নিতে আসেন আব্দুল হেলিম; তার সাথে গ্রামের বাড়িতে রাখা পূর্বের স্ত্রী নাহিদা আক্তার মুন্নি, দু’পুত্র রাবিদ (২০) ও আবিদ(১১)। মামলার জামিন নামায় স্বাক্ষর করেন নাহিদা আক্তার মুন্নি। এতে ঘটনা ফাঁস হয়ে যায় পূর্বের স্ত্রী-সন্তানদের কথা। এবার সুচতুর আব্দুল হেলিম দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারার ফাঁদে কঠিন ভাবে পড়ে যান। আনোয়ারার নিকাহ নামার ২১নং কলামে উল্লেখ্য করে ছিলেন, বরের পূর্বের কোন স্ত্রী নেই। এ তথ্য গোপনের জন্য আনোয়ারা খাতুন ৪৯৫ দন্ডবিধি ধারায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত গাজীপুর সিআর মোকদ্দমা (নং ১৩/১৪, তারিখ ০৭/০১/২০১৪ খ্রিস্টাব্দ) দায়ের করেন।
অপরদিকে দেনমোহর আদায়ের জন্য সিনিয়র সহকারী জজ ১ম আদালত গাজীপুর সদর সিআর মোকদ্দমা (নং ৩৪৫/২০১৩) দায়ের করেন। এ তিনটি মোকদ্দমা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
আনোয়ারা খাতুন এসব বিষয় উল্লেখ্য করে আব্দুল হেলিমকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দেয়ার দরখাস্ত করেন মহা পুলিশ পরিদর্শক, পুলিশ সদর দপ্তর বরাবর। যার এন্ট্রি নং ১০৫, তারিখ ১২/০২/১৪ খ্রিস্টাব্দ। বিষয়টি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি’র অফিস হয়ে বর্তমানে গাজীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ সুপারের পক্ষে বিষয়টি তদন্ত করছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোঃ দেলোয়ার হোসেন পিপিএম।
এ বিষয়ে আব্দুল হেলিম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি তাকে (আনোয়ারা) বিয়ে করেছিলাম সংসার করার জন্যে। কিন্তু তাকে গাজীপুর শহরে বাড়ি কিনে না দেয়ার জন্য ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মোকদ্দমা সৃষ্টি কারে’।
এ বিষয়ে অঝোর ঝড়া কান্নায় আনোয়ারা খাতুন এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমরা গরীব, পিতার সমতুল্য বরের সাথে আমাকে বিয়ে দেয়া হয়, তাতেও দুঃখ ছিল না, হেলিম আমার সাথে প্রতারণা করেছে। তার (স্বামী) চাকুরি যে কয় বছর আছে, সেই কয় বছর সে আমাকে ভোগ করতো, তার পর ফেলে দিতো। আমি পুলিশ বিভাগসহ সর্ব আদালতে এর সূক্ষ্ম বিচার চাই’।

ডিএসবি অফিসের কেরানীর দাপট!
স্টাফ রিপোর্টার ॥ গাজীপুর ডিএসবি’র উচ্চমান সহকারী (কেরানী) আব্দুল হেলিমের বিরুদ্ধে স্ত্রী আনোয়ারা খাতুন তিনটি মামলা করেছেন গাজীপুর আদালতে। এসব মামলা হলো- নারী নির্যাতন ও যৌতুক, তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে এবং দেনমোহরানা আদায়। এসব মামলার স্বাক্ষী স্কুল শিক্ষক নূর মোহাম্মদ (৫১)। তাঁদের বিয়ের নিকাহ্ নামার কন্যা পক্ষের উকিল শ্বশুরও এ নূর মোহাম্মদ।
গত ১০ আগস্ট বিকাল আনুমানিক ৩টায় গাজীপুর শহরের দক্ষিণ ছায়াবীথি (ডি-১৩৮/১) এলাকায় আনোয়ারা খাতুনের ভাড়া বাসায় নূর মোহাম্মদ আসেন মামলার বিভিন্ন কাগজপত্রের প্রয়োজনে। পিছন দিয়ে আব্দুল হেলিম বাসায় গিয়ে নূর মোহাম্মদকে প্রচ- মারধোর করে আহত করে। নূর মোহাম্মদকে কিল-ঘুষি, লাথি-মুরা দিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে, তাকে ধরে নিয়ে আসেন গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিএসবি অফিসে। এসব কাজে আব্দুল হেলিমে সহযোগিতা করেন বাড়ীর মালিক চন্দন সরকার ও ডিএসবি অফিসের মূখচেনা কয়েকজন লোক। নূর মোহাম্মদকে হাজির করা হয় ডিএসবি’র ইন্সপেক্টর মমিনুল ইসলামের কক্ষে। মমিনুল ইসলাম নূর মোহাম্মদকে অনৈতিক কাজে ধরা পরার দায় স্বীকার করিয়ে মুচলেকা নেয়ার অপচেষ্টা করে ছিল। খবর পেয়ে এ প্রতিবেদক উপস্থিত হওয়ায় তা ব্যর্থ হয়। অবশেষে সাদা-মাঠা একটি মুচলেকা নিয়ে নূর মোহাম্মদকে ছেড়ে দেয়া হয়।
নূর মোহাম্মদ ছাড়া পেয়ে চিকিৎসা নেন গাজীপুর সদর হাসপাতালে।
এ বিষয়ে আব্দুল হেলিম এ প্রতিবেদককে বলেন, নূর মোহাম্মদকে আমি চিনি না। সে আমার অনুপস্থিতিতে বাসায় গিয়ে আমার স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিল।
এ বিষয়ে আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘নূর মোহাম্মদ আমাদের উকিল শ্বশুর। আমার স্বামীর সাথে এ বাসায় আরো কয়েকবার বেড়াতে এসেছিল। তিনি আমার তিনটি মামলার স্বাক্ষী। আদালতে স্বাক্ষী না দেয়ার জন্য তাকে মারধোর করেছেন, যাতে ভয়ে স্বাক্ষী না দেন’।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫