বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ সরকার পতন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে গত আট মাসে বিএনপি কয়েকবার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিলেও কার্যত কয়েকটি মিছিল মিটিং’এর পর আর তাদের রাস্তায় পাওয়া যায়নি। ঈদের পর সরকারের পদত্যাগের দাবির আন্দোলন রোজায় বেশ হাঁকডাক দিয়ে ঘোষণা দেয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোন তৎপরতা চোখে পড়ছে না। নির্বাচনের পর দল গুছিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নামার কথা বলা হলেও গত ৭/৮ মাসে ঢাকা মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন ছাড়া আর কিছুই করা সম্ভব হয়নি। আর রাজপথের অন্যতম শক্তি ছাত্রদলের পুর্নগঠনের কথা থাকলেও তাও করা সম্ভব হয়নি। বারবার সরকার বিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়ে তা করতে না পারা এবং দলের পুনর্গঠন করতে ব্যর্থ হওয়া কর্মীদের মনোবল নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলের কর্মীদের মনোবল ও ইমেজ ধরে রাখতে হলে বিএনপির সামনে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক পিয়াস করিম আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, দলের ভেতর বিএনপি কতটা সুসংগঠিত তা আমরা বাইরে থেকে বলতে পারি না। তবে বাইরে থেকে যতটুকু বোঝা যায় তাতে বলতে পারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ে সমন্বয়ের অভাব আছে। এছাড়া নেতৃত্বের কোন্দল চোখে পড়ার মত। কিন্তু তারপরেও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ছাড়া তাদের সামনে কোন পথ খোলা নেই। যদি দলীয় কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে হয় এবং জনগণের আকাঙ্খার বাস্তবায়ন ঘটাতে চায় তাহলে তাদের সামনে আন্দোলনের বিকল্প কিছু নেই। নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময়েও কোন দলকে গোছানো গেল না, এর ব্যর্থতা নেতৃত্বের পর্যায়ের কেউ এড়াতে পারবে না। বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে রয়েছে তা বোঝা যায়।
এবারের সরকার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াতের তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলেই বিএনপি আন্দোলনে নামতে পারছে না বলে বিএনপির তৃণমূলের অনেক নেতাই মনে করেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত যেন বিএনপির সাথে যোগ না দেয় সে বিষয়ে সরকারের উদ্যোগও যথেষ্ট সফল হয়েছে বলে মনে করেন তারা। জামায়াত নেতা আবু রায়হান বলেন, জামায়াত নেতাদের ফাঁিসর বিরুদ্ধে বিএনপি কোন ভূমিকা রাখেনি। এছাড়া সরকার বিরোধী আন্দোলনে জামায়াত-শিবির একাই মাঠে থেকেছে বিএনপিকে পাশে পাওয়া যায়নি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে জামায়াত-শিবিরের কয়েক’শ নেতা-কর্মী নিহত ও ১০ হাজারেরও বেশি কর্মী পঙ্গু হয়েছে। এভাবে রাজপথের আন্দোলনে জামায়াত একাই মার খাবে আর বিএনপির কর্মীরা বসে থাকবে তাকে তো যৌথ আন্দোলন বলা যাবে না। তাই জামায়াতের র্কর্মীদের পক্ষ থেকে নেতাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জামায়াত একাই যথেষ্ট, পাশে বিএনপির দরকার নেই।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আতাউর রহমান বলেন, ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী। তাদের সাংগঠনিক শক্তি এই জোটের অন্য যেকোন দলের চেয়ে ভালো। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গেলে জামায়াতের অংশ গ্রহণ ছাড়া ২০ দলীয় জোট করতে পারবে বলে মনে হয় না। জামায়াতের সাথে সরকারের যে বোঝাপড়ার কথা বলা হচ্ছে তা যদি সত্যিই হয়ে থাকে তাহলে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলনের শক্তি অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য ব্যারিস্টার মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জামায়াতের সাথে সরকারের কোন বোঝাপড়া বা আঁতাত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। অনির্বাচিত অবৈধ সরকারের পতনের মধ্যদিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক সকল আন্দোলনকেই জামায়াত সমর্থন করে।
এদিকে সম্প্রচার নীতিমালা ও গাজা হামলার প্রতিবাদে আগামী ১৯ আগস্ট রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ সভা করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। মূলত ঈদের পর সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের যে ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি তারই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এছাড়াও ঢাকাসহ সারাদেশে ১৬ আগস্ট কালো পতাকা মিছিল হবে। পাশাপাশি আগামী ২১ থেকে ৩০ আগস্ট ২০ দলের নেতারা সারাদেশে গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করবে।
