Skip to content

পিনাক-৬: লঞ্চের দাম ১১ লাখ, ঘুষ ১২ লাখ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥

পিনাক মালিক {ভড়পঁংথশবুড়িৎফ} পিনাক-৬: লঞ্চের দাম ১১ লাখ, ঘুষ ১২ লাখ ঞটকট চওঘঅক ৬ ২১ ব১৪০৭৯৪৯৯১৮৩৮৩ঢাকা: চার বছর আগে চলাচল অযোগ্য ২৩ বছরের পুরনো লঞ্চ পিনাক-৬ কেনা হয়। কাগজপত্রবিহীন লঞ্চটির ফিটনেসসহ চলাচল উপযোগী সব ধরনের কাগজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ১২ লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সংগ্রহ করা হয়।

কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে ঘুষের বিনিময়ে এই কাগজপত্র সংগ্রহ করেছেন তা সবই অকপটে স্বীকার করেছেন পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক ওরফে কালু মিয়া।

তার স্বীকারোক্তি মতে, চার বছর আগে ১১ লাখ টাকায় ২৩ বছর পুরনো এমএল পিনাক-৬ লঞ্চটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মনিরুজ্জামান খানের কাছ থেকে কেনেন কালু মিয়া। এখনও মালিকানা নাম পরির্বতন করা হয়নি।

লঞ্চের সুকানি (চালক) গোলাম নবী বিশ্বাস ও ইঞ্জিন অপারেটর (গ্রিজার) সিরাজুল ইসলাম ৮ লাখ টাকা দিয়ে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের কাছ থেকে যোগ্যতা সনদ নিয়েছেন। বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক (মেরিন সেফটি) এম ডি শামসুল আরেফীন ২ লাখ টাকার বিনিময়ে এমএল পিনাক-৬ এর জরিপ সার্টিফিকেট দেন। সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মির্জা সাইফুর রহমানকে ২ লাখ টাকা দিয়ে পিনাক-৬ এর নামে যাত্রীবাহী ও মালবাহী নৌযান সার্ভের সনদ নেয়া হয়েছে। এমনকি সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মুঈন উদ্দিন জুলফিকারের কাছ থেকে টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট নেয়া হয়েছে।

বুধবার চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে পিনাক-৬ এর মালিক আবু বকর সিদ্দিক কালু মিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে এমনই তথ্য দেয়া হয়েছে।

আবু বকর সিদ্দিক আরো জানান, ডুবে যাওয়া লঞ্চে নৌ-মন্ত্রীর তিন আত্মীয় মারা যাওয়ায় তিনি ভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন।

পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চের মালিক আবু বকর সিদ্দিক গ্রেপ্তার বিষয়ে বুধবার দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান, র‌্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান এবং র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১১ এর কর্মকর্তারা।

কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘গ্রেপ্তার লঞ্চ মালিকের বিরুদ্ধে ৩টি মামলা হয়েছে। লৌহজং থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১১ এর সহায়তায় মঙ্গলবার ভোর সোয়া ৩টায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুড়িং থানার আগ্রাবাদ হাউজিং এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

গ্রেপ্তারকৃত আবু বকর সিদ্দিক আরো জানান, পিনাক-৬ লঞ্চটি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মেসার্স নেছারাবাদ ওয়াটার ওয়েজ প্রতিষ্ঠানের মালিক মনিরুজ্জামান খানের কাছ থেকে কেনেন। লঞ্চটি ফিটনেসবিহীন অবস্থায় অনেক দিন পড়ে ছিল। অধিক লাভের আশায় তিনি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ঘুষ দিয়ে লঞ্চটি চলাচলের জন্য সব কাগজপত্র সংগ্রহ করেন। লঞ্চটির তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তার বড় ছেলে লিমন (২৭) এবং তার ভাতিজা রাতুল (২৩)। পিনাক-৬ লঞ্চ ছাড়াও একই রুটে মাওয়া এক্সপ্রেস নামক আরেকটি লঞ্চ রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-মাওয়া রোডের ইলিশ পরিবহনের একজন অন্যতম অংশীদার।

গত ৪ আগস্ট মুন্সিগঞ্জের মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌ-রুটের লৌহজং চ্যানেলে এফভি পিনাক-৬ লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চে যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮৬ জন থাকলেও দুর্ঘটনার দিন দুই শতাধিক যাত্রী তোলা হয়। ডুবে যাওয়ার পর পরই কয়েকটি সি-বোটের মাধ্যমে বেশ কিছু যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

এ দুর্ঘটনায় ৪৭ জনের লাশ দেশের বিভিন্ন নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এর মধ্যে ১৭টি লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সরকারী হিসাবে বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছে ৬১ জন, তার মধ্যে ২১টি শিশু, ২৪ জন নারী ও ১৬ জন পুরুষ।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫