বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন। দুই মেয়ে আছেন। কিন্তু, তারাও আর্থিকভাবে সচ্ছ্বল নন। নিজের চিকিৎসার কোনো ব্যয় বহন করার সাধ্য নেই।
তিনি ৫২-এর মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদ রফিক, জব্বার বরকতের সঙ্গী ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন। সারাদেশে তিনি ‘ভাষা মতিন’ নামেই পরিচিত।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিইউতে এখন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন তিনি।
তবে চিকিৎসার কোনো কমতি নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। আলাদা মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার চিকিৎসা সেবা দিয়ে চলছেন শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
নিউরোসার্জন বিভাগের প্রধান ডা. আব্দুল্লাহ’র তত্ত্বাবধানে একটি একটি মেডিকেল বোর্ড তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের রেজিস্ট্রার মো. সাইদুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দিন রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে তাকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ভাষামতিনের শারীরিক অবস্থাকে ‘খুবই আশঙ্কাজনক’ পর্যয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
শরীরের অবস্থা বিবেচনায় তাকে এখন অপারেশন করা হচ্ছে না। তবে এই অবস্থার উন্নতি না হলে তার অপারেশন প্রয়োজন। কিন্তু ৮৮ বছর বয়সে অপারেশন করা খুবই ঝুঁকিপুণ। অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যেই তার অপারেশন সম্পন্ন করতে তিনিসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান ডা. সাইদুর।
হাসপাতালে ভাষামতিনের শয্যাপাশে এখন কাউকে থাকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে আইসিইইউয়ের বাইরে হাসপাতালের বারান্দায় পালা করে থাকছেন ভাষামতিনের ঘনিষ্ঠজনেরা।
এদের একজন মাওলানা ভাসানী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবু নোমান জানান, তারা সব সময় ভাষাসৈনিক মতিন উদ্দিনের পাশে রয়েছেন। তার সংগঠনের নেতারা এখানে পালা করে অবস্থান করছেন।
আবু নোমান আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ভাষামতিনের চিকিৎসার ব্যাপারে এগিয়ে আসবেন। প্রয়োজনে তাকে বিদেশেও নিয়েও যেন চিকিৎসা দেওয়া হয়!
এ সময় তিনি বলেন, ভাষামতিন আর্থিকভাবে সচ্ছ্বল নন। দেশের কোথাও চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থকড়ি তার নেই। ভাড়া ভাষায় থেকে জীবন-যাপন করেন। দুই মেয়ের আর্থিক অবস্থাও তেমন একটা ভালো নয়।
