Skip to content

বিমানবন্দরের যাত্রীবাহী কার থেকেও চাঁদাবাজি ট্রাফিকের!

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে যাত্রী পরিবহনকারী প্রাইভেট কার থেকে মাসে ৪৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে ট্রাফিক পুলিশ। বিমানবন্দরের বাইরে খিলক্ষেত, আব্দুল্লাহপুর, ভাটারা নতুন বাজার ও কুড়িল ফ্লাইওভারের পশ্চিম দিকে ৩০০ ফুট রাস্তায় কর্তব্যরত সার্জেন্টরা যাত্রী পরিবহনকারী গাড়িগুলো থেকে বিশাল অংকের এ চাঁদা ওঠান।

বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহনকারী গাড়ির মালিকরা বাংলানিউজের কাছে এ অভিযোগ করেন। তারা বলেন, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী নিয়ে বের হওয়া গাড়ি থেকে টাকা না দিলে ট্রাফিক সার্জেন্টরা বিভিন্ন হয়রানি করেন। আর হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এ টাকা দিয়ে আসছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি, বিশেষ করে যারা শ্রমিক তারা বিমানবন্দরে নামার পর গাড়ি ভাড়া করেন। প্রতিদিন বিমানবন্দর থেকে কমপক্ষে ৫০০টি গাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যায়। আর এ সকল গাড়ি বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই খিলক্ষেত, আব্দুল্লাহপুর, নতুন বাজার এবং কুড়িল ফ্লাইওভারের পশ্চিম পাশে ৩০০ ফুট রাস্তায় কর্তব্যরত সার্জেন্টরা গাড়ির গতিরোধ করেন। এ সময় তারা গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা নেন। আর ৫০০টি গাড়ি থেকে তারা যদি প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে নেন, তাহলে একদিনে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হয়। আর মাসে এ টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লাখ টাকায়। কোনোন কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক সার্জেন্টরা শুধুমাত্র এই একটি স্থান থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, আগে থেকে পার্কিং করা গাড়ি ছাড়াও যাত্রীদের নিজ জেলা থেকে আসা গাড়ি থেকেও সমপরিমাণ টাকা নেন সার্জেন্টরা।

গাড়ির মালিকরা অভিযোগ করেন, গাড়ি প্রতি ৩০০ টাকা না দিলে বিভিন্ন ধরনের কথা বলে মামলা দেন। আর মামলায় ১ হাজার ৪শ’ টাকা জরিমানা দিতে হয়। মূলত জরিমানা ও মামলা এড়াতেই বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়।

তারা অভিযোগ করেন, জরিমানা করা গাড়ি যদি পরবর্তীতে আবার দেখতে পান, তবে একই রকম আচরণ করেন সার্জেন্টরা। যতোদিন না পর্যন্ত ওই গাড়ি থেকে টাকা না দেওয়া হবে ততোদিন তারা কোনো না কোনোভাবে হয়রানি করে যাবেন।

গাড়ির মালিক জাকির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমার এয়ারপোর্টে ৫টি গাড়ি চলে। গাড়ি যাত্রী নিয়ে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে রওনা হলেই এ ৪ স্থানের যেকোনো স্থানে টাকা দিতে হবে। বিভিন্ন হয়রানির কারণে আমরা এখন টাকা দিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো রাজনৈতিক নেতার গাড়ি এমন পরিচয় দিলে সার্জেন্টরা আরো বেশি ক্ষিপ্ত হন। সে কারণে আমরা যারা এয়ারপোর্টে গাড়ির ব্যবসা করি সার্জেন্টদের এ অন্যায় দাবি মেনে নিয়েই ব্যবসা করে যাচ্ছি। এর প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি।

তাদের অভিযোগ, সার্জেন্টরা উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে চলেন বলেই আমরা একাধিকবার এ অভিযোগ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর ট্রাফিকের যুগ্ন কমিশনার মোসলেহ উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ট্রাফিক উত্তরের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাংলানিউজকে বলেন, এ ধরনের টাকা নেওয়ার খবর আমরা জানি না। তবে কেউ যদি এ বিষয়ে আমাদের কাছে নির্দিষ্ট করে অভিযোগ করেন তাহলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবো। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫