Skip to content

ফারুকীর দাফন শনিবার, রোববার সারাদেশে হরতাল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার সারা দেশে হরতালের ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রসেনা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে মিছিল করে ছাত্রসেনার নেতা-কর্মীরা। এ সময় তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবির পাশাপাশি রোববার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের আহ্বান জানায়। মিছিলটি প্রেসক্লাব হয়ে জাতীয় ঈদগাঁও ময়দানে এসে শেষ হয়।

এদিকে শুক্রবার পবিত্র জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাঁও ময়দানে মাওলানা ফারুকীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার পঞ্চগড়ে বড়শ্বশীতে নিজ গ্রামে পঞ্চমবারের জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

জাতীয় ঈদগাঁও ময়দানে মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকীর নামাজে জানাজায় বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের নেতাকর্মীসহ তার ভক্ত ও অনুসারীরা অংশ নেয়। বায়তুল মোকারমের খতিব মাওলানা মো. সালাহ উদ্দিন জানাজা নামাজ পরিচালনা করেন।

মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী হাইকোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আতের একজন কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারক ও ইসলামিক মিডিয়া নামে একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে চ্যানেল আইয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের উপস্থাপক হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি।

বুধবার রাতে ফারুকীকে (৬০) রাজধানীতে নিজের বাসায় গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। সেই রাতেই ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যদিও মামলায় আসামি হিসেবে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ফারুকীর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে অবরোধ ও বিক্ষোভ হয়েছে। রাজধানী ঢাকাতেও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত, সুন্নি আন্দোলন, ইসলামী ছাত্রসেনাসহ বেশ কিছু সংগঠন।

ফারুকীর হত্যাকারীদের গ্রেফতারে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময় বেঁধে আলটিমেটাম দিয়েছে ইসলামী ছাত্রসেনা।

মাওলানা শায়েখ নূরুল ইসলাম ফারুকী ১৯৫৯ সালের ২৪ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলার বড়শ্বশী ইউনিয়নের নাউতারী নবাবগঞ্জ গ্রামে সভ্রান্ত আলেম মাওলানা জামসেদ আলীর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। নীলফামারী জেলাধীন ডোমার থানার অন্তর্গত তিনিহাটি জামেউল উলুম সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে ১৯৭৫ সালে দাখিল এবং পরবর্তীতে আলিম পাশ করেন। ১৯৭৯ সালে প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী শারসিনা দারুল সুন্নাত আলিয়া মাদ্রাসা (বরিশাল) থেকে কামিল (হাদিস বিভাগ) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮১ সালে নীলফামারী সরকারি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে মানবিক বিভাগে স্নাতক করেন।

ঢাকাসহ বিভিন্ন মসজিদে ৩৩ বছর ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন আলিয়া মাদ্রাসায় ১৫ বছর শিক্ষকতা, রেডিও, টেলিভিশনে ২৫ বছর ওয়াজ নসিয়তে অনুষ্ঠান করেন। চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত ‘কাফেলা’ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অনুষ্ঠানটির জন্য তিনি মুসলিম বিশ্বের ১০টি দেশে ভ্রমণ করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের সুন্দর ও সঠিক নিয়মে পবিত্র হজ পালনে ২৫ বছর ধরে হজ কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। শেষ জীবনে হজরত শরফদ্দিন চিশতির দরবারে খাদেম ও হাইকোর্ট জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

জীবদ্দশায় তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন বলে তার পরিবার সূত্র জানিয়েছে। তার বইগুলো সুফিবাদ ভিত্তিক। সবশেষে ‘মারেপুল হারামাই’ নামে একটি বই লিখেছেন। বইগুলোতে ইসলামের আদি বা অবিক্রিত রূপগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরেছেন। মাওলানা ফারুকী সংসার জীবনে দুই বিয়ে করেন। তার দুই সংসারে দুই মেয়ে, চার ছেলে রয়েছেন। ছেলেরা হলেন- মাসুদুর ফারুকী, আহমেদ রেজা ফারুকী, ফয়সাল ফারুকী, মো. ফুয়াদ ফারুকী। মেয়েরা হলেন- হুমায়রা তাবচ্ছুম তুবা, লাবিবা লুবা। এদের মধ্যে মাসুদ এবং দুই মেয়ে আগের সংসারের। ফারুকীর প্রথম স্ত্রী রাজধানীর মালিবাগে থাকেন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫