Skip to content

গাছ কেটে পার্কিং!

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: রাজধানীতে বসবাসকারীদের গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধার্থে ওসমানী উদ্যানের গাছ কেটে পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির প্রকল্প নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে (ডিএসসিসি)। তবে এ প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব না হলে তা বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম।

রাজধানীতে একটি পার্কিং ব্যবস্থার জন্য ওসমানী উদ্যানের জায়গাটি নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি। উদ্যানের উত্তর-পূর্ব পাশের (সচিবালয়ের পাশে) প্রায় তিন বিঘা জায়গা জুড়ে মাটির নিচে নির্মাণ করা হবে ৪ বেসমেন্ট বিশিষ্ট বিশাল একটি কার পার্কিং ভবন। পুরো বেসমেন্টটির জন্য ৩০ হাজার বর্গফুট জায়গা নির্ধারণ করেছে ডিএসসিসি। এটি নির্মাণে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে একটি সূত্র জানায়।

ডিএসসিসি সূত্র জানায়, নগরীর যানজট নিরসন ও নাগরিকদের পার্কিং সুবিধা দেওয়ার জন্য রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে একটি পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির প্রকল্প নিয়ে গত কয়েক দিনে শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত সোমবার বুয়েটের স্থাপত্য ও পুরকৌশল বিভাগের দুইজন অধ্যাপক, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নেতাদেরর সঙ্গে ডিএসসিসি’র শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। এতে ডিএসসিসি’র প্রশাসক ইব্রাহিম আহমেদ খান উপস্থিত ছিলেন।

একটি সূত্র জানায়, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কর্মকর্তাদের ভেতরে ভেতরে আগে থেকেই আলোচনা চলছিলো।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মতিঝিল ও গুলিস্থান এলাকার যানজট অনেকটা কমে যাবে। এতে নগরীতে যানজটের বড় একটা চাপ কমে যাবে বলে ধারণা করছে ডিএসসিসি।

এদিকে সচিবালয়ের গাড়িগুলো এ উদ্যানের পাশে পার্কিং করে রাখা হয়। এতে এ রাস্তায় সৃষ্টি হয় যানজটের। যদি এখানে বেসমেন্ট পার্কিং তৈরি করা হয় তবে সচিবালয়ের গাড়িগুলো এ পার্কিং ব্যবহার করতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বাংলানিউজকে বলেন, এটা কল্পনা করা হয়েছে মাত্র। এমন একটা কাজ হতে পারে। কিন্তু প্রকল্প হিসেবে এখনো ধরা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই হয়নি। প্রশাসক মহোদয় সোমবার শীর্ষ কর্মকর্তা ও পরিবেশবিদদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তবে পরিবেশবিদরা এতে কিছু অসুবিধা ও সমস্যা তুলে ধরেছেন। এ বিষয়ে আরো আলোচনা হবে। আমরা পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে তারপর এটিকে প্রকল্পের অধীনে আনতে পারবো। তবে পরিবেশবিদরা বলেছেন, এই স্থাপনা তৈরি হলে পরিবেশের প্রচণ্ড ক্ষতি হবে।

ডিএসসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী আরো জানান, পরিবেশবিদরা বলেছেন, রাজধানীতে একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের তেমন ব্যবস্থা রাজধানীতে নেই। জমে থাকা পানি সরে যাওয়ার জন্য মাটির প্রয়োজন হয়। আর যদি এখানে মাটির নিচে কংক্রিট দেওয়া হয় তবে ওই জায়গার মাটি ও পানির স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে করে এ উদ্যানটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা পরিবেশের বিপক্ষে যায় বলে তাদের ধারণা।

তিনি বলেন, রাজধানীর যানজট নিরসনই নয়, মূলত এখানে কোনো পার্কিং ব্যবস্থা নেই। এখানে একটি পার্কিং ব্যবস্থা হলে মতিঝিল, গুলিস্থান ও এর আশপাশের এলাকার মানুষের উপকার হবে। মানুষ নিশ্চিন্তে এখানে গাড়ি পার্কিং করে রাখতে পারবে।

বিশাল আয়তনের ওসমানী উদ্যানটি নানা অবকাঠামো তৈরির কারণে এখন অনেক ছোট হয়ে গেছে। বর্তমানে এ উদ্যানটির আয়তন ২৩ একর। ৩ বিঘা জায়গা নিয়ে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে নানাবিধ অসুবিধার মুখোমুখি হতে হবে, পাশাপাশি বেশ কিছু সুবিধাও হবে রাজধানীবাসীর।

অসুবিধা
এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওসমানী উদ্যানের অসংখ্য গাছ কাটা পড়বে। গাছ কাটা পরিবেশগত উন্নয়নের পক্ষে একটি বড় বাধা। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ পার্কিং তৈরির প্রকল্পটি পরিবেশবান্ধব নয়। এছাড়াও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় রাজধানীবাসীর হাঁটা-চলা এবং অবসর বিনোদনের এ কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে যাবে।

সুবিধা
মতিঝিল ও গুলিস্থানসহ এর আশপাশের এলাকার যানজটের অনেকটাই নিরসন হবে। রাজধানীবাসী তাদের গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য একটি পার্কিং ব্যবস্থা পাবেন। অহেতুক সচিবালয়ের সামনে গাড়ি পার্কিং বন্ধ হবে।

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উদ্যানের ভেতরে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকানপাট। এগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে চা, পান ও সিগারেট। সচিবালয়ের সামনে থাকা উদ্যানের প্রবেশ পথের ফটকে লাল কালিতে বড় করে লেখা আছে, ‘পাবলিক প্লেস ধুমপানমুক্ত রাখুন-সৌজন্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন’। কিন্তু কারো কোনো তোয়াক্কা না করে উদ্যানের ভিতরে থাকা দোকানিরা বিক্রি করছেন সিগারেট। যা উদ্যানটির পরিবেশের জন্য বড় হুমকি।

উদ্যানের ভেতরে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এতে উদ্যানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তেমন কোনো কার্যকর নজরদারি নেই। বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫