বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তিতে শাস্তি, ইসলাম নিয়ে নয় কেন
বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ হেফাজতে ইসলামের আমির শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন, “বর্তমানে দেশে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর অবমাননার জন্য ৭-১৪ বছরের জেল ও এক কোটি টাকা আর্থিক জরিমানার আইন করে তা কার্যকরও করা হচ্ছে, অথচ কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ের স্পন্দন মহানবী ও ইসলামের অবমাননাকারীর দৃশ্যত কোনোই শাস্তি হয় না।”
পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফেরার পর বুধবার বিকেলে এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম পবিত্র হজ, বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে চরম সীমালংঘনকারী বক্তব্য ও বেয়াদবির দায়ে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে শুধু মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারই যথেষ্ট নয়। বরং ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে কঠোর আইন পাশ করতে হবে। অন্যথায় দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিঘ্নের জন্য ইসলাম ও দেশের শত্রুদের অপতৎপরতা রোধ করা সম্ভব হবে না।”
হেফাজত আমিরের প্রেস সচিব মাওলানা মুনির আহমদ প্রেরিত এ বিবৃতিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হেফাজত আমির স্পষ্ট করে বলেন, “মহানবী রাসূল (সা.) ও হজের বিরুদ্ধে জঘন্য বক্তব্য দেয়ার পর এই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী কোনো অবস্থাতেই আর মুসলমান নেই। নিঃসন্দেহে সে ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে বেঈমান ও মুরতাদ হয়ে গেছে। কারণ, হজ ইসলামের মূল ভিত্তি বা রোকনের অন্যতম একটি রোকন। ইসলামের রোকন অস্বীকারকারী কখনোই মুসলমান বলে বিবেচিত হয় না।”
আল্লাহতায়ালা সূরায়ে আল-ইমরানের ৯৭নং আয়াতে বলেছেন, “মানুষের মধ্যে যারা বায়তুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য রাখে, তাদের উপর আল্লাহর উদ্দেশে বায়তুল্লাহর হজ করা ফরয। আর কেউ যদি তা অস্বীকার করে, তাহলে তোমাদের জেনে রাখা উচিত, আল্লাহতায়ালা সৃষ্টি জগতের প্রতি মুখাপেক্ষী নন।”
এ বিধানকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করে লতিফ সিদ্দিকী আল্লাহ এবং রাসূলের সঙ্গে চরম বেয়াদবি করেছেন। হেফাজত আমীর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে শুধু এটা যথেষ্ট নয়। অবিলম্বে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির আইন পাশ করে এই বেঈমান ও মুরতাদকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।”
আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে ইসলামের রুকন পবিত্র হজ ও হাজিদের কটাক্ষ করা এবং মহানবীকে (সা.) বিদ্রুপাত্মক ভাষায় তাচ্ছিল্য করার যে স্পর্ধা দেখিয়েছে, বিশ্বের কোথাও কোনো বিধর্মী ও মুরতাদও সরকারি পদে থেকে আজ পর্যন্ত এমন ব্যঙ্গ করার দুঃসাহস দেখায়নি। তার কথায় ১৫০ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মুরতাদ আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী শুধু মহানবী, হজ ও তাবলীগ জামাত নয়, বরং মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের মারাত্মক সুনামহানিও করেছে।
তিনি বলেন, “ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ পবিত্র হজ একটি ফরয ইবাদত। এই সম্পর্কে কটূক্তি করার এখতিয়ার কারো নেই। কোনো মুসলমান পবিত্র হজের বিরোধিতা করতে পারে না। কোনো মুসলমান হজের বিরোধিতা করলে তার ঈমান থাকে না। তাছাড়া মহানবী (সা.) পৃথিবীর দেড়শ’ কোটি মুসলমানের কাছে নিজের জীবনের চাইতেও প্রিয় ব্যক্তিত্ব।”
তিনি মানবতার মুক্তির দূত এবং মহান আল্লাহর প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী। কোনো মুসলমান তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সাথে তার নাম উচ্চারণ করতে পারে না। তার নাম শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করে দরূদ পাঠ করা সকল মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য।
হেফাজত আমির প্রশ্ন রেখে বলেন, “যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি বছর হজ ও ওমরাহ পালন করেন, হাজিদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সেবামূলক নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়, বিশ্ব ইজতিমার সফল আয়োজনে নানা আয়োজন করা হয় এবং আখেরি মুনাজাতে শরিক হন, রাসূলের মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন, তার দলের মন্ত্রী হয়ে লতিফ সিদ্দিকী কিভাবে হজ ও তাবলীগের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার সাহস খুঁজে পায়, বোধ গম্য নয়। এটা শুধু ইসলামদ্রোহিতা নয়, দেশদ্রোহিতারও শামিল। এটা দেশের শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও ইসলামবিরোধী গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ ছাড়া আর কিছু নয়।”
হেফাজত আমির বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে এক শ্রেণীর লোকজন যে হারে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে কটূক্তি ও অবমাননাকে একটা ফ্যাশনে পরিণত করেছে, বিশ্বের কোথাও সরাসরি ইসলামের বিরুদ্ধে এমন ঘটনা দেখা যায় না।”
ইসলাম ও মুসলিম জাতিসত্তার পক্ষে কেউ কথা বললেই তাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। মুক্তমনা ও সাংস্কৃতি চর্চার নামে কার্যত ইসলাম ও মুসলমানদেরকে টার্গেটে পরিণত করে তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে অহরহ। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে এমনটা কখনোই চলতে পারে না, চলতে দেয়া যায় না।
আমাদের মনে রাখতে হবে, এদেশকে স্বাধীন করা হয়েছে জুলুম-অত্যাচার ও নিপীড়নের হাত থেকে জাতিকে রক্ষা করতে, ইসলাম ও মুসলমানদের উপর আঘাত হানার জন্য নয়। ইসলাম ও মুসলিম চেতনার বিপক্ষে যারা কথা বলে, তারা দেশ ও জাতির দুশমন।
তিনি বলেন, “দৃশ্যত সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাসের নীতি বাদ দেয়া এবং ধর্মহীন শিক্ষানীতি প্রবর্তনের পর থেকেই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ধর্মহীনতার চর্চা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “দেশে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির উপর হামলা ও আক্রমণের ঘটনাকে আমরা সবসময় নিন্দা করি, দোষীদের বিচার দাবি করি। সরকার এ ধরনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তি বিধান ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত উপাসনালয় বিনির্মাণে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে সেনাবাহিনীকে দিয়ে কাজ করান ভালো কথা।”
সরকারি অর্থে পুনর্নির্মিত রামুর বৌদ্ধ মন্দির ও মূর্তিসমূহ পর্যটকদের জন্য দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। কিন্তু ইসলাম ও মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানা, মসজিদ পুন:নির্মাণ ও ওয়াজ-মাহফিলের নিরাপত্তা বিধানে সরকারের এমন উৎসাহী তৎপরতা তো চোখেই পড়ে না।
সরকারে প্রতি আল্লামা শফীর প্রশ্ন
আপডেট :October 23, 2014
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
