বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥ জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের জানাজা আজ বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রাতে তার পুত্র সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী এ তথ্য জানান। বায়তুল মোকাররমে জানাজা আয়োজনের অনুমতি নেয়ার জন্য জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি। এদিকে গোলাম আযমের মরদেহ একনজর দেখতে তার মগবাজারের বাসায় ঢল নেমেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন গোলাম আযম। রাত সাড়ে ৩টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়। ডা. একেএম শফিকুজ্জামান ও ডা. প্রদীপ কুমার বিশ্বাস ময়না তদন্ত সম্পন্ন করেন। এরপর গতকাল সকালে মরদেহ তার মগবাজারের বাসায় নিয়ে গেলে নেতাকর্মী সমর্থকরা সেখানে ভিড় জমান। তারা গোলাম আযমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দলে দলে ছুটে যান। আবদুল্লাহিল আমান আযমী জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী অথবা নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে অধ্যাপক গোলাম আযম তার জানাজার নামাজ পড়ানোর অসিয়ত করে গেছেন। তিনি বলেন, আমার বাবা যেহেতু জামায়াতে ইসলামীর নেতা ছিলেন তাই তিনি মৃত্যুর আগে আমাকে বলেছেন দলের প্রধান মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী যেন তার জানাজার ইমামতি করেন। তখন আমি তাকে জানিয়েছি, তিনি কারাবন্দি আছেন। এর পরে তিনি বলেন, দলের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী যেন তার জানাজার ইমামতি করেন। তখন তাকে জানানো হয়, তিনিও কারাবন্দি। এরপর তিনি আর কোন কথা বলেননি।
দ্বিতীয়ত, তিনি আরও বলেছেন, মগবাজারে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে যেন তাকে সমাহিত করা হয়। ওদিকে নিজামী-সাঈদী দু’জনেই কারাগারে আছেন। এ ক্ষেত্রে গোলাম আযমের জানাজা পড়াতে আইনগত কোন বাধা আছে কিনা জানতে চাইলে তার আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, আইনগত কোন বাধা নেই। প্যারোলে মুক্তি দেয়ার বিধান আছে। সরকার চাইলে এই মানবিক আবেদন রাখতে পারে। তবে আওয়ামী লীগ নেতা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গতকাল গোলাম আযমের পুত্রের এ আবেদন নাকচ করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি অযৌক্তিক। এ পর্যায়ে পুত্র আযমী নিজেই পিতার জানাজা পড়াবেন বলে সাংবাদিকদের জানান। অধ্যাপক গোলাম আযমের ইন্তিকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। তারা বলেন, মিথ্যা মামলায় আটক থাকা অবস্থায় জীবনের শেষ প্রান্তে পরিবারের সান্নিধ্য থেকে ও উন্নত চিকিৎসাবঞ্চিত গোলাম আযমের এ মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। অধ্যাপক গোলাম আযম এ দেশের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-আন্দোলন, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং বাংলাদেশে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির রূপকার হিসেবে দেশের রাজনীতিতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি ১৯৪৭-৪৯ সাল পর্যন্ত দু’বার ডাকসু’র জিএস নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত জিএস হিসেবে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনে তার ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি ১৯৪৮ সালের ২৭শে নভেম্বর বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের কাছে ঐতিহাসিক স্মারকলিপি উপস্থাপন করেন। ভাষা আন্দোলনের কারণে তদানীন্তন সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম গোলাম আযমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে।
গায়েবানা জানাজা
রাজশাহী : গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা গতকাল বাদ জুমা রাজশাহী হেতেম খাঁ গোরস্তান মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন মহানগর জামায়াতের সাবেক আমীর আতাউর রহমান। রাজশাহী সিটি করপোরেশন মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মহানগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক আবুল হাশেম, সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজাহারুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা: এখানেও অধ্যাপক গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা হয়েছে। বাদ জুমা নগরীর নিউ মার্কেট বায়তুন নূর মসজিদের উত্তর গেটে খুলনা মহানগরী এ গায়েবানা জানাজা হয়। খুলনা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইমরান হুসাইনের ইমামতিতে জানাজায় মহানগরী নায়েবে আমীর মাস্টার শফিকুল আলম, সেক্রেটারি অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট শাহ আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভোলাহাট (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) : উপজেলার বজরাটেক শবজা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কারী আলাউদ্দিন জানাজার ইমামতি করেন। বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবদুল মালেক। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা গোলাম কবির, নায়েবে আমীর মাস্টার শাহজাহান আলী প্রমুখ।
নাটোর: অধ্যাপক গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাদ জুমা শহরের বলারীপাড়া ঈদগাহ মাঠে গায়েবানা জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান, শহর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ রাসেদুল ইসলাম রাসেদ, ছাত্রশিবির সভাপতি আলমগীর হোসেন ও সেক্রেটারি আবু তালেব প্রমুখ। জেলা শহরের বাইরে বড়াইগ্রাম উপজেলা জামায়াতসহ জেলার সব উপজেলায় স্থানীয়ভাবে গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজা হয়েছে।
চট্টগ্রাম: জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের গায়েবানা জানাজায় জনতার ঢল নামে। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক আহছানুল্লাহ বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম একটি ইতিহাস। সারাবিশ্বে তিনি ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে অবৈধ সরকার বর্ষীয়ান এ নেতাকে নির্মমভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। শহীদদের পথ ধরে এ দেশে একদিন ইসলামী শামসনতন্ত্র কায়েম হবে। তিনি বলেন, সরকার জামায়াত নেতাদের হত্যা করে দেশ থেকে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনকে মুছে দিতে পারবে না। তিনি জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের রেখে যাওয়া কাজকে আঞ্জাম দেয়ার জন্য সর্বস্তরে নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। গতকাল চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক প্যারেড ময়দানে বাদ জুমা এ জানাজা হয়। জানাজা-পূর্ব সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, আফসার উদ্দীন চৌধুরী, উত্তর জেলা আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, সাবেক এমপি শাহজাহান চৌধুরী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মুহাম্মদ ইছহাক, নগর উত্তর শিবির সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল আমিন, দক্ষিণ সভাপতি এম এইচ সোহাইল, নগর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন ও অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার প্রমুখ। জানাজায় ইমামতি করেন মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী।
