বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: সরকারের দুর্নীতি ও ভুল নীতিকে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এর দায়ভার পড়বে বিশাল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর।
বক্তারা হুঁশিয়ার করে দেন, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার ইতিমধ্যে রেকর্ড করেছে। সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে পাড়ায় পাড়ায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে। আর ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল করে বিচার করা হবে জ্বালানি অপরাধীদের।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর পল্টনে মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে ‘গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত: ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় অংশ নিয়ে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এ সরকার ধনীদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। কারণ, এই ধনীরা সরকারকে তার লুটপাটে সহযোগিতা করে। তাই সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারের মাথাব্যথা নেই।
আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ নেয়াকে সরকারের ভুলনীতি আখ্যা দিয়ে আনু মোহাম্মদ বলেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে দাম বাড়লে কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু সরকার দাম বাড়িয়ে বাড়তি টাকা কোন খাতে ব্যয় করছে তা কেউ জানে না। আইএমএফের শর্ত পূরণ করতেই সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “আমরা শুধু কথা বলেই ক্ষান্ত হব না। গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এলে প্রতিরোধের আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পাড়ায় পাড়ায় ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা হবে।”
গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে। দুর্নীতির এ মহোৎসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ভবিষ্যতে ট্রাইব্যুনাল করে বিচার করা হবে জ্বালানি অপরাধীদের। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পাবলিক এনকোয়ারি কমিশন গঠন করা হবে। দেখা যাবে সরকার কত অপকর্ম করতে পারে।” নতুন বার্তা ডটকম
