Skip to content

নাশকতা রোধে এ বছরই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে-পরে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতা-নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা শতাধিক মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে বিচারের অনুমোদন দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতা-নাশকতার ঘটনায় অভিযুক্তদের সন্ত্রাস দমন আইনে বিচার করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজও শুরু করেছে সরকার। এর লক্ষ্য, নাশকতাকারী ও হুকুমের আসামিদের দ্রুতবিচারের আওতায় নিয়ে আসা। ছয়মাসের মধ্যেই প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত দুমাসে অনুমোদনপ্রাপ্ত সন্ত্রাসদমন আইনে বিচারের মামলা বিষয়ে আইনজীবীরা বলছেন, এতে দ্রুত মামলার সুরাহা হবে। এই আইনে কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে সন্ত্রাসী কর্মকা-ও কমে আসবে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দ্রুত ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি বেশ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে আইনানুযায়ী, এই ট্রাইব্যুনাল গঠন না করা পর্যন্ত দায়রা জজ বা অতিরিক্ত দায়রা জজও এ মামলার বিচার করতে পারবেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে সন্ত্রাসী ও ম“দাতাদের বিচার করার উদ্যোগ এর আগে কখনও নেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মূলত দ্রুত বিচারই এর লক্ষ্য। তবে বড় নেতারা জামিন নিয়ে মুক্তি পেয়ে যাওয়ার যে সংস্কৃতি আছে, তা রোধে এর বিকল্প নেই। কারণ, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ ধরনের ঘটনায় উস্কানিদাতার বিচারের বিষয়ে উল্লেখ আছে।
আইনে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের অখ-তা, সংহতি, নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপণ্ণ করার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোনও অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা কোনও ব্যক্তিকে কোনও কাজ করতে বা করা থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে যদি কেউ কোনও ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর আঘাত, আটক বা অপহরণ করে বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে অথবা এসব উদ্দেশ্য সাধনে কোনও বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য বস্তু ব্যবহার করে বা নিজে দখলে রাখে তবে সেই ব্যক্তি ‘’সন্ত্রাসী কার্য’’ সংঘটনের অপরাধ করছেন বলে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি হবে মৃত্যুদ- বা যাবজ্জীবন কারাদ-ের সাথে অর্থদ-ও।’
বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বলতে গিয়ে পিলখানার ঘটনায় প্রতিষ্ঠিত বিশেষ আদালতের আইনজীবী শাহীদুর রহমান বলেন, এমনিতে আদালত অনেক কাজ করেন। সেক্ষেত্রে মামলাজটের আশঙ্কাও রয়েছে। সন্ত্রাস ঠেকাতে হলে, বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিচার কাজ পরিচালনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জামিন না হওয়া এবং কঠোর শাস্তির বিধান থাকার কারণে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের প্রবণতা কমতে বাধ্য। এই ট্রাইব্যুনাল শুরু হলে অনুমোদপ্রাপ্ত ১০১টি মামলা শেষ হতে কতদিন লাগবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ন্যায়বিচারে তাড়াহুড়োর কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল কেবল এই মামলাগুলোই ডিল করবেন। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রিতার কোনও সুযোগ নেই। একারণেই দ্রুত সব মামলার বিচার শেষ করা যাবে।
সূত্রমতে, সাম্প্রতিক সহিংসতার মামলাগুলো এই আইনে নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, আসামিরা যেন জামিন না পায়। এছাড়া ৬০দিনের মধ্যেই যেন তদন্ত শেষে বিচার শুরু হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া মামলাগুলোর প্রজ্ঞাপণ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে চলা সহিংসতাসহ বিএনপি-জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকা- থেকে শুরু করে পেট্রোলবোমা তৈরির মতো ঘটনায় নোয়াখালী, কুমিল্লা, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ট্রাইব্যুনাল গঠন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আমরা সিরিয়াসলি সন্ত্রাস দমনের পথ খুঁজছি। সন্ত্রাস দমন ও দ্রুত বিচারে ৫ধরনের আইন প্রয়োজন। সহিংসতা ও সন্ত্রাসের দ্রুত বিচারের জন্য রয়েছে ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন’, ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইন’ ও ‘আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন আইন’। এখন একটা সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল না হওয়ার কোনও কারণ নেই।
এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অনুমোদন পাওয়া মামলায় আসামি সংখ্যা সহস্রাধিক। ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেই বড় নেতাদের হুকুমের আসামি হিসেবে এখানে বিচারের আওতায় আনা হবে।
ঠিক কতদিন পর ট্রাইব্যুনালের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে- এমন প্রশ্নে নাম না প্রকাশ করার শর্তে আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্যোগ নেওয়া হয়ে গেছে। শুরুতে অর্থমন্ত্রণালয় কিছু গড়িমসি করলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত মোটামুটি চূড়ান্ত হওয়ার কারণে শিগগিরই কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, গত ১৫ ফেব্র“য়ারি এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হরতাল-অবরোধের নামে নৈরাজ্য বন্ধের ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। মাঝে-মাঝে জোর করে ডাকা হরতালের নামে নাশকতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে একটি রুলও জারি করেন আদালত। এরপর উদ্যোগ আরেকটু অগ্রসর হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইতোমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয় নিম্ন আদালতের পাশাপাশি পৃথক বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করেছে। ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপণ জারির পর বিভাগীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করবে এ ট্রাইব্যুনাল। আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রত্যেক দায়রা জজের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। যেন একজন অতিরিক্ত দায়রা জজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নাশকতা সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচার শুরু করেন। বাংলাট্রিবিউন

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫