বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
ঢাকা: বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দল পুনর্গঠনের কাজ শুরু করলেও দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ শীর্ষ নেতাদের কারণে তা থেমে আছে। দল পুনর্গঠনের কাজ কিছুটা এগিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুপস্থিতির জন্য তা শেষ করতে পারছেন না খালেদা জিয়া।
সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তিন মাসের আন্দোলনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে না পারার কারণে বিএনপির তৃণমূল থেকে দলগঠনের ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া বিএনপিকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেন এবং মহাসচিব, যুগ্ম-মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কে কোন পদ পাবেন তা প্রায় চূড়ান্ত করেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনুপস্থিতির কারণে এই কাজ শেষ করতে পারছেন না খালেদা জিয়া।
বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শুরু হয়েও দল পুনর্গঠনের এই কাজ এখন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কারণ খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। নেতৃবৃন্দরা মুক্তি হলেই স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক হবে এবং ওই বৈঠকে নেতাদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেয়া হবে। আর বেগম জিয়া নিজেই এই দিক-নির্দেশনা দেবেন এবং কাকে কোন পদে দেয়া হবে তাও ঠিক করবেন।
চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার দল পুনর্গঠনে তৃণমূলের দাবি দাওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। সেই সঙ্গে আন্দোলনের মাঠে ব্যর্থ নেতাদের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বাংলামেইলকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবত কোন ধরনের কাউন্সিল হয় না। তাই দল পুনর্গঠন করা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বিএনপিকে সামনের দিনগুলোতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এরমধ্যে সরকার বিরোধী আন্দোলন অন্যতম। তাই আন্দোলনকে জোরদার করতে দল পুনর্গঠন ও দলে নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দলে পরিবর্তন আনা খুবই প্রয়োজন। আর এজন্য ইতোমধ্যে খালেদা জিয়া কাজও শুরু করেছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমহগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা মুক্তি পাওয়ার পর চূড়ান্ত কমিটি গঠন করা হবে।’
একই বিষয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান বাংলামেইলকে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দল পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। তবে তিনি সম্পূর্ণভাবে কাজ করতে পারছেন না। কারণ ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা কারাগারে রয়েছেন।
গত ৫ জানুয়ারি সরকার বিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলনের কয়েক মিনিট পরেই জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে গ্রেপ্তার হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া ৩১ জানুয়ারি রহুল কবির রিজভীকে রাজধানীর বারিধারার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (২০০৮) ফল বিপর্যয়ের তিনি মাস পর অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির জাতীয় সম্মেলন। তবে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন মাস পর আবারো কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও গত সাত মাস ধরে জাতীয় সম্মেলন হচ্ছে না।ৃ বাংলামেইল২৪ডটকম
