বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের হাটগুলোতে গরু আসতে শুরু করেছে। তবে অন্যান্য বছর রাজধানীর হাটগুলোতে ঈদের ১০/১২দিন আগে থেকে গরু আসতে শুরু করলেও এবছর এখনো ওইসব হাটে গরু দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর গাবতলি, কমলাপুর এবং আগারগাঁওসহ বিভিন্ন পশুর হাটে গিযে দেখা যায়, হাটগুলো এখনো পশুশূন্য। এদিকে রাজধানীর আশপাশে বা দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেসব হাটে গরু এসেছে সেসব হাটে অন্যান্য বছর ভারতীয় গরুর আধিক্য থাকলেও এবার তুলনামূলক কম। প্রত্যশা অনুযায়ি ভারতীয় গরু না আসায় এবার গরুর দাম গত দুই বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ছাগলের দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহিন আহমেদের দেয়া তথ্য অনুযায়ি, এবার কমপক্ষে ১০ লাখ গরুর ঘাটতি থাকবে। প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি, ঈদে সারা দেশে কম-বেশি ৫০ লাখ গরু জবাই হবে। বিক্রির জন্যে প্রায় ৪০ লাখ গরু ও মহিষ হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে। পশুর হাটে ৪০ লাখ দেশীয় গরু ও মহিষ এবং প্রায় ৭০ লাখ ছাগল ও ভেড়া উঠার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বাইরে থেকেও কিছু গরু আসছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ বলেন, এবার ভারতীয় গরু কম আসায় কিছুটা ঘাটতি তৈরি হবে। এ ঘাটতির কারণে দেশে এবার গরুর দাম কিছুটা বাড়লেও গরু লালন-পালনকারীরা লাভবান হবে। তিনি বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গরুতেও দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গরু লালন-পালনে উৎসাহিত করতে এরই মধ্যে ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করা হয়েছে।
সূত্র মতে, গত কয়েক বছরে ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে ভারত থেকে আসা গরুর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দেশে সে অনুযায়ি গরু লালন-পালন করা হয়নি। যুগান্তরের যশোর ব্যুরো অফিস জানায়, গত ৮-৯ মাস ধরে যশোরের পুটখালি সীমান্ত দিয়ে গরু আসছে না। এ কারণে এখানকার গরু ব্যবসায়ীদের এবার মাথায় হাত। গরু না আসায় এর সঙ্গে জড়িত এখানকার প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চরমভাবে হতাশ।
খুলনা ব্যুরো জানায়, জেলার কয়েকটি হাটে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় গরু। চোরাই পথে আসা এসব গরু অপর্যাপ্ত হলেও বিক্রি হচ্ছে তুলনামূলক কম দামে। খুলনার হাটগুলোতে দেশীয় গরু পর্যাপ্ত রয়েছে। এখানকার গরু ব্যবসায়ীরা খুব খুশি। জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে খুলনা ব্যুরো জানায়, কুরবানির হাটে বিক্রির জন্যে প্রায় ২৬ হাজার গরুর হৃষ্টপুষ্ট করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ি, এখানকার হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। ভারতের গরু না আসলেও মিয়ানমার থেকে কম-বেশি গরু এখানে আসছে। চট্টগ্রামে কোরবানির জন্যে প্রায় ৫ লাখ গরু লাগবে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শাহেদা আক্তর জানান, কৃত্রিম উপায়ে পশু মোটা-তাজা করা হয়েছে কি-না তা যাচাই করতে চট্টগ্রামের প্রত্যেক হাটে পশু কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকছে।
দেশীয় গরু দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব কি-না জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রামের লাল গরু ও মুন্সিগঞ্জের মীরকাদিমের গরুর মাংসের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। এর জাত সংরক্ষণ ও উন্নত করা এবং তা লালন-পালনে উদ্যোগ সরকারি নেয়া হয়নি। দেশব্যাপী ব্যাপক উদ্যোগ নিলে এই দুটি জাত দিয়েই দেশে গরুর চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি সম্ভব।
