Skip to content

ব্যবসায়-বিনিয়োগে ভাগীদার হোন, ডাচদের প্রধানমন্ত্রী

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥

ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উদার বিনিয়োগ নীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উল্লেখ করে এই দেশে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও লভ্যাংশ ভাগাভাগির অংশীদার হতে নেদারল্যান্ডের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের প্রতি উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই নিম্ন মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি। আমরা ভিশন-২০২১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ডিজিটালাইজড জ্ঞানভিত্তিক মধ্য আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হতে চলেছি। এ জন্য আমাদের এই লক্ষ্যসমূহ অর্জন করতে হবে। আমি বিনিয়োগে, বাণিজ্য, লভ্যাংশ ভাগাভাগি এবং সমৃদ্ধি অর্জনে আমাদের সঙ্গে অংশীদার হতে আপনাদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় গ্রান্ড হোটেল আমারাথ কুরহাউসে অনুষ্ঠিত ‘পরিবর্তিত বাংলাদেশ : অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য অংশীদার’ শীর্ষক এক ব্যবসায়িক সম্মেলনে এ কথা বলেন।

সেমিনারে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক ডাচ কৃষিমন্ত্রী ড. সীস ভীরম্যান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশে নিযুক্ত ডাচ রাষ্ট্রদূত লিওনি চুয়েলিনারে এবং ডাচ ব্যবসায়ী নেতা মার্টিন ভারব্রুজেন বক্তব্য রাখেন।

সেমিনারে বাংলাদেশ বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের নেতা এবং এফবিসিসিআই’র ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম মহিউদ্দিন ‘বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অংশীদারিত্বের জন্য অর্থনৈতিক সুবিধা’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েত উল্লাহ আল মামুন সমাপনী বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বস্ত্র, লেদার, পাট, সিরামিক, পেট্রো-কেমিকেল, ফার্মাসিউটিক্যালস, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, প্লাস্টিক পণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং ইলেকট্রনিক, টেলিকমিউনিকেশন এবং আইটি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি এবং মেরিন ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্প, হাইটেক ম্যানুফেকচারিং ও মাইক্রো প্রসেসরের মতো প্রকৌশল সেক্টরে বিনিয়োগ করায় ডাচ কোম্পানিগুলোকে ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি উদার বিনিয়োগ নীতির দেশ। আইন করে বিদেশী বিনিয়োগকালীদের নিরাপত্তা প্রদান, ট্যাক্স হলিডে, যন্ত্রপাতি আমদানিতে কর রেয়াত, রয়্যালিটির রেমিটেন্স, এক্সিট পলিসি, লভ্যাংশ ও পুঁজি ফিরিয়ে দেশে নিয়ে যাওয়ার সুবিধাসহ অনেক সুযোগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্যান্য আরো সুযোগ সুবিধার মধ্যে রয়েছে তরুণ, পরিশ্রমী এবং তুলনামূলক স্বল্প বেতনে প্রশিক্ষিত জনশক্তি, স্বল্প খরচে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ভারত, জাপান ও নিউজিল্যান্ডের বাজারে পণ্যের ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি প্রবেশ সুবিধা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে এবং দেশটি এখন বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশ। এই শিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই নারী। তাদের কর্মসংস্থান নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তৈরি পোশাক খাতে অগ্রগতির জন্য বাংলাদেশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রচেষ্টায় নেদারল্যান্ডের সরকার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি ওষুধ শিল্পের অগ্রগতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৭ শতাংশ পূরণ করার পর আমরা আমাদের উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ৮৩টি দেশে রপ্তানি করছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আইসিটি এবং আইসিটি সংশ্লিষ্ট শিল্পের দ্রুত প্রসার ঘটছে। সফটওয়্যার ও আইটি সার্ভিসের জন্য বিশ্বের ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি। বাংলাদেশের সফটওয়্যার এখন আইফোন, স্যামসাং গ্যালাক্সি এবং ব্লাকবেরি ফোনে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শতভাগ রফতানিমুখী শিল্পের জন্য আটটি পূর্ণাঙ্গ রফতানি প্রক্রিয়া জোন রয়েছে। সরকার এখন দেশে বিভিন্ন এলাকায় একশ’টি ইকোনোমিক জোন প্রতিষ্ঠা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন নেদারল্যান্ডের ৬৮৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে। প্রায় ৩০টি ডাচ কোম্পানি বাংলাদেশে ব্যবসা করছে।

প্রধানমন্ত্রী সেমিনারে গৃহায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫