স্পোর্টস ডেস্ক ॥
ঢাকা: ম্যাচের তখনো দশ মিনিট বাকি। ডিফেন্ডার জেরেমি ম্যাথিউ ব্যথা পেয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়ছেন। বার্সেলোনা কোচ লুইস এনরিকের হাতে তখনো দুজন খেলোয়াড় বদলের সুযোগ আছে। অথচ তিনি কিনা বেঞ্চ থেকে কাউকেই নামালেন না ম্যাথিউর বদলে! শেষ দশ মিনিট বার্সা খেলেছে ১০ জন নিয়েই।
অবশ্য ম্যাচের স্কোরলাইন ততক্ষণে হয়ে গেছে: বার্সা ৬-১ ভিয়ানোভেন্স। স্প্যানিশ তৃতীয় বিভাগের দলটির বিপক্ষে এমনিতেই জয় নিয়ে খুব বেশি শঙ্কা ছিল না। কোপা দেল রের ‘রাউন্ড অব ১৬’ – এ যাওয়াও নিশ্চিত হয়ে গেছে। তাই অন্য কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে নাকি ঝুঁকি নিতে চাননি বার্সা কোচ। অবশ্য বিষয়টা কতটুকু ফুটবলীয় চেতনার মধ্যে পড়ে তা নিয়ে এরই মধ্যে বিতর্ক উঠে গেছে।
বিতর্কের দিক দিয়ে কাল হাতে হাত ধরেই চলেছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা। রিয়ালের বিতর্কটা সম্ভবত একটু বেশি ‘ক্ষতি’কারক। তৃতীয় বিভাগের দল কাদিজের মাঠে ৩-১ গোলে জিতেও কোপা দেল রে থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় পড়ে গেছে বেনিতেজের দল। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও যে উইঙ্গার ডেনিস চেরিশেভকে খেলিয়েছে তারা!
আগের রাউন্ডে ভিয়ানোভেন্সের মাঠে ম্যাচটা শেষ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রতে। সেই ম্যাচে দ্বিতীয় সারির দল নামিয়েছিল বার্সা। কাল ঘরের মাঠে দ্বিতীয় লেগেও মেসি-বুস্কেটস-পিকেদের বসিয়ে রেখেছিল বার্সা। ইনিয়েস্তা-নেইমার-সুয়ারেজরাও ছিলেন বেঞ্চে বসে। তবু ভিয়ানোভেন্সকে উড়িয়ে দিয়েছে বার্সা। হ্যাটট্রিক করেছেন সান্দ্রো রামিরেজ। সঙ্গে জোড়া গোল করেছেন মুনির এল হাদ্দাদি। তবে এ দুজনের আগে দলের হয়ে প্রথম গোলটি করেছেন দানি আলভেজ।
তবে ম্যাচ শেষে বড় হয়ে উঠল বিতর্কটাই – কেন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন বদলি খেলোয়াড় নামালেন না এনরিকে? সেটিকে ‘ইচ্ছাকৃত নয়’ জানিয়ে বার্সা কোচ ম্যাচ শেষে বললেন, ‘জানি এটা অনেক ভিয়ানোভেন্স সমর্থককে বিরক্ত করেছে। তবে আমি অন্য কোনো খেলোয়াড়ের চোটের ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলাম না। যদি এতে প্রতিপক্ষ অসম্মানিত বোধ করে, তাহলে আমি দুঃখিত। তবে সুযোগ পেলে এটা আবারও করব।’
রিয়ালের বিতর্ক তো আরও ‘ভয়ংকর’। নিষিদ্ধ খেলোয়াড় নামিয়ে দিয়ে কোপা দেল রে থেকেই বাদ পড়ার শঙ্কায় তারা। অবশ্য রোনালদো-বেলদের ছাড়াও কাদিজের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে কোনো সমস্যাই হয়নি বেনিতেজের দলের। যে খেলোয়াড়টিকে নিয়ে মূল সমস্যা, ম্যাচের ৩ মিনিটের সময় তাঁর গোল দিয়েই শুরু। এরপর ইসকোর জোড়া গোলে প্রতিপক্ষের মাঠে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে রিয়াল। অবশ্য ৮৮ মিনিটে একটা গোল ফেরত দিয়েছিল কাদিজ। তবে সেটি বার্নাব্যুর দ্বিতীয় লেগে সেটি কোনো সমস্যা হবে বলে মনে হয় না।
রিয়াল-বার্সার তুলনায় বরং অনেক স্বস্তির জয় পেয়েছে লিভারপুল। ইংলিশ লিগ কাপে তাদের জয়টা ছিলও বেশ দাপুটে। সাউদাম্পটনকে তাদেরই মাঠে ৬-১ গোলে হারিয়ে লিগ কাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করলো অলরেডরা। অবশ্য ম্যাচের প্রথম মিনিটেই পিছিয়ে পড়েছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। শেষ পর্যন্ত স্টারিজ-অরিগি-আইবদের কল্যাণে বড় জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে। ক্লাবের হয়ে গোলের খাতা খোলাটা হ্যাটট্রিক দিয়েই স্মরণীয় করে রাখলেন বেলজিয়ান অরিগি। আর অনেক দিন পর শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে দলের প্রথম দুটি গোল করেছেন ড্যানিয়েল স্টারিজ। তথ্যসূত্র: ইএসপিএন, মার্কা।
