তুহিন আহামেদ ॥
গাজীপুর: কালিয়াকৈর উপজেলার জালশুকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৪ শিক্ষার্থীকে শ্রেণীকক্ষের দরজা ভেতর থেকে আটকে রেখে সোমবার বিকেলে প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা আক্তার বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন। ঘটনায় গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা আক্তারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষিকাকে স্কুলের অফিস কক্ষে অবরোধ করে রাখে।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সানোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
সরেজমিনে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার জালশুকা এলাকার বিভিন্ন মহল্লায় গিয়ে আহত শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিবাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকেল সোয়া ৪টায় স্কুল ছুটি হলে ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী শ্রেণীকক্ষ থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য চেচামেচি করতে থাকে। এতে প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা আক্তার উত্তেজিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয় এবং ৫ম শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীকে শ্রেণীকক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারী পেটায়। এসময় লিমন, ঈষিকা, নূপুর নামের তিন শিক্ষার্থী শ্রেণীকক্ষেই অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীদের আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন ওই স্কুলে ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে।
ঘটনাটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে এবং উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। একপর্যায়ে অভিভাবক ও গ্রামবাসী প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা আক্তারকে অফিস কক্ষে অবরোদ্ধ করে রাখেন। এসময় অন্যান্য সহকারী শিক্ষকরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মোতালেব মিয়া, আটাবহ ইউপি চেয়ারম্যান এমএ আলীম ঘটনাস্থলে পৌছে এর সুষ্টু বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবিভাবকরা চলে যায়।
শিক্ষিকার পিটুনীতে ঈশিকা নামের এক ছাত্রীর ডান হাতের আঙ্গুল ভেঙ্গে যায়। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিফাত, রবিন, আফরোজা, লিমন, রতœা, সানজিদা, রাজিয়া সুলতানা, ফয়সাল, নূপুর, সুমি আক্তার, আতিকুর রহমান, রিয়া, শরিফুল ইসলাম, আশরাফুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বাকীদেরকে পরিবারের লোকজন সেবা দেয়।
আহত লিমন, ফয়সাল, ঈশিকা, রতœা, রফিক, সিফাত ও সানজিদা জানায়, স্কুল ছুটর পর আমরা হইচই করে ক্লাস থেকে বের হতে গেলে জোবেদা ম্যাডাম আমাদেরকে বাঁধা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে ক্লাসরুমে পড়ে থাকা একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাথারি পিটাতে থাকে।
আহত নূপুরের দাদী বৃদ্ধা বানেছা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার নাতনী নুপুর ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী। প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা আক্তার এ স্কুলে আসার পর থেকেই বাচ্চাদের উপর নানা রকম নির্যাতন করে থাকে। এছাড়া বাড়ি থেকে টিফিন পাঠালে তাতে ভাল কোন খাবার থাকলে (মাছ. মাংস) খেয়ে ফেলে।
জালশুকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য মোঃ আজমত আলী জানান, ওই শিক্ষিকা এ স্কুলে যোগদান করার পর থেকেই স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এখন মনে হচ্ছে কালিয়াকৈর উপজেলার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম স্কুলই হচ্ছে এটা।
ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সফিউদ্দিন খান ভোলা জানান, ওই শিক্ষিকা আগে থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছিল। আমরা তার যথাযথ শাস্তি চাই।
কালিয়াকৈর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘বিষয়টি শোনার পর আমি সকাল ৭টার দিকে ওই স্কুলে যাই। পরে আহত শিক্ষার্থী, তাদের পরিবার ও এলাকাবাসির সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাই। পরে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিবেদন আকারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাবরে বার্তা পাঠিয়েছি।
কালিয়াকৈরে ৬৪ শিক্ষার্থীকে পেটালো প্রধান শিক্ষিকা ॥ এলাকাবাসীর বিক্ষোভ
আপডেট :January 13, 2016
0
সম্পর্কিত আরও সংবাদ
সাম্প্রতিক সংবাদ
আর্কাইব
প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার
প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার
ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।
সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫
