Skip to content

বিজাতীয়কে বিয়ে করায় বোনকে পুড়িয়ে মারল ভাইয়েরা

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥

ঢাকা: পরিবারের সম্মান রক্ষা বা অনার কিলিংয়ের নামে আরো একটি লোমহর্ষক হত্যার ঘটনা ঘটেছে ভারতে। নিজের পছন্দমত বিয়ে করার অপরাধে ৩০ বছরের রামা কুনওয়ারাকে শুক্রবার আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে তার ভাইয়েরা। রোববার স্থানীয় পুলিশ এ খবর জানিয়েছে।

রুমা প্রেম করেছিলেন অন্য জাতের এক ছেলেকে। তার পরিবার এ সম্পর্ক মেনে না নেয়ায় বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করেন রুমা। দীর্ঘ আট বছর পর গত শুক্রবার রাজস্থান রাজ্যে নিজ গ্রামে ফিরেছিলেন রুমা। তিনি ওঠেছিলেন শ্বশুড়বাড়িতে। ভেবেছিলেন, এতদিনে তার পরিবার হয়ত তার বিয়ে মেনে নিয়েছে। হয়ত তারা তাকে ক্ষমাও করে দিয়েছে।

এ সম্পর্কে দুনগারাপুর জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্রিজিরান সিং সংবাদ সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছেন, তিনি ভেবেছিলেন, এবার তার বাবা-মা তার বিয়ে মেনে নিবে। কিন্তু তার ভাইরা যখনই জানতে পারেন যে, তাদের বোন রুমা ফিরে এসছে তখনই তারা তার শ্বশুড়বাড়িতে ছুটে যায়। তারা তাকে টেনে হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন এবং গায়ে আগান ধরিয়ে দেন। এসময় রুমার চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে আসেন। কিন্তু তারা ওই নারীর প্রাণ রক্ষার জন্য এগিয়ে আসেনি। অপরাধীদেরও বাধা দেয়নি। কেবল একজন নিরাপরাধ নারীকে আগুনে পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখেছে। অপরাধের সমস্ত আলামত ধ্বংস করার জন্য ওইদিন রাতেই তার মৃতদেহ সৎকার করা হয়।

পরে রুমার শাশুড়ি তার পুত্রবধূকে হত্যার খবরটি পুলিশকে জানান। এ ঘটনায় রুমার এক ভাইসহ সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকিদের এখনো গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে পুলিশ।

ভারত ও পাকিস্তানের মত দেশগুলোতে অনার কিলিং অতি সাধারণ ঘটনা। এ দেশ দুটিতে প্রায়ই এ ধরনের হত্যার কথা শোনা যায়। পরিবারের সম্মান রক্ষার ঠুনকো অজুহাতে নিকটাত্মীয় পুরুষরাই তাদের হত্রা করে থাকে। এই অনার কিলিং ঠেকাতে ২০১১ সালে নতুন রুল জারি করেছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। ওই আইনে অনার কিলিংয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫