Skip to content

হাসিনাকে সরকার প্রধান মেনেই নির্বাচনে যেতে চায় বিএনপির একাংশ

বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তৈরি কাজ করছে। সেখানে তারা দাবি করবে নির্বাচনকালীণ সহায়ক সরকারের প্রধান হতে হবে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে। বর্তমান সরকার থাকবে না। নিরপেক্ষ ও নিদর্লীয় সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজনে ও ওই সময়ের জন্য আওয়ামী লীগের ও তাদের জোটের দেওয়া প্রস্তাবিত নাম থেকে এবং বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের প্রস্তাবিত নেতাদের নাম নিয়ে দশজনের সরকার গঠন করা যেতে পারে। আর সরকার প্রধান হবেন দুই জোটের ও অন্যান্য দলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে। ওই সরকার নির্বাচনকালীন রুটিন কাজ করবে। সেখানে নীতি নির্ধারনী কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। তাদের উপর সরকার কোন ধরণের হস্তক্ষেপ করবে না। কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। এই ধরণের একটি সরকারই চাইছে বিএনপি। নিদর্লীয় সরকারের রূপরেখা বিএনপি তৈরি করছে। প্রয়োজনে সরকারের কাছে ওই সময়ের সরকার গঠন করার জন্য সংবিধানও সংশোধন করতে বলবে। বিএনপি কি চায় সেই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে চায়। ঐক্যমতের ভিত্তিতে তা করার জন্য প্র¯‘ত। এই রকম একটি প্রস্তাব বিএনপির নেতাদের অনেকেই বলেছেন।

বিএনপির ¯’ায়ী কমিটির সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীণ সরকারের রূপরেখা তৈরির কাজ চলছে। সেটা করা হ”েছ সরকারের সঙ্গে ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করার জন্যই। কারণ বিএনপির লক্ষ্য নির্বাচন কমিশন এর কমিশনারদের ব্যাপারে তারা আপত্তি না জানালেও তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে মেনে নিতে পারছেন না। তবে তারা দেখতে চান কি করে নির্বাচন কমিশন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে ¯’ায়ী কমিটির নেতাদের কেউ কেউ বলেছেন, এখনই নির্বাচন কমিশন বয়কট করার কিংবা রিজেক্ট করার দরকার নেই। অপেক্ষা করতে হবে। তাদেরকে সময় দিতে হবে তারা যে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে সেটা দেখানোর জন্য। তাছাড়া কমিশনের সমালোচনা চালিয়ে যেতে হবে। সমালোচনার পাশাপাশি এই জন্য বিএনপি কমিশনকে সময় দিতে চাইছে।

আইনমন্ত্রী ও সংসদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী  আনিসুল হক বলেন, নির্বাচনকালীণ সরকার বিএনপি যেভাবে চাইছে তা সংবিধান বহির্ভুত। আর সংবিধান বহির্ভুত কোন সরকার করা হবে না। বিএনপিকে এটা মনে রেখেই এগুতে হবে। আমরা আশা করি তারা বাস্তবতার আলোকেই সিদ্ধান্ত নিবেন। তারা এখন ক্ষমতায় থাকলে নিজেরা সংবিধানের বাইরে গিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার করতেন কিনা সেটাও ভাবতে হবে। তা যদি না করে এখনকার সরকার কেন করবে?

তিনি বলেন, আগেও বলেছি এখনও বলছি নির্বাচনকালীন আলাদা করে ও নতুন করে কোন সরকার গঠন করা হবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে রেখেই নির্বাচন হবে। বিএনপি অসাংবিধানিক দাবি করলে তা মেনে নেওয়ারও কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে ওই কমিশন আগামী নির্বাচন করবে। সেই জন্য সব দলকেই প্র¯‘তি নিতে হবে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান বলেন, নির্বাচন কমিশন যে রকম করা হয়েছে তাতে করে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। এই কমিশনের অধিনে গত ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে। আর ফলও একই হবে। এই অব¯’ায় বিএনপির নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ সরকার তৈরি করছে না। সেটা যদি না করে তাহলে দেশের গণতন্ত্র ব্যাহত হবে। এখনও গণতন্ত্র নেই। আগামীতে পুরোটাই শেষ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীণ সরকারের রূপরেখা তৈরি হ”েছ। সেই রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে খুব শিগগিরই মিডয়ার সামনে প্রকাশ করা হবে। আর সরকার ও আওয়ামী লীগকেও বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসা দরকার। তারা বিএনপিকে বাদ দিলে এবার নির্বাচন করার পরিকল্পনা করলে ভীষন ভুল করবে।

বিএনপির ¯’ায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুুবুর রহমান বলেন, ম্যাডাম দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। পরামর্শ নিচেছন। সেখানে নির্বাচকালীণ সরকারের বিষয়েও আলোচনা হ”েছ। সেই আলোচনায় ঠাঁই পা”েছ বিভিন্ন ধরনের বিষয়। কেউ কেউ বলছেন, নাম ভিন্ন হলেও কেয়ারটেকারের আদলেই নির্বাচনকালীণ সরকার দাবি করতে হবে। তেমন রূপরেখা করাই ঠিক হবে। আবার কেউ কেউ বলছে, প্রধানমন্ত্রী দশম সংসদ নির্বাচনের আগে সর্বদলীয় সরকারের কথা বলেছিলেন। সেই সময় স্বরাষ্ট্র ও ¯’ানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। এবারও তিনি হয়তো করলে সেটাই করতে চাইবেন। এর বেশি চাইবেন না। তাই তাকে সরকারকে থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করতে বললেও তিনি করবেন না বলেও মনে করছেন। এই অব¯’ায় তাদের মত হ”েছ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে আলোচনা করে সর্বদলীয় সরকার গঠন করা। সেখানে বিএনপির প্রস্তাবিত নাম আওয়ামী লীগের সমান সমান হতে হবে। সংসদে প্রতিনিধিত্বাকারীর সংখ্যা বিচার করলে হবে না।

তিনি আরও জানান, আবার কেউ কেউ মনে করেন বিএনপিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যে কোন ভাবেই হোক থাকতে হবে। এই জন্য প্রয়োজন হলে শেখ হাসিনাকে মেনে নিতে হলেও মেনে নিতে হবে। তবে সেটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো এখনই পরি¯ি’তি হয়নি।

তিনি বলেন, কেমন সরকার আমরা চাই সেটা বিবেচনা করা হ”েছ। এই কারণে এখনও রূপরেখার কোনটি চুড়ান্ত হয়নি। আরও গবেষনা করেই করতে হবে।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি হ”েছ। এই জন্য কমিটি কাজ করছে। তারা একাধিক রূপরেখার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন। এখনও পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা হ”েছ নির্বাচনকালীণ সরকারের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের হাতে থাকবে না। বর্তমান সরকার  নির্বাচনের কমপক্ষে দুই থেকে তিনমাস আসে পদত্যাগ করবেন। ওই সরকার গঠন করা হবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই। এই জন্য সমঝোতা করেই করতে হবে। নির্বাচনকালীণ সরকার তিনমাস দায়িত্ব পালন করবেন। তফসিল ঘোষণার আগে থেকে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত।

বিএনপির সূত্র জানায়, নিদর্লীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে মাঠে আন্দোলনে সফল হওয়া কঠিন এমন বিবেচনা থেকেই তারা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করতে চাইছে। সেখানে আলোচনা করেই ঠিক করতে চায় কে হবেন সরকার প্রধান। দুই জোট ঐক্যমতের ভিত্তিতেই একজনকে সরকার প্রধান করবেন। এর বাইরে দুই জোটের প্রস্তাবিত নাম থেকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, তিনিও লন্ডনে বসে নির্বাচনকালীণ সরকারের রূপরেখা তৈরি করার কাজে সহায়তা করছেন। তার একটি সেলও এই ব্যাপারে কাজ করছেন। বিএনপির দাবি অনুযায়ী সরকার গঠন করানোর জন্য, সরকারের উপর কিভাবে চাপ তৈরি করতে হবে তা ঠিক করছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেরও চাপ বাড়াতে চাইছে। এগুলো করানোর জন্য বিএনপিকে কি করতে হবে তারা সেই পরিকল্পনাও করছেন। তবে সেটি সরকার না মেনে নিলে ও সমঝোতা না হলে কি হবে এই বিকল্পও ভাবছেন।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, সরকার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে। ফলাফলও একই করতে চাইছে। এই জন্য সরকার তাদের পরিকল্পনা সফল করার পরিকল্পনাও করছে। এই জন্য তারা কাজ করছেন। তারা আন্তর্জাতিকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করার বিষয়ে চাপে থাকলেও সরকার সেটা নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বিএনপি যদি মনে করে তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ও চাওয়া অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন করা হবে, তাহলে তারা এবারও ভুল করবে। আবারও নির্বাচনের বাইরে থাকতে হবে। সেটা করলে তারা রাজনীতিতে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। এখন জনগণ তাদেরকে যতখানি পছন্দ করে ততখানিও করবে না।

বিএনপির সূত্র জানায়, বিএনপিকে যে কোন ভাবেই হোক ছাড় দিয়ে হলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে যেতে হবে। আর সেটা করা না হলে ও নির্বাচনে বিএনপি না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে দলে ভাঙ্গন ধরতে পারে।  সেই জন্য বিকল্প নেতাও রয়েছেন যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান। সরকারের প্রভাবশালী ও নীতিনির্ধারক মহলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক ও পারিবারিকভাবেও সম্পর্ক রয়েছে। সেই হিসাবে বিএনপির জন্য আগামী দিনে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচনে আসতে রাজি না হলে ও নিদর্লীয় সরকারের দাবিতে রাজপথে নামলে তিনি দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতারও হতে পারেন। সেটা হলে এখন যারা হাসিনাকে রেখে হলেও নির্বাচনে যেতে চান তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। এতে করে বিএনপির একাংশ নির্বাচনের বাইরে থাকতে পারেন। তারা মনে করেন, হাসিনাকে রেখেই বিএনপিকে নির্বাচনে যেতে হবে। জনগণের রায় মেনে নিতে হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আমরা নির্বাচনকালীণ সহায়ক সরকার চাইছি। ওই সরকার হতে হবে নিরপেক্ষ। দলীয় লোক দিয়ে করলে হবে না। আর এই জন্য আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই। আলোচনা করেই সমাধান চাই। প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার জন্য বেগম খালেদা জিয়া চিঠি দিবেন কিনা এই বিষয়ে তিনি বলেন, সেই রকম কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে যারা সরকারে আছে তাদের দায়িত্ব বেশি। তাদের উচিত সব দলকে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা ও সমঝোতা করা। আমাদেরকেও তারা আলোচনায় ডাকতে পারেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নিদর্লীয় সরকারের অধিনেই নির্বাচনে যাবে। এর বিকল্প এখনই কিছু চিন্তা করছে না। সরকারকেও সেইভাবে চিন্তা করতে হবে। বিএনপিকে নির্বাচনে নেওয়ার জন্য নিরপেক্ষ ও নিদর্লীয় সরকার গঠন করতে হবে। আমাদের সময়.কম

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫