বাংলাভূমি২৪ ডেস্ক ॥
মেয়েদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ের বিশেষ বিধান রেখে প্রায় ৯০ বছরের পুরনো আইনটি পাস করতে যাচ্ছে সরকার।
বিশেষ এই ধারা বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করে পশ্চাৎপদ সমাজ ব্যবস্থায় নিয়ে যাবে বলে আশংকা বিশেষজ্ঞদের। মেয়ে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থে নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্তি দিতে এই ধারা সংযুক্তির কারণ বলে জানান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে দেশে এখনো ৫৮.৬ শতাংশ শিশুর ১৮ বছরের নীচে বিয়ে হচ্ছে। আর বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসেবে এই হার ৬৬ শতাংশ। নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে অনাকাক্সিক্ষত কিছু ঘটনার জন্য এই ধারা রাষ্ট্রের ব্যর্থতা বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউনিসেফের শিশু নিরাপত্তা বিভাগের বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরীন বলেন, ‘বাবা-মা লুকিয়ে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে এবং তারপর যখন বাচ্চা হচ্ছে তখন তারা বিশেষ বিধানটাকে কাজে লাগিয়ে কোর্টের কাছে অনুমতি নিচ্ছে। সামনের দিকে না এগিয়ে এটা আমাদের আরো অনেকখানি পেছনে নিয়ে যাবে’।
গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘কিছু দুর্ঘটনা ঘটনার জন্য আমরা সবার জন্য একটা আইন করে দেবো। ঝরে পড়ার হার আরও বাড়বে। কারণ মা-বাবারা সহজ পথটাই খুঁজে নেবেন’।
অন্যদিকে কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব নয় সেই সাথে অভিভাবকদের সচেতন হবার পরামর্শ দেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি।
তিনি বলেন, ‘কোন শিশুকে দেখার দায়িত্ব কিন্তু কেবল মাত্র সরকারের নয়। অভিভাবকদেরও আছে। আঠারো বছরের আগে আমরা বলছি যে- তার বিয়ে দিতে চাচ্ছি না কিন্তু তাকে আমি একেবারেই ছেড়ে দিলাম নিশ্চিন্ত মনে, তা চলবে না’।
১৯২৯ সালের আইনটি সংশোধন করে গত ২৪ নভেম্বর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৬’র খসড়ার অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। -তথ্যসূত্র : সময় টিভি
