বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি মার্কেটে আপন জুয়েলার্সের শোরুমে মেয়ের জন্য তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের গহনার অর্ডার দিয়েছিলেন সাজেদা বেগম (ছদ্মনাম)। অর্ডার দেওয়ার সময়ই দুই-তৃতীয়াংশ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করেন।
২০ দিনের মধ্যে গয়না ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত তারিখ পার হয়ে গেছে বেশ আগেই। কিন্তু তিনি গয়না পাচ্ছেন না। অগ্রিম হিসেবে যে টাকা দিয়েছেন, তা-ও পাওয়ার পথ মিলছে না। কারণ সংশ্লিষ্ট শোরুমটি সিলগালা অবস্থায় পড়ে আছে।
গতকাল সোমবার বায়তুল মোকাররম মার্কেটের নিচতলায় আপন জুয়েলার্সের শোরুমে বেশ কিছুক্ষণ ধরেই তর্ক করছিলেন ভদ্রমহিলা। তিনি বলছিলেন, ‘আমার কাছে অর্ডারের প্রপার ডকুমেন্ট রয়েছে।
আপনারা ডিএনসিসির শোরুম বন্ধ করে রেখেছেন। আমার গহনা কবে কিভাবে পাব এর কোনো নির্দেশনাও পাচ্ছি না। আপনারা যদি আমার গহনা না দিতে পারেন, তবে টাকা ফেরত দিয়ে দিন। ’
শোরুমে দায়িত্বরত কর্মকর্তা তাঁকে বলেন, ‘দুঃখিত, আমাদের কিছু করার নেই। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। সেই পর্যন্ত আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে। ’
প্রসঙ্গত, বনানীর রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণালংকার ও ডায়মন্ড নিয়ে তদন্তে নামে শুল্ক ও গোয়েন্দা অধিদপ্তর। ওই মামলায় অন্যতম প্রধান আসামি আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে। গত ১৪ ও ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটির উত্তরা ও গুলশানের দুটি শাখা, ধানম-ির সীমান্ত স্কয়ার ও মৌচাক মার্কেট শাখায় অভিযান চালিয়ে ১৪ দশমিক ৫০ মণ স্বর্ণালংকার, ১০ কোটি টাকা মূল্যের হীরা ও নগদ ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা জব্দ করেন। একই সঙ্গে সিলগালা করে দেওয়া হয় শাখাগুলো। এসবের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় এগুলো চোরাচালান পণ্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কাছে। সেই কারণে গত ৪ মে জব্দ করা মালামাল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জমা করা হয়।
এদিকে শুল্ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শোরুমগুলো খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও গতকাল সোমবার পর্যন্ত সেগুলো বন্ধই ছিল। এ অবস্থায় সাজেদা বেগমের মতো আরো অনেক গ্রাহক তাদের অর্ডার করা অলংকার সরবরাহ পাচ্ছে না। তারা এমন কোনো নির্দেশনাও পাচ্ছে না যে কোথায় গেলে গয়না বা এরই মধ্যে পরিশোধ করা টাকা ফেরত পেতে পারে।
নাজমুল নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী সীমান্ত স্কয়ারে তাঁর বিয়ের গয়না বানানোর অর্ডার দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। শাখাটি এখনো বন্ধ রয়েছে। কবে কিভাবে তিনি গয়না নইলে টাকা ফেরত পাবেন তার কোনো সঠিক নির্দেশনা নেই। শেষমেশ বায়তুল মোকাররম শোরুমে এসে কথা বলেও হতাশ হয়ে ফিরে যান তিনি।
গ্রাহকদের অলংকার নইলে টাকা ফেরত দিতে আপন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় এ রকম শত শত মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে; কিন্তু সমাধান মিলছে না। এরই মধ্যে বায়তুল মোকাররম মার্কেটে প্রতিষ্ঠানটির দুটি শাখায় নিয়মিত অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। বরাবরের মতোই তারা গয়নার পরিমাণ অনুযায়ী ১৫-২০ দিনে ডেলিভারি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্ডার নিচ্ছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বায়তুল মোকাররম মার্কেটে আপন জুয়েলার্সের শোরুমে কর্মরত রানা নামের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বন্ধ শাখাগুলো খোলার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কবে কখন খোলা হবে, সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র মালিক কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে। ’
তবে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আপন জুয়েলার্সের যে পাঁচটি শাখা সিলগালা করা হয়েছিল, সেগুলো খুলতে এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত বন্ধ পাঁচটি শাখার একটিও খোলা হয়নি।
গ্রাহক ভোগান্তি নিরসনে বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি (বাজুস) কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে কি নাÑজানতে চাইলে সংগঠনের সহসভাপতি এনামুল হক খান বলেন, ‘অপেক্ষা করতে হবে। বিষয়টি সুরাহা হওয়ার আগ পর্যন্ত আর কিছুই করার নেই। ’ কালের কণ্ঠ
