আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
নিজের ব্যক্তিজীবনকে আড়ালে রাখার বিষয়ে কঠোরতা অবলম্বন করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। বৃহস্পতিবার বার্ষিক এক কল-ইন শো’তে দর্শকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে পরিবার নিয়ে কিছুটা রহস্য উন্মোচন করেন এই লৌহমানব।
লাইভে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়, দাদা হিসেবে আপনি কেমন? আপনি কি নাতি-নাতনিদের সঙ্গে বাগানে খেলা করেন? পুতিন বলেন, ‘হ্যাঁ, খুব কমই, মাঝেমধ্যে। আমার দুইজন নাতী-নাতনী আছে, একজন স্কুলে যাবে, আরেকজন মাত্র জন্মগ্রহণ করেছে। তারা খুবই সাধারণ জীবন যাপন-করে। আমি তাদের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না বিধায় এতদিন তাদের কথা বলি নি। কারণ আমি তাদের সম্মান করি।’
নিজের দুই কন্যা সম্পর্কে বলেন, আমার দুই মেয়ে মস্কোতে বিজ্ঞান ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। তারা খুবই দক্ষ নারী।’
উল্লেখ্য, ত্রিশের কোঠায় পৌছা পুতিনের দুই কন্যা মারিয়া ও ক্যাটরিনা নিজের নামের সঙ্গে স্বামীর নামের পদবী ব্যবহার করেন। ২০১৩ সালে পুতিন তার স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ নেয়ার পর তার দুই মেয়েকে আর জনসম্মুখে দেখা যায় নি। একবার পুতিনের কন্যা ও জামাইয়ের ব্যবসা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তিন রুশ পত্রিকার সম্পাদককে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
রাশিয়াতে সমকামীতার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ থাকলেও লাইভে পুতিন দাবি করেন, ‘আমাদের সমাজ খুব মুক্ত মানসিকতার।’ তিনি বলেন, ‘সমকামীদের বিরুদ্ধে কোন দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে না।’ এই সময় পুতিনকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘তিনি সাবমেরিনে একজন গে ক্রু ম্যানের সঙ্গে গোসল করতে রাজি আছেন কি না।’ উত্তরে পুতিন বলেন, ‘আমি এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না। তাছাড়া আমি কেন তাকে বিরক্ত করতে যাব?’
এছাড়া চিরশত্রু যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে কৌশলগত অবস্থান নেন তিনি। বলেন, ‘রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র দুটি বিশ্বযুদ্ধে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে রুশ সাম্রাজ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল। তাই আমি মনে করি না আমার দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের শত্রু।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ায় অনেকেই আমেরিকান জনগণের অর্জনের প্রশংসা করে এবং আমার ধারণা অবস্থা একদিন আরও স্বাভাবিক হবে।’
পুতিনের এই মন্তব্যের ঠিক একদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাবের জন্য রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভোট দেয়। তবে এটি পাশ হতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন লাগবে। অবশ্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিকে আমলে নেন নি পুতিন। সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট, ইন্ডিপেনডেন্ট
