Skip to content

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
উত্তরাঞ্চলে বন্যা কবলিত জেলার সংখ্যা ২০ ছাড়িয়েছে। গত কয়েকদিনে ৬ জেলায় ৫৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সরকারিভাবে ৬ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলা হলেও তা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যেসব মানুষ পশুপালন করেছে তারা পরে আছেন সবচেয়ে বিপদে।

বন্যার প্রভাবে দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও রংপুরে বন্যার পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে ও দেয়াল চাপা পড়ে অসংখ্য মানুষ মারা যাচ্ছে। এসব জেলায় বন্যার পানিতে প্রায় কয়েক হাজার গ্রাম ডুবে গেছে।

তিস্তা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার পানি বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হয়েছে। লালমনিরহাটে তিস্তানদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সে.মি. ও ধরলানদীর পানি বেড়ে ১৩২ সে.মি. উপর দিয়ে বয়ে চলেছে। তিস্তা ব্যারেজের সব কয়েকটি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। তিস্তা ও ধরলার প্রবল স্রোতে ধসে গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫ টি বাঁধ। ১৮টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে বন্ধ রয়েছে প্রায় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সারা দেশের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

নীলফামারি সৈয়দপুরে খরখরিয়া নদীর বাম তীরে পশ্চিম পাটওয়ারী পাড়া ও বসুনীয়া শহর রক্ষা বাঁধে প্রায় ১শ’ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। বন্যায় সৈয়দপুর বিমান বন্দরে প্রায় ১শ’ মিটার দেয়াল ধসে পড়েছে।

রাজশাহীর মহোনপুর উপজেলা ভীড় নগরের শিবনদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসলসহ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ১০২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে বিভিন্ন স্থান ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

দিনাজপুরে বন্যা কবলিত এলাকায় ভেঙ্গে যাওয়া শহর রক্ষা বাঁধ পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এবার বেশকিছু বাঁধ ভেঙ্গেছে এবং আমরা বন্যা দেখতে পাচ্ছি তবে সরকার এর জন্য প্রস্তুত।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, বন্যার সময় খাদ্যের কোন অভাব হবে না। সুতরাং এ নিয়ে কোন চিন্তা করার দরকার নেই।

পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, আমাদের দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে অবকাঠামোমূলক রক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বিশেষ করে রাস্তাঘাট।

নওগাঁর আত্রাইনদীর পানি বেড়ে এখন বিপৎসীমার ১২০ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়েছে।

জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট বিপৎসীমার ১১৪ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৩০টি গ্রাম নতুন করে জলবন্দি হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ১শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

জয়পুরহাটের যমুনা তুলসী গঙ্গা ও হারাবতী নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জলবন্দি হয়েছেন ১০ ইউনিয়নের মানুষ। রোপা-আমনসহ বিভিন্ন ফসলের প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে।

কুড়িগ্রামে ৯ উপজেলার ৪ লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। গত পাঁচদিন যাবত খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসী মানুষ। কুড়িগ্রামে থইথই পানি ঘরবাড়ি ছেড়ে বন্যা কবলিত মানুষের ঠিকানা সড়ক এবং পানি উন্নয়নের বাঁধ। সূত্র : চ্যানেল আই

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫