বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা একটি ক্রিমিনাল অপরাধ। তাই ক্রিমিনাল অপরাধের বিচার আইনগত ভাবেই হওয়া উচিত। পাশাপাশি এখানে তদন্ত থেকে শুরু করে, সাক্ষী পর্যন্ত সঠিক ভাবেই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এর পরে এ মামলায় যারা দোষী সাব্যস্ত হবে তাদের বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। তবে বিচারের নামে যেনো কখনো কাউকে আগেই দোষী সাব্যস্ত করা না হয় এবং রাজনৈতিকভাবে বক্তব্য দেওয়া না হয় বলে মন্তব্য করলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন।
ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ‘আজকের বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই ধরনের কর্মকা- দেশের একজন নাগরিক হিসেবে এবং সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী হিসেবে আমি যেমন সমর্থন করি না তেমনি দেশের কোনো নাগরিকও সমর্থন করবে না। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে এটা ঘটেছে। এর বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং এই জন্য আমাদের অপেক্ষাও করতে হবে। সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য।
এদিকে তদন্ত শেষ আর বিচারের আগেই আওয়ামী-লীগের অনেকেই এই হামলার জন্য নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে দায়ী করছেন। এটার মধ্যে আপনাদের রাজনৈতিক কোনো বিষয় লুকিয়ে আছে কিনা ?
উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, আমাদের বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকগুলো ঘটনার মধ্যে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাও একটি। পাশাপাশি এই হামলাটি হত্যা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে সেটাও আমরা জানি। তাই এই ঘটনার বিষয় আমাদের একটু ভেবে দেখতে হবে। সেটা হলো এই যে, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেছেন যে, এটা একটি ক্রিমিনাল অপরাধ যেটা আইনের দিক থেকে ঠিক আছে। কিন্তু এর বাহিরেও রাজনৈতিক সমীকরণে একটি বিষয় আছে। সুতারং সেই বিষয়টাকে আমাদের আমলে নিতে হবে।
এছাড়াও এই ঘটনার পরিকল্পনায় যারা ছিলেন এবং তারা কি সুবিধা পেতে পারতেন সেটিও আমাদের দেখতে হবে। পাশাপাশি এই কথাটা কেই বা না জানে যে, তখনকার সরকার প্রধান ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া এবং মূলত সেই সরকারটি পরিচালিত হতো হাওয়া ভবন থেকে। আর সেই হাওয়া ভবনের কর্তাব্যক্তি ছিলেন তারেক রহমান। সুতরাং এই ঘটনাকে কিভাবে কেনো ঘটিয়েছে সেটা কিন্তু আমরা সকলেই অবগত।
এই সময় তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার বিচারের জন্য ইতিমধ্যে ১৩ বছর কেটে গেছে কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি সত্য। কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার পেতেও আমাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছিল। এর পরে অবশেষে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই বিচারটি হয়েছে যেখানে জাতি খুশি। কারণ এখানে কারও কোনো প্রশ্ন আসেনি। তেমনি ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিষয়ে আমাদেরও অপেক্ষা করতে হবে যাতে এই বিচারটি নিয়েও কোনো ধরনের প্রশ্ন না আসে না থাকে। তাই বিচারের আগে সাধারণ জনগণ যেমন জানে যে, এই ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে। তেমনি তাদের সাথে আমরাও মনে প্রাণে বিশ্বাস করি এই ঘটনায় তারেক রহমান সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনিই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য।
আমাদের সময়.কম
