Skip to content

কাঁদছে মানবতা

বাংলাভূসি ডেস্ক ॥
মিয়ানমার বাহিনীর গণহত্যার মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়িতে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় খুঁজছে। কেউ কেউ অবস্থান করছে খোলা আকাশের নিচে রাস্তার পাশে কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে। এ বিশালসংখ্যক মানুষের জন্য খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। স্থানীয় জনগণ শুরুর দিকে উৎসাহ নিয়ে রোহিঙ্গাদের খাবার সরবরাহ করলেও গত কয়েকদিনে তাতে ভাটা পড়েছে। এ অবস্থায় ভিটেমাটিসহ সবহারা এসব রোহিঙ্গা ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর এ পর্যন্ত কী পরিমাণ রোহিঙ্গা উখিয়া, টেকনাফ ও নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান কারও কাছে নেই। তবে গতকাল সীমান্ত দিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাখাইনের মংডু ও বুচিডং এলাকার মোট জনসংখ্যার ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশে চলে এসেছে। এই সংখ্যা পাঁচ লাখের কম নয়। তারা জানান, শুরুর দিকে বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি বাধা দিলেও এখন বিনা বাধায় আসতে পারছে। রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা বাংলাদেশেরই বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের সিম ব্যবহার করে। ফলে দুই দেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে সহজেই যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়। রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর তাৎক্ষণিক বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সাহায্য পাওয়ায় অন্যরাও এদেশে চলে আসাকে অধিকতর নিরাপদ মনে করে। কিন্তু এই সংখ্যা এখন এত বেড়ে গেছে যে স্থানীয়রা খাবার সরবরাহ করা থেকে পিছিয়ে এসেছে।

গতকাল সকালে টেকনাফ উনচিপ্রাং রইক্ষ্যং পাহাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পরিবার সেখানে আবাস নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটছে। বিজিবি সদস্যরাই তাদের সেখানে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে পাহাড়ে জায়গা না পেয়ে পথের ধারে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। তাদের কাছে তাঁবু জাতীয় কোনো সরঞ্জাম নেই। গতকাল দুপুর পর্যন্ত কাউকে সেখানে খাবার সরবরাহ করতে দেখা যায়নি। দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে থাকতে থাকতে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পালিয়ে আসা বেশিরভাগ শিশুকেই কাশতে দেখা যায়। এক কাপড়ে পালিয়ে আসা সবাই বাধ্য হয়ে ভেজা কাপড় পরে আছে।
মংডু বলিবাজারে ব্যবসা করতেন রাজা মিয়া (৫২)। ১৩ সন্তান তার। সাত দিনের চেষ্টায় পাহাড়ের চূড়ায় একখ- জায়গা পেয়েছেন। রাজা মিয়া বলেন, আমাদের সবচেয়ে বড় সংকট পানির। আশপাশে কোনো নলকূপ নেই। শিশুরা পানি পান করতে পারছে না। রইক্ষ্যং এলাকায় এক লাখেরও বেশি মানুষ জড়ো হয়েছে। অথচ একটি পায়খানাও নেই। মহিলারা প্রাকৃতিক কর্ম সারতে পারছে না। শুরুতে যেভাবে খাবার পেয়েছি, এখন তা নেই।
টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবু সৈয়দ টানা কয়েকদিন রোহিঙ্গাদের রান্না করা খাবার সরবরাহ করেন। গতকাল তিনি দেননি। আবু সৈয়দ বলেন, আমরা যা পেরেছি করেছি। এখন সরকার তাদের খাবারের ব্যবস্থা করুক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এগিয়ে আসুক। আমরা তো আর দিনের পর দিন খাবার দিতে পারব না, সামর্থ্যরেও একটা বিষয় আছে।
তবে রাজা মিয়াদের সৌভাগ্যবান মনে হয় পথের ধারে অপেক্ষমাণ রোহিঙ্গাদের দেখে। খাবার না পেয়ে কাঁদছে অনেক শিশু। এসব পরিবার এখনো মাথা গোঁজার ঠাঁই পায়নি। রইক্ষ্যং পাহাড়ের যেখানে রোহিঙ্গাদের পাঠানো হয়েছিল, সেখানেও আর খালি জায়গা নেই।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো টেকনাফ শহরই রোহিঙ্গায় ভরে গেছে। তাদের সংখ্যা এত বেশি যে সড়কে যানবাহন ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। রোহিঙ্গারা এভাবে যানবাহন দেখে অভ্যস্থ নয়। ফলে গাড়ির সামনে অবাধে চলাফেরা করছে তারা। এতে প্রতি মুহূর্তেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টেকনাফের দক্ষিণের শাহপরী দ্বীপ থেকে শুরু করে উখিয়ার ঘুমদুম সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় প্রতিটি ঘরেই এক থেকে একাধিক %A

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫