বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আহমেদ সুমন : রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের ফলে লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। একই সময় মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর আজ রোববার দুই লাখ টন চাল আমদানি বিষয়ে আলোচনা এবং মূল্য নির্ধারণ করতে ঢাকায় এসেছে মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল। রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের বৈরী মনোভাব ও মিয়ানমার থেকে চাল কেনা নিয়ে সর্বস্তরেই চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
বৈরী পরিস্থিতিতেও মিয়ানমার থেকে চাল কেনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রেড, কূটনীতি এবং যুদ্ধ একসাথে চলতে পারে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে যখন যুদ্ধ হয় তখন কেবলমাত্র বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিলো। এ ছাড়া আর কোন নিষেধাজ্ঞা ছিলো বলে আমার মনে হয় না। ট্রেড এবং কূটনীতি, ট্রেড এবং যুদ্ধ একসাথে চলা মূলত একটি রেওয়াজ। এক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা থাকতে পারে না বলে আমি মনে করি।
মিয়ানমার থেকে চাল আনার সুবিধা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে চাল আনলে আমার সুবিধা হচ্ছে, যখন ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ড থেকে চাল আনা হয় তখন চাল আসতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। এতে খরচও বেশি পরে। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে চট্ট্রগ্রামে চাল আসতে লাগে মাত্র ২ দিন। ফলে পরিবহন খরচও কম লাগে।
চলতি মাসেই চাল আমদানি করতে মিয়ানমারে গিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী। এখন পুনরায় কেন মিয়ানমার বাংলাদেশে আসলো, সে বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, এটা মূলত নিয়ম। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চাল কেনা বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর প্রসঙ্গে মিয়ানমারে যাওয়া হয়েছিলো। সেই প্রক্রিয়ায় মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশে এসেছে। এটা মূলত একটি রেওয়াজ।
বাংলাদেশের মোট চালের চাহিদা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে ২ লাখ টন চাল মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে। আড়াই লাখ টন চাল নিয়ে আসা হচ্ছে কম্বডিয়া থেকে। থাইল্যান্ড থেকেও চাল নেয়া হবে। এছাড়া ভিয়েতনামের কাছ থেকে প্রথম দফায় আড়াই লাখ মেট্রিকটন চাল নিয়েছি, দ্বিতীয় দফায় তাদের সাথে আলোচনা চলবে। তাদের কাছ থেকেও আরও দুই লাখ বা আড়াই লাখ টন চাল নেয়া হবে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য আরও পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মেট্রিকটন চাল কেনা হবে। আমাদের সময়.কম
