আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
স্বাধীনতার প্রশ্নে কাতালোনিয়াকে ৮ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয়।
বেধে দেয়া সমেয়ে কাতালোনিয়ার সরকার স্বাধীনতা ঘোষণায় ব্যর্থ হলে অঞ্চলটির রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন স্থগিত করে সরাসরি শাসনভার গ্রহণ করার দিকে যাবেন তিনি।
এর আগে কাতালোনিয়া অঞ্চলের নেতা ও প্রেসিডেন্ট চার্লস পুজদেমন স্বাধীনতার ঘোষণায় সই করার পরেও স্পেনের সরকারের সাথে আলোচনা করার জন্যে স্বাধীনতা ঘোষণা স্থগিত দেন।
তবে কাতালোনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণার দলিল করা হয়েছে তার আইনগত কোন ভিত্তি আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ পহেলা অক্টোবরের গণভোটের ফলাফলকে অবৈধ ঘোষণা করেছে স্পেনের সাংবিধানিক আদালত।
স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপে মাদ্রিদের সঙ্গে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ওই সমৃদ্ধ অঞ্চলটির বিরোধ আরো গভীর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এতে ১৯৮১ সালের ব্যর্থ সামরিক অভ্যূত্থানের পর স্পেনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটের একটি সমাধানেরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
স্পেনের সংবিধানের ১৫৫ অনুচ্ছেদ কার্যকর করলে কাতালুনিয়ার আঞ্চলিক সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ক্ষমতা পাবেন রাখয়, এরপর তিনি সম্ভবত ওই অঞ্চলটিতে নির্বাচনের ডাক দিবেন।
মঙ্গলবার রাতে কাতালুনিয়া আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট কর্লোস পুজদেমন প্রতীকী স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা স্থগিত করে মাদ্রিদের সঙ্গে আলোচনার ডাক দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে স্পেন সরকারের পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সকালে বৈঠকে বসে স্পেনের মন্ত্রীসভা।
বৈঠকের পর টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে রাখয় বলেন, “কাতালুনিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে কি না তা নিশ্চিত করতে কাতালান সরকারকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানোর বিষয়ে আজ সকালে মন্ত্রীসভা সম্মত হয়েছে, ওই ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে যে সংশয় সৃষ্টি করা হয়েছে তা গ্রাহ্য করা হয়নি।”
পরে স্পেনের পার্লামেন্টকে তিনি জানান, প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কাতালান সরকারের সমানে ১৬ অক্টোবর, সোমবার ০৮০০ জিএমটি পর্যন্ত সময় আছে। স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, পুজদেমন যদি এটি নিশ্চিত করেন তাহলে তা সংশোধন করার জন্য ১৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার ০৮০০ জিএমটি পর্যন্ত আরো তিনদিন সময় পাবেন তিনি। এতে ব্যর্থ হলে অনুচ্ছেদ ১৫৫ কার্যকর করা হবে।
কাতালান সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের এই অনুরোধের উত্তর দিবে কি না তা পরিষ্কার হওয়া যায়নি, কিন্তু এখন তাদের একটি সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
যদি পুজদেমন বলেন, তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কিন্তু তিনি যদি বলেন, তিনি স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি, তাহলে চরম বামপন্থি পার্টি সিইউপি সম্ভবত তার সংখ্যালঘু সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিবে।
লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেনিও ইন্টারন্যাশনাল এর উপপরিচালক আন্তনিও বারোসো বলেছেন, “রাখয়ের দুটি লক্ষ্য আছে: যদি পুজদেমন এরকম দোদুল্যমান থাকেন, তাহলে স্বাধীনতাপন্থি আন্দোলনের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিবে; অপরদিকে পুজদেমন স্বাধীনতার পক্ষে কথা বললে, রাখয় ১৫৫ অনুচ্ছেদ কার্যকর করার সুযোগ পাবেন।
“এর যে কোনো একটি হলেই রাখয় প্রথমে কাতালুনিয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন এবং এসব কারণে ওই অঞ্চলে আগাম নির্বাচনের ডাক দিতে পারেন তিনি।”
নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ কাতালুনিয়াকে হারানো স্পেনের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দেখা দিবে। কারণ দেশটির অর্থনৈতিক আয়ের এক-পঞ্চমাংশ ও রপ্তানি আয়ের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ওই অঞ্চলটি থেকেই আসে।
বিবিসি বাংলা ও বাংলা ট্রিবিউন অবলম্বনে
