বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশা অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ষড়যন্ত্র করে তাদের মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে বাহির করা হচ্ছে তাদের দেশ থেকে। এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রচার করা হচ্ছে মিয়ানমারের প্রতি প্রতিশোধের হুমকিও। এই অঞ্চরে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে বলে অনেকের আশংঙ্কা।
পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো যে, রোহিঙ্গা সংকটে প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ?
জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে অবস্থা তাতে নিরাপত্তা একটি বিরাট বিষয়। বাংলাদেশে যে রোহিঙ্গারা এসেছে তারা মুলত তাদের জীবন বাঁচাতেই অস্থির। এবং একটি অসহনীয় অবস্থায় তারা বসবাস করছে। তিনি মনে করেন যে, এখন এই বিষয়টি নিয়ে ভাবার তেমন কিছুই নেই।
ভারত ও বাংলাদেশ একমত হয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াটা নিরাপত্তার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ থাকতে পারে, কি ধরনের তথ্যের ভিত্তিতে এমনটি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে? ভারতের কাছ থেকে কি তথ্য পাওয়া গেছে? জবাবে তিনি বলেন, কোন তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের আলোচনা হয়নি, এই আলোচনা হয়েছে একটি সাধারণ আলোচনা। যেহেতু এতগুলো মানুষ অসহনীয় অবস্থায় থেকে বাংলাদেশে চলে এসেছে, সেখানে সাভাবিক ভাবেই তাদের মধ্যে তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। রোহিঙ্গাদের কারণে যে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে সেটা ঠিক না। কিন্তু তার মানে এই না যে ভবিষ্যতে নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের কোন চিন্তা ভাবনা নেই তা নয়।
বেশ কিছু দেশ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অংশ হিসেবে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সমর্থন দিচ্ছে এবং তারা নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা বলছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত দেখতে পাইনি যে অনেক দেশ মিয়ানমারকে সমর্থন করেছে। এই সমস্যাটি হলো মিয়ানমারের সরকারের সাথে, এইটি মিয়ানমারের নিজেদের সমস্যা এই জায়গায় আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। তা না হলে আমরা বিপদে পড়বো। কারণ অনেক সময় মনে করা হয় যে এই ধরনের জনগোষ্ঠী যারা বিপদে পরে অন্য আর একটি দেশে নিরাপত্তার জন্যে যায় তারা আবার দ্বিতীয় বার আসবে।
যদি রোহিঙ্গা সংকট সত্যিই একটা নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে এর নিরসন কিভাবে হবে?
জবাবে শহিদুল হক বলেন, আমি এমন কোন বিষয় দেখতে পাচ্ছি না নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। বাংলাদেশ সরকার খুব সুন্দর ভাবে এই কাজটি করছে। এমন কিছু ঘটবে বলে তিনি মনে করেন না।
জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে মিয়ামারের নিরাপত্তা বাহিনীরা সেখানকার রোহিঙ্গদের স্থায়ীভাবে বেড় করে দিচ্ছে তাহলে বাংলাদেশ কিভাবে আশা করছে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাবে?
জবাবে তিনি বলেন, যে বিবেক আছে এবং শরণার্থী বিষয়ক যে নিরাপত্তা আছে তাদের নিজেদের যে তাগিদ আছে তার জন্যেই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য হবে। আমরা রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধান করতে চেষ্টা করছি। ১৯৯১-৯২ তে যে ভাবে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে সেই অবস্থা আর নেই। এখন নতুনভাবে ব্যবস্থা করতে হবে তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে। তিনি আরো বলেন, আমরা বলেছি যে তাদের ফেরত নিয়ে যাবার পরে তাদের আবার ১০ বছর পরে রোহিঙ্গারা আবার বাংলাদেশে আসবে বা অন্য কোথাও যাবে সেটা আমরা চাই না । একটা স্থায়ী সমাধান আমরা চাই রোহিঙ্গাদের জন্যে। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
