বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আশিফা আশরাফী পাপিয়া বলেছেন, এই বিচার করছেন (আওয়ামী লীগ) ওই বিচার করছেন, ভোট চুরি বিচার তো করছেন না। নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবেন সেটাও বলেন না। আপনার অধীনে কীভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগের দ্বারা নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
চ্যানেল আই টেলিভিশনের তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গোলাম মাওলা রনি সাহেব বলেছেন, এশিয়ার ভেতরে সর্বো নিকৃষ্ট রাস্তা হচ্ছে বাংলাদেশ। তারপরে হচ্ছে নেপাল। প্রথম আলো পত্রিকায় গত ১৩ মার্চ প্রকাশিত হয়েছে মহাসড়ক মানেই মহাদূর্গ এশিয়া দ্বিতীয় নিকৃষ্ট সড়ক হচ্ছে বাংলাদেশে। ৪১ হাজার কোটি টাকা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতিবছর ব্যয় করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত ১০ জন করে গড়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর ৩টি পিলার উঠেছে। এই পিলার উঠেছে, পিলার উঠেছে, পিলার উঠেছে। ঈদের চাঁদ দেখার মতো। ৩ পিলারেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন আপনারা (আওয়ামী লীগ)। আমরা শত শত পিলার আর যমুনা সেতু থেকে শুরু করে কর্ণফুলি, বরিশাল সেতু থেকে বহু সেতু আমরা করলাম। কিন্তু চাঁদ দেখার মতো আনন্দ আপনাদের মতো করতে পারলাম না। পদ্ম সেতুতে এলাকার জনগণ উপকৃত হবে। একটি সেতুতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় সকল মানুষ যদি উপকৃত না হয়, তাহলে একটা পক্ষকে লাভবান করে সেতু করার তো কোনো লাভ নেই। সেখানে সিদ্ধান্ত আসেনি।
আশিফা আশরাফী পাপিয়া আরো বলেন, গণতন্ত্রের সূচকের আপনাদের অবস্থানটা কী? অর্থনীতিবিদের তথ্য মতে, বাংলাদেশ ২০১৬ সালে ছিল ৮৪ আর ২০১৭ সালে এসে নামতে নামতে ৯৪। আপনি (আওয়ামী লীগ) ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। উন্নয়ন হচ্ছে আপনাদের মুখের বুলি। আপনারা রাজনৈতিক ঠিকাদার নিয়োগ করে যে প্রক্রিয়াতে কাজ দিয়ে, কাজ না করে টাকা উত্তোলন করে, জবাবদিহিতার বাইরে থেকে প্রকৌশলীরা দেখে না দেখার ভান করে চুপচাপ পরিস্থিতির ভেতর আছে। এটাকে যদি আপনি উন্নয়ন বলেন, বলার কিছু নাই। উন্নয়নশীল দেশ সারা পৃথিবীতেই যে দেশের জনসংখ্যা সর্বাধিক এবং ব্যাপক সংখ্যক, অবশ্যই সেই দেশ আজকে হোক কালকে হোক ধারাবাহিকভাবে উপরের দিকেই উঠবে। নিচের দিকে ক্রম অবনতি হয় না।
তিনি বলেন, এই যে ধারণা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হবে। অন্য কোনো দল ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হবে না। এই হীন উদ্দেশ্যে, হীন প্রচেষ্টা, হীন দৃষ্টিভঙ্গি কে আপনাদের পরিহার করতে হবে। আপনাদের কথা কাজের কোনো কিছুতে গণতন্ত্রের লেস মাত্র নেই। কারো অস্তিত্ব শিকার করেন না। শুধু নিজেদের আর নিজেদের। আওয়ামী লীগ খারাপ কথা বলতে গেলে, দেশের বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে জাতিসংঘ ও ট্রাম্পের নির্বাচন পর্যন্ত তুলে দেন। আমাদের বিদেশে কোনো বন্ধু না। বাংলাদেশের মানুষকে নিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনাদের বহু বন্ধু-বান্ধব, দাদা-দিদি, ভাগিনা আছে। আপনাদের এই মহাসমারোহ নিয়ে ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সাল স্পষ্ট করে বলতে চাই, ভারত যেভাবে প্রভাবিত করেছিল এবং এরশাদ সরকারকে সামরিক হাসপাতালে রেখে যে পাতানো নির্বাচনে নিয়ে এসেছে, এরকম হাইজাক করে নির্বাচন করেন। এই নির্বাচন কি নির্বাচন হয়।
আশিফা আশরাফী পাপিয়া বলেন, আপনারা হচ্ছে নবীন প্রগ্রতিশীল। শুধু আকাশ দেখেন মাটির দিকেও তাকাতে হবে। আল্লাহ বিএনপি নামের একটি দলেরও অস্তিত্ব দিয়েছে। এই অস্তিত্বকে অস্বীকার করে আপনি কানা, লেঙড়া এগুলোকে নিচ্ছেন কেন ভাই। দলের সঙ্গে প্রতিযোগীতা করে ক্ষমতায় আসেন। ফুলের মালা আমরাই দেবো। নির্বাচনে ভয় পান কেন। সারা পৃথিবীতে এই বিচার করছেন ওই বিচার করছেন। ভোট চুরি বিচার তো করছেন না। নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবেন সেটাও বলেন না। আপনার অধীনে কীভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগের দ্বারা নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সূত্র: চ্যানেল আই টিভিন
