Skip to content

ব্যাংকিং খাতের লুটপাট নিয়ে এমপিদের ক্ষোভ

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥

জাতীয় সংসদ ভবন থেকে: ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা ও লুটপাট নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্যরা। ব্যাংক লুটকারী ও অর্থপাচারকারীদের ধরতে না পারায় এবং পাচার করা অর্থ ফেরত আনতে না পারায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

রোববার (১০ জুন) সকালে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ। এরপর আলোচনায় তাল মেলান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।

**বিমানবন্দর থেকে কাঞ্চন সেতু পর্যন্ত পাতাল রেল

অধ্যাপক আলী আশরাফ শুরুতে সরকারের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে বলেন, আমাদের আবাদী জমি কমেছে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে। দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হয়েছে, এটা অভূতপূর্ব সাফল্য। তাছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী সাফল্য হয়েছে, এক্ষেত্রে বিরাট বৈপ্লবিক পরিবর্তনও এসেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যখাতে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছি। সাধারণ মানুষ আজ কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ৩২ রকমের ওষুধ ফ্রি পাচ্ছে। এখন আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু শৈথিল্য আছে। সেগুলা দূর করতে হবে।

ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনা দরকার। এই খাতে শৃঙ্খলা আনতে না পারলে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়বে। কিছু মানুষ ব্যাংকিং খাতে লুটপাট করবে, এটা হতে পারে না। ঋণ খেলাপি হবে, অর্থ পাচার করবে। এই ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচারকারীদের আপনি ধরেন।

তিনি আরও বলেন, কর এর আওতা বাড়াতে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কর অফিস করেন। বিমান চলছে না, বিদেশিরা এসে বিমানে উঠলে মনে করে, যে কোনো সময় ভেঙে পড়বে। সব জায়গায় ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা চলছে। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ব্যাংকিং খাতে যে লুটপাট হয়েছে তা ভারতের সমনাথ মন্দিরের লুটপাটের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তখন সমনাথ মন্দির আক্রমণ করে ২০ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করা হয়েছিল। আর বাংলাদেশে ব্যাংক লুটপাটের আগ পর্যন্ত এতো বড় লুটপাটের ঘটনা আর ঘটেনি। সামনে নির্বাচন, নির্বাচনের আগে এই ব্যাংক মালিকরা, লুটপাটকারী দেশে থাকবে না, তাদের খুঁজেও পাবেন না। তারা বিদেশে পালিয়ে যাবে, ইতোমধ্যে ভিসা লাগিয়ে ফেলেছে।

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে ফিরোজ রশিদ বলেন, ব্যাংক খেলাপি কারা? এটা কি আপনি জানেন না? কেনো তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন না। এরা ২৪ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে, এই সমস্ত ভুয়া বাজেট দিয়ে কাজ হবে না। এই বাজেটের মধ্যে কিছু নেই। ধনীকে খুশি, গরিবকে নিঃস্ব আর ব্যাংক ডাকাতদের উৎসাহিত করেছেন এই বাজেটে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখলে পাচার হয়ে যায় মানুষ এই আতঙ্কে আছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ঋণ খেলাপিরা টাকা দেশেও রাখে না, বিদেশে পাচার করে। এরা ব্যাংকের কিছু আর রাখবে না। যারা ব্যাংকে লুটপাট করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। লুটপাটকারীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার জন্য কি করা যেতে পারে সেটা অর্থমন্ত্রীকে ভাবতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে এই টাকা আদায়ে কি করা যায় করেন তাহলে জনগণ আস্থা ফিরে পাবে। প্রশাসনে চলছে অনিয়ম, বেতন বাড়ানো হলো তারপরেও কর্মকর্তারা ঘুষ খায়। তারা বেতন নিলে ঘুষ বন্ধ করতে হবে আর ঘুষ নিলে বেতন বন্ধ করতে হবে। এক সঙ্গে দুটো চলবে না।
বাংলানিউজ

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫