Skip to content

কাপাসিয়ায় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন বিএসসি নার্সিং কলেজে যুক্ত হচ্ছে ডিপ্লোমা ও মিডওয়াইফারি কোর্স

আকরাম হোসেন রিপন
চীফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুরঃ কাপাসিয়া উপজেলার সাড়ে চার লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সরকারি হাসপাতাল হচ্ছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে এই একই প্রাঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজ। পূরণ হতে চলেছে লক্ষ মানুষের স্বপ্ন। এই বিএসসি নার্সিং কলেজের সাথে যুক্ত হতে যাচ্ছে ডিপ্লোমা ও মিডওয়াইফারি কোর্স। এর ফলে কাপাসিয়া বাসীর আরো একটি স্বপ্ন পূরণ হবে।
মানুষ সবচেয়ে বড় অসহায় হয়ে পড়ে যখন সে অসুস্থ হয় আর যদি চিকিৎসার আর্থিক সঙ্গতি না থাকে আর তখন তা মরার উপর খরার ঘাঁ। সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল নয় তাদের কেউ অসুস্থ হলেই একমাত্র ভরসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তাই রোগীর ভীড় সামলাতে ডাক্তার ও নার্সদের হিমসিম খেতে হয়। এই সমস্ত সাধারণ মানুষের স্বপ্ন হলো বিএসসি নার্সিং কলেজ চালু হলে বর্তমানে কর্মরত নার্সদের পাশাপাশি শিক্ষানবিশ নার্সদের মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাড়তি সেবা পাবেন তারা। সেই সাথে ডিপ্লোমা ও মিডওয়াইফারি চালুর খবর পাওয়ায় খুশি কাপাসিয়াবাসী। খুব দ্রুত এর বাস্তবায়ন চায় এলাকাবাসী।
কলেজটি নিমার্ণ করতে ব্যয় হয়েছে ২২ কোটি ৩৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা। নিমার্ণ কাজটি গত ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবন, ২ তলা হোষ্টেল বিল্ডিং, ২ তলা গ্যারেজ কাম ড্রাইভার কোয়াটার এবং একটি সাবষ্টেশনের কাজ সম্পন্ন করা হয়। কলেজটিকে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের সহধর্মিনী আওয়ামী লীগের দূরদিনের কান্ডারী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের নামে নামকরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি বলেন, কাপাসিয়ায় সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজের বিএসসি নার্সিং/পাবলিক হেলথ নার্সিং (পোষ্ট বেসিক) এর পাশাপাশি ডিপ্লোমা ইন মিডউয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্স চালু হলে উপজেলার স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত হবে। দেশের দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই কলেজ। কলেজের পাশে ৫০ শয্যার হাসপাতালটির গুনগত মান এবং শয্যা সংখ্যা বাড়ানো হবে। বর্তমান সরকার একটা সুখী সমৃদ্ধিশালী সমাজ গড়তে চান। যেখানে মানুষ তার মৌলিক অধিকার গুলো পরিপূর্ণ ভাবে ভোগ করার সুযোগ পাবেন। স্বাস্থ্যসেবা সেই মৌলিক অধিকারের অন্যতম প্রধান উপাদান। কলেজটি চালু হলে তা অনেকাংশে পুরন হবে। এই প্রতিষ্ঠানটি যেমন স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ঘটাবে তেমনি ঘটবে মানব সম্পদেরও উন্নয়ন। বর্তমান সরকার পরিকল্পিত ভাবে মানুষের জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যে কাজ করে যাচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় এই নার্সিং কলেজ। আমাদের সকলের সবিশেষ দৃষ্টি থাকবে এই নার্সিং কলেজের পড়াশোনাসহ সার্বিক দিকের গুনগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে যেনো কোন ঘাটতি না পড়ে সেই দিকে। নার্সিং হলো জনসেবার অন্যতম সুযোগ। এ কারণে এখান থেকে দক্ষ জনশক্তি এবং মানবিক গুন সম্পন্ন শিক্ষার্থী তৈরী হবে সে চেষ্টা আমাদের থাকবে।


কলেজের অধ্যক্ষ মধুসুধন চক্রবর্তী জানায়, ইতিমধ্যে আমরা কলেজের বিএসসি নার্সিং/পাবলিক হেলথ নাসিং (পোষ্ট বেসিক) এর পাশাপাশি ডিপ্লোমা ইন মিডউয়াইফারী এবং ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডউয়াইফারী কোর্স চালু করার চিঠি পেয়েছি। তবে জনবলের অভাব রয়েছে। আশা রাখছি চলতি বছরেই ছাত্রছাত্রীর পদচারণায় মুখরিত হবে কলেজটি।
নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহা পরিচালক তন্দ্রা সিকদার জানান, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন নার্সিং কলেজের বিএসসি নার্সিং/পাবলিক হেলথ নার্সিং (পোষ্ট বেসিক) এর পাশাপাশি ডিপ্লোমা ইন মিডউয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স এন্ড মিডওয়াইফারি কোর্স চালু করা হচ্ছে। এখানে প্রতি বছর বিএসসিতে ১২৫ জন, মিডওয়াইফারিতে ২৫ জন এবং ডিপ্লোমা নার্সিং এ ৫০ জন সর্বমোট ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর পড়াশোনার সুযোগ থাকবে। আমি আশা করি এখান থেকে মান সম্মত দক্ষ নার্স ও মিডওয়াইফ তৈরী হবে। যারা স্বাস্থ্য সেবায় দেশ-বিদেশে অগ্রনী ভুমিকা পালন করবে।
কাপাসিয়া উপজেলা স¦াস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আব্দুস ছালাম সরকার বলেন, নার্সিং কলেজের কার্যক্রম শুরু হলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা, ডাক্তার ও নার্সদের সংখ্যা বাড়বে। আমরা জানতে পেরেছি কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিকে ১০০ শয্যা করনের লক্ষে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। সবকিছু মিলিয়ে নার্সিং কলেজটি চালু হলে কাপাসিয়ার স¦াস্থ্য সেবায় আমুল পরিবর্তন ঘটবে।
প্রাচীন ঢাকা জেলার এই কাপাসিয়া এখন গাজীপুর জেলায় অর্ন্তভূক্ত। যা প্রাচীনকালে এক সময় পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ, শ্রীপুর ও মনোহরদী নিয়ে একটি এলাকা ছিল তার নাম কাপাসিয়া। কাপাসিয়া উপজেলা রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী শীতলক্ষ্যা নদীর দু’তীরে অবস্থিত ১১টি ইউনিয়নের ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে শালবনে ঘেরা ৩৫৭ কি.মি. জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এ উপজেলা।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫