বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
মো. আল আমিন সরকার ও লুৎফুন্নাহার দম্পতির একমাত্র সন্তান আবদুল্লাহ আবতাই আয়াত। স্বামী-স্ত্রী উভয়ই চাকরি করেন। দুই বছরের শিশু আয়াত থাকত গৃহকর্মী শাহিদার (৪৫) কাছে। ছেলের দেখভালের জন্য বাসায় একটি আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ক্যামেরা লাগান তিনি। ক্যামেরার ভিডিও দেখা যেত তার মোবাইলে। সেই ক্যামেরায় অফিসে বসে আল-আমিন দেখেন নিজের ছেলের ওপর গৃহকর্মীর নির্মম নির্যাতনের দৃশ্য।
ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের (১৪ নভেম্বর) ঢাকার শাহজাহানপুরের একটি বাসায়। ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে ভিডিওটি।
এ ঘটনায় শাহজাহানপুর থানায় আল আমিন সরকার একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল আনছারকে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘আয়াতের বাবা-মা দুজনই চাকরি করেন। চাকরির সুবাদে দুজনই বাসার বাইরে থাকায় আয়াত থাকত বাসায় গৃহকর্মী শাহিদার কাছে। তাদের বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা ছিল। আইপি ক্যামেরায় ধারণকৃত ফুটেজ আল আমিন নিজের স্মার্টফোনেই লাইভ দেখতে পারতেন।’
তিনি জানান, গত ১৪ নভেম্বর অফিসে বসে স্মার্টফোনে বাসার লাইভ দেখছিলেন আল আমিন। তখনই নির্যাতনের এই ভয়ংকর দৃশ্য চোখে পড়ে তার। সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে তার বাসার গৃহকর্মী কর্তৃক সন্তানকে নির্যাতনের দৃশ্য। গৃহকর্মী শাহিদা বাথরুম থেকে ঘরের ভেতর ছুড়ে ফেলে দিয়ে ওইটুকু শিশুকে একের পর এক লাথি মারছেন। অতঃপর কান্নারত শিশুকে সেভাবে ফেলে দিয়েই আবারও নিজের কাজে মন দেয় তিনি। অফিসে বসে সন্তানের ওপর এই ভয়াবহ নির্যাতনের দৃশ্য দেখে দ্রুত বাসায় ছুটে আসেন বাবা। গৃহকর্মীর হাত থেকে উদ্ধার করেন নিজের সন্তানকে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় গত ১৫ নভেম্বর শাহজাহানপুর থানায় ‘শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮)’-এ একটি মামলা দায়ের করেন আল আমিন সরকার। এই মামলায় শাহিদাকে গ্রেফতার করা হয়।
