Skip to content

আগে ঝরঝর করে পানি পড়ত, এখন বিমান বদলে গেছে

বাংলাভূমি ডেস্ক ॥
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজগুলোর আগের অবস্থা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগে বিমান বহরে যে প্লেনগুলো ছিল, একেবারে ঝরঝর দশা ছিল, আমি যখন প্লেনে যেতাম, ঝরঝর করে পানি পড়ত। তোয়ালে-টিস্যু দিয়ে তা বন্ধ করতে হতো। আজ সে অবস্থা নেই। এখন আমরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সম্পূর্ণ নতুন ড্রিমলাইনার যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফিতা কেটে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়া পঞ্চম ও ষষ্ঠ ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এ দু’টি উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে বিমান বহরে ড্রিমলাইনারের সংখ্যা দাঁড়াল ৬, আর এয়ারক্র্যাফটের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮। একই অনুষ্ঠানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগে বিমান বহরে যে প্লেনগুলো ছিল, একেবারে ঝরঝর দশা ছিল, আমি যখন প্লেনে যেতাম, ঝরঝর করে পানি পড়ত। তোয়ালে-টিস্যু দিয়ে তা বন্ধ করতে হতো। এন্টারটেইনমেন্টের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না।

বিমানের এই দুর্দশার জন্য ওই সময় সরকার পরিচালনাকারীদের দায়ী করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দোষটা ছিল তাদেরই যারা রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে ছিল। তারা এ দিকে নজর দেয়নি।

‘আজ সে অবস্থা নেই। এখন আমরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সম্পূর্ণ নতুন ‘বোয়িং ৭৮৭ -৯’ সিরিজের পঞ্চম ও ষষ্ঠ ড্রিমলাইনার যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।’

বিমান বহরের উড়োজাহাজগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বিমান কেনা নয়, এটা যেন যথাযথভাবে চলে এবং বিমানের যাত্রীসেবা বাড়ানো যায়, সাথে সাথে রক্ষণাবেক্ষণেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

বিমান ও বিমানবন্দরের বর্তমান অবস্থার সঙ্গে অতীতের তুলনা করে সরকারপ্রধান বলেন, ১৯৯৬ সালের আগে যদি ঢাকা এয়ারপোর্টের কথা কারও স্মরণ থাকে, একটু চিন্তা করে দেখবেন যে সেটা কী ধরনের অতি সাধারণ একটা এয়ারপোর্ট ছিল। বোর্ডিং ব্রিজ বা কোনো কিছুই ছিল না। একটামাত্র সিঁড়ি। গাড়িতে নেমে ওখানে দোতলায় উঠে আবার নিচে নেমে হেঁটে প্লেনে উঠতে হতো।

বিমানবন্দরের সেই অবস্থার উন্নয়নে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত ১০ বছরে নেয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি।

অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে বিমানের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার জন্য তিনটি উড়োজাহাজ আসছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মাবলী সবাইকে মেনে চলারও নির্দেশ দেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করেছি বাংলাদেশের জনগণের জন্য। এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন যেভাবে আমার পিতা চেয়েছিলেন, আমি সেভাবে কাজ করতে চাই। প্রত্যেকটি সেক্টারে আজ উন্নয়ন হচ্ছে। আমরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করেছি। এখন আমরা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে চাই। সারাবিশ্বের পর্যটকরা এসে যেন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য উপভোগ করতে পারে। এত দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর আর কোথাও নেই।

২০০৮ সালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য চুক্তি করে। সে অনুসারে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, দুটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং চারটি বোয়িং ‘৭৮৭ -৯’ ড্রিমলাইনার বিমান বহরে যুক্ত হয়।

গত সেপ্টেম্বরে বিমানের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রায়ত্ত এয়ারলাইন্সটির জন্য আরও দু’টি ড্রিমলাইনার কেনার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় এল ড্রিমলাইনার ‘সোনার তরী’ ও ‘অচিন পাখি’।

১৬ ঘণ্টা টানা উড্ডয়নে সক্ষম জ্বালানি সাশ্রয়ী বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনারে আসন সংখ্যা ২৯৮টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ৩০টি, প্রিমিয়াম ইকোনমি ক্লাস ২১টি এবং ইকোনমি ক্লাস ২৪৭টি।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র আ ম ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ইনামুল বারী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান মফিদুর রহমান, বিমানের এমডি মোকাব্বির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫