Skip to content

সৌদি খেজুর চাষে নতুন সম্ভাবনা: ১৬ প্রজাতির খেজুর চাষে সফল পিরুজালীর বাদল

সাদিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার ॥
গাজীপুরঃ দেশের কৃষিখাতে যুক্ত হচ্ছেন হাজারো শিক্ষিত যুবক, আর উন্মোচন করে চলেছেন নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার। এমনই একজন গাজীপুর জেলার সন্তান নজরুল ইসলাম বাদল । মরুভূমির উত্তপ্ত আবহাওয়ায় উৎপাদিত খেজুরকে এ দেশের নরম কর্দমাক্ত মাটিতে চাষ করে সফলতার নজির স্থাপন করে কৃষিকে দিয়েছেন শিল্পের রুপ। তিনি প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া উন্নত জাতের সৌদি খেজুর চাষের উপযোগী। প্রতিদিনই বাদলের খেজুর সহ বাগান ও নার্সারি পরিদর্শনে আসছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা নতুন উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষ।

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের আলিম পাড়া গ্রামে তার নিজ বসতবাড়ির পাশে ২০১৫ সালে প্রবাসী বন্ধুদের সহযোগিতায় নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন ‘সৌদি ডেট প্লাম ট্রিস ইন বাংলাদেশ’ নামের উন্নত খেজুরের বাগান।

বাংলাভূমিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক শেষ করার পর টেলিকম ব্যবসায় ব্যর্থতার ধাক্কা খেয়ে মনোযোগী হন তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জিল্লুর রহমানের কৃষিকাজে। কৃষিতে নতুন কিছু করার ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে প্রবাসী বন্ধু ও বিভিন্ন মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে তিনটি, দুবাই থেকে ১০টি, ভারত থেকে দুটি ও কুয়েত থেকে দুই বছর বয়সী তিনটি চারা নিয়ে মোট ১৮ টি চাড়া দিয়ে শুরু করেন পরীক্ষামুলক উন্নত জাতের খেজুর চাষ। বাবা ও তার কঠোর পরিশ্রমের ফসল হিসেবে প্রথম অল্প সংখক ফল পেয়েছিলেন ২০১৭ সালে, বিভিন্ন গবেষণায় সফল হন সাকার বা কলম চারা উৎপাদনেও, সেই বছরেই সাকারের থেকে উৎপাদিত চারা বিক্রয় করেছিলেন ৬২ লক্ষ টাকার, আর ফিরে তাকাতে হয়নি, পরের বছরের বাম্পার ফলন আর সফলতার গল্প প্রচার হয় শাইখ সিরাজের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান সহ বিভিন্ন গণ-মাধ্যমে।

চাষের ব্যবস্থাপনা ও চারার মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পানি জমে থাকে না এমন মাটি সবচেয়ে উওম। তার নিজের প্রতিষ্ঠিত ট্রেনিং সেন্টারে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তার প্রতিষ্ঠানে তিন ধরনের চারা বিক্রয় করে থাকেন টিস্যু, কলম বা সাকার ও সরাসরি বীজের চারা। সাকার বা কলমের চারার দাম বয়স ভেদে ৫০ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়, টিস্যু কালচার করা চারা ৮-১০ হাজার টাকা ও বীজের চারা আট’শ থেকে বারো’শ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রয় হয়। এর মাঝে বীজের চারায় ফল আসতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ বছর এবং তুলনামূলক স্বল্প মুল্যে পাওয়া যায়। তবে উন্নত ফলন পেতে হলে টিস্যু বা সাকার চারা নেওয়া উচিত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দরিদ্র কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও এক জোড়া চারাসহ একটি সল্প মুল্যের প্যাকেজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি সারা দেশে ব্যাপকভাবে উন্নত খেজুর চাষের স্বপ্ন দেখেন। সরকারী বা বেসরকারি উদ্যোগ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সারা দেশে ব্যাপকভাবে এই খেজুর চাষ করা গেলে দেশের আভ্যন্তরীণ সম্পুর্ণ চাহিদা নিজেরাই মেটানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আক্তার জানান, দেশের অনেক জেলাতেই কম-বেশি উন্নত মানের খেজুর চাষ হচ্ছে, উপজেলার বাদলের বাগানও আমি দেখেছি, এবারো শুনেছি বাম্পার ফলন হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টার গুলোতে উন্নত মানের খেজুর গাছ গুলোতেও ফল এসেছে। এ বিষয়ে সরকারের বর্তমান কোন নির্দেশনা না থাকলেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা রয়েছে। বানিজ্যিক চাষে শুরুর পুর্বে প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত বলে মনে করি। বিশেষ করে যারা সৌদি আরব প্রবাসী এবং খেজুর বাগানে কাজ করতেন তাদের অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে বেশি উপকারে আসবে। তাছাড়া আমরাও সার্বিক পরামর্শ দেওয়ার জন্য চেষ্টা করব।

সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সাম্প্রতিক সংবাদ

আর্কাইব

প্রধান উপদেষ্টাঃ মোঃ শওকত হোসেন সরকার

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ আব্দুস সালাম

সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ নজরুল ইসলাম আজহার

ঠিকানা : এ/১৩১ (ইকবাল কুটির) হাবিব উল্লাহ স্মরণী, জয়দেবপুর, গাজীপুর-১৭০০।

সেলফোন : ০১৭১৬-৩৩৩০৯৬ ॥ E-mail: banglabhumibd@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত বাংলাভূমি ২০০৯-২০২৫